আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

ঘুষকাণ্ডে চাকরি হারালেন ইসির দুই কর্মকর্তা

স্টাফ রিপোর্টার

ঘুষকাণ্ডে চাকরি হারালেন ইসির দুই কর্মকর্তা
ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সেবা দিতে গিয়ে ঘুষ গ্রহণ ও ঘুষ দাবির প্রমাণ পাওয়ায় নির্বাচন কমিশনের (ইসি) দুই কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত ও অপসারণ করা হয়েছে। জনস্বার্থে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়।

বৃহস্পতিবার ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ স্বাক্ষরিত পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপন থেকে এ তথ্য জানা যায়।

বিজ্ঞাপন

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ফরিদপুরের অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমানকে ‘চাকরি হইতে বরখাস্তকরণ’ এবং কুমিল্লায় দায়িত্ব পালনকালে ঘুষ গ্রহণের ঘটনায় অভিযুক্ত সিনিয়র সহকারী সচিব শুধাংসু কুমার সাহাকে ‘চাকরি হইতে অপসারণ’ করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান এনআইডির জন্ম তারিখ সংশোধনের (১০ বছর হ্রাস) জন্য আবেদনকারীকে শুনানিতে ডেকে প্রথমে ২ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। পরে দর-কষাকষির মাধ্যমে তা ১ লাখ ৭০ হাজার টাকায় নির্ধারণ করা হয়। দাবিকৃত অর্থ না পাওয়ায় তিনি আবেদনটি বাতিল করেন।

অভিযোগের প্রেক্ষিতে আবেদনকারী তার বিরুদ্ধে ঘুষ দাবির অডিও রেকর্ড সংযুক্ত করে অভিযোগ দাখিল করেন। ফরেনসিক পরীক্ষায় রেকর্ডে থাকা কণ্ঠের সঙ্গে মাহফুজুর রহমানের কণ্ঠের মিল পাওয়ায় অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়।

বিভাগীয় তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী তাকে ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে ‘চাকরি হইতে বরখাস্তকরণ’ দণ্ড প্রদান করা হয়।

অন্যদিকে, কুমিল্লায় অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে শুধাংসু কুমার সাহা এনআইডি সেবা দিতে অবৈধ অর্থ গ্রহণের সময় এক গণমাধ্যমকর্মীর ভিডিও ধারণে ধরা পড়েন। পরে ওই ভিডিও প্রকাশ না করার শর্তে তিনি সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমকর্মীকে ২৯ হাজার টাকা উৎকোচ দেন।

এ ঘটনায় তার নিয়ন্ত্রণকারী কর্মকর্তা অভিযোগ উত্থাপন করলে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় এবং সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর বিধি ৩(খ) অনুযায়ী ‘অসদাচরণ’-এর অভিযোগে বিভাগীয় মামলা (নম্বর-০৪/২০২৫) রুজু করা হয়।

বিভাগীয় তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এবং দ্বিতীয় কারণ দর্শানোর জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় বিধিমালা অনুযায়ী তাকে ‘চাকরি হইতে অপসারণ’ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়, যা ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে কার্যকর হয়েছে।

দুই কর্মকর্তার ক্ষেত্রেই সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুসরণ করে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের পরামর্শ গ্রহণ এবং মহামান্য রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন সচিবালয় জানিয়েছে, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এবং জনস্বার্থে এসব আদেশ জারি করা হয়েছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন