শিশুদের উচ্ছ্বাস, প্রিয়জনের সান্নিধ্য আর কর্মব্যস্ততার বাইরে এক দিনের মুক্ত নিঃশ্বাস—সবকিছু মিলিয়ে গতকাল শনিবার অনুষ্ঠিত ‘আমার দেশ ফ্যামিলি ডে–২০২৬’ শুধুই একটি আয়োজন নয়, ছিল সম্পর্কের পুনর্মিলন। শীতের সকালের কুয়াশা ভেদ করে ঢাকার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে রাজধানীর উপকণ্ঠের একটি রিসোর্টে জড়ো হয় ‘আমার দেশ’ পরিবারের সদস্যরা। খেলাধুলা, গান-কবিতা, হাসি-আড্ডা আর র্যাফেল ড্রয়ের আনন্দে দিনটি পরিণত হয় স্মৃতি হয়ে থাকার মতো এক রঙিন উৎসবে।
নবযাত্রার এক বছর পেরোনোর পর প্রথমবারের মতো গতকাল আমার দেশ পরিবার পালন করে ‘ফ্যামিলি ডে’। কেরানীগঞ্জের আটিবাজারের শ্যামল বাংলা রিসোর্টে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে এই আয়োজন। র্যাফেল ড্র, ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক আয়োজনে দিনটি হয়ে ওঠে আনন্দময় ও স্মরণীয়।
দীর্ঘদিনের অফিসকেন্দ্রিক ব্যস্ততার বাইরে সবাই পরিবারসহ একত্রিত হয়েছিল ওই আয়োজনে। এক দিনের জন্য হলেও কর্মব্যস্ততাকে পাশে রেখে প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটানোই ছিল আমার দেশ পরিবারের এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। রিসোর্টে পৌঁছাতেই দৃশ্য বদলে যায়। খোলা আকাশ আর চারপাশে ছড়িয়ে থাকা গ্রামীণ পরিবেশ— মনে হলো যেন ছোট্ট এক গ্রাম্য মেলা বসেছে। সকালে নাশতার পরই ছোটরা দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে। এতে শীর্ষ তিন স্থান অধিকার করে যথাক্রমে আরিশা, শিফাত রহমান ও আবদুল্লাহ আল মামুন। বড় বাচ্চাদের দৌড় প্রতিযোগিতায় শীর্ষস্থানগুলো দখল করে আল জিহাদ, খুবাইব ও অর্পণ দাস।
অপরদিকে মাঠে অনুষ্ঠিত হয় ক্রিকেট টুর্নামেন্ট। আমার দেশ-এর রিপোর্টার্স টিম, মাল্টিমিডিয়া স্টারস, অনলাইন টিম এবং অ্যাডমিন ও কম্পিউটার টিম টাইগার্স এতে অংশ নেয়। স্টাফ রিপোর্টার মাহমুদুল হাসান আশিক, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার লিমন, মাল্টিমিডিয়া বিভাগের ভিডিও এডিটর ফাহাদ জায়দান, মুকুল খান ও নাইফ বিশ্বাসদের একের পর এক বিশাল ছক্কায় দর্শক সারিতে থাকা আমার দেশ পরিবারের সদস্যরা উল্লাসে ফেটে পড়ে। বোলারদের পেস বলের গতি ও স্পিনের ঘূর্ণিতে পাওয়া ডট ব্যাটারদের বিপাকে ফেলে তুলে নেয় উইকেট। এভাবেই ফাইনাল পর্যন্ত চলে উত্তেজনাকর সব ম্যাচ। টুর্নামেন্টে যৌথ চ্যাম্পিয়ন হয় মাল্টিমিডিয়া স্টারস ও অ্যাডমিন ও কম্পিউটার টিম টাইগার্স। প্লেয়ার অব দ্য টুর্নামেন্ট হয়েছেন ফাহাদ জায়দান। ফাইনালে ম্যাচ সেরা হয়েছেন মুকুল খান।
বেলা বাড়তেই রিসোর্টের একপাশে বড়দের হাঁড়িভাঙা খেলার আয়োজন হয়। দর্শকদের হাসি আর শিশুদের হৈ-হুল্লোড়ে পুরো পরিবেশটাই যেন প্রাণ ফিরে পায়। একজন চোখ বাঁধা অবস্থায় হাঁড়ি ভাঙতে গিয়ে বাঁকা হেঁটে সজোরে আঘাত করছেন মাটিতে, আরেকজন গাছের ডালে। কেউ আবার ভুল পথে গিয়ে শরীরের সব শক্তি দিয়ে ভাঙেন লাঠি। মাত্র দুজন হাঁড়ি ভাঙতে সক্ষম হন।
নারীদের জন্য ছিল পিলো পাসিং খেলা। মিউজিক থামার সঙ্গেই যার হাতে রয়ে যায় বালিশ, তার লাজুক হাসি আর সবার করতালি মিলেমিশে তৈরি করে নিখাদ আনন্দের মুহূর্ত। এতে প্রথম স্থান অর্জন করেন ফিচার ইনচার্জ বিউটি আক্তার হাসু, দ্বিতীয় হন স্টাফ রিপোর্টার এমরানা আহমেদ এবং তৃতীয় হন ফয়জুন্নেসা।
দুপুরে খাবারের পর বিকেলের দিকে শুরু হয় সাংস্কৃতিক আয়োজন। ইসরাত জাহান হাসনার কোরআন তেলাওয়াত দিয়ে শুরু হয় আয়োজন। এরপর আমার দেশ-এর স্টাফ আজাদুল ইসলাম আদনান, আল আমিন, ফাহমিদা ফেরদৌস, সোহানুর রহমান সোহান, নাঈমুল ইসলাম সাব্বির, হাফেজা আফিফা বিনতে আলী, সৈয়দ নাসির হোসেন ও অহনাদের গান মুগ্ধ করে আমার দেশ পরিবার সদস্যদের। তানিশা হুদা সারা, জাফিরা জারা, মাহাবুবুর রহমান ইমন, আর্শিয়াদের একক নৃত্য ও মাহাবুবুর রহমান ইমন, ফাতিমা তামান্না অনন্যা ও অর্ণাদের কবিতা স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে মঞ্চ হয়ে ওঠে সবার। কেউ শিল্পী নন, তবুও নিজের মানুষদের সামনে দাঁড়িয়ে গান গাইতে বা কবিতা পড়তে পারার আনন্দটাই ছিল আসল প্রাপ্তি।
দিনের শেষে ছিল র্যাফেল ড্র। কে পাবে ফ্রিজ ও ঢাকা-ব্যাংকক-ঢাকাসহ বিভিন্ন বিমানের টিকিটের আকর্ষণীয় পুরস্কার- এই উত্তেজনা ছিল সবার চোখে-মুখে। র্যাফেল ড্রতে প্রথম পুরস্কার ডিপ ফ্রিজ পান বিশেষ প্রতিনিধি এম এ নোমান, উম্মে সালমা তমা পান ঢাকা–ব্যাংকক–ঢাকা টিকিট, জাকিয়া সুলতানা পান ঢাকা–কাঠমান্ডু–ঢাকা টিকিট।
সিনিয়র রিপোর্টার গাজী শাহনেওয়াজের শিশুকন্যা জুনাইরা বিনতে নেওয়াজ জানায়, আমরা খুব আনন্দের মধ্যে দিনটি কাটিয়েছি। এখানকার পরিবেশ ও প্রকৃতি আমাকে মুগ্ধ করেছে। এখানে হরিণ ও অনেক পাখি আছে, যা আমার বেশি ভালো লেগেছে। খেলায়ও অংশগ্রহণ করেছি। সময়টা আমরা অনেক আনন্দের সঙ্গে কাটিয়েছি।
স্টাফ রিপোর্টার এমরানা আহমেদের শিশুপুত্র আরাফাত রহমান বলে, আমি প্রথমবারে এখানে এলাম। ভালো লেগেছে অনেক। আমি আম্মুর অফিসের আংকেলদের সঙ্গে অনেক মজা করেছি, তারা অনেক আদর করেছেন আমাকে। দোলনায়ও উঠেছি। আর হাঁড়িভাঙা খেলা অনেক মজা লেগেছে আমার।
ফ্যামিলি ডে-২০২৬-এর সব প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফিরোজা মাহমুদ। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন ব্যবস্থাপনা সম্পাদক জাহেদ চৌধুরী। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম আবদুল্লাহ, সহযোগী সম্পাদক আলফাজ আনাম, চিফ রিপোর্টার বাছির জামাল ও বার্তা সম্পাদক ইলিয়াস হোসেন প্রমুখ।
দিন শেষে যখন সাতটি বাস আবার ঢাকার পথে রওনা দিল, কুয়াশার বদলে তখন চারপাশে নেমে এসেছে সন্ধ্যার নরম আলো। ক্লান্ত শরীরের ভেতরেও ছিল একরাশ তৃপ্তি। বাবা-মায়ের কোলে শিশুদের ঘুম, বড়দের চোখে সারাদিনের রঙিন স্মৃতি। সেই স্মৃতিই বলে দিচ্ছিলÑপ্রিয়জনের উপস্থিতি আর শিশুদের হাসিই আমার দেশের ফ্যামিলি ডে-২০২৬কে করে তোলে সত্যিকারের রঙিন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

