ইবতেদায়ি মাদরাসা জাতীয়করণের দাবি, বরাদ্দ না পেলে ধর্মঘট

স্টাফ রিপোর্টার

ইবতেদায়ি মাদরাসা জাতীয়করণের দাবি, বরাদ্দ না পেলে ধর্মঘট
ছবি: সংগৃহীত।

স্বীকৃতিপ্রাপ্ত অনুদানভুক্ত ও অনুদানবিহীন সব স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসাকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ন্যায় জাতীয়করণের দাবিতে আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা শিক্ষক ঐক্যজোট আন্দোলন বাস্তবায়ন কমিটি।

বিজ্ঞাপন

দাবি পূরণে ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ না থাকলে আগামী ১৫ জুন জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান ধর্মঘটসহ কঠোর কর্মসূচি পালনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সংগঠনের নেতারা।

বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা শিক্ষক ঐক্যজোট আন্দোলন বাস্তবায়ন কমিটির ব্যানারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই কর্মসূচির ঘোষণা করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা শিক্ষক ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান কাজী মোখলেছুর রহমান।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ২০২৫ সালের ১৩ অক্টোবর থেকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত অনুদানভুক্ত ও অনুদানবিহীন মাদরাসার শিক্ষকদের প্রাইমারির ন্যায় জাতীয়করণের দাবি নিয়ে আন্দোলন করে। এর প্রেক্ষিতে ৩ নভেম্বর প্রধান উপদেষ্টা অনুদানভুক্ত স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা এমপিওভুক্তি করণের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে আদেশ দেন; যা অদ্যবধি বাস্তবায়ন হয়নি। গত ৮ মার্চ জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন করে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দেয়া হয়। কিন্তু অদ্যাবধি দাবি বাস্তবায়ন হয়নি।

শিক্ষক নেতারা এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে অবিলম্বে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত অনুদানভুক্ত ও অনুদানবিহীন সব স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসাকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ন্যায় জাতীয়করণের জন্য প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান।

সংবাদ সম্মেলনে মো. সামছুল আলম, মোহাম্মদ আল-আমিন, এস এম জয়নাল আবেদীন জিহাদী, নুরুন্নবী আলী, মো. তাজুল ইসলাম ফরাজী ও আহমেদ হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

বক্তরা আরো বলেন, প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলে ১৯৯৪ সালে এক পরিপত্রে প্রাইমারি ও স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসাগুলোকে ৫০০ টাকা ভাতা দেন। সে সময়ে বৈষম্যের শিকার হয়ে ১৮ হাজার মাদরাসার মধ্যে মাত্র এক হাজার ৫১৯টি মাদরাসা ৫০০ টাকা বেতনে অন্তর্ভুক্ত করেন। বাকি মাদরাসাগুলো অনুদান থেকে বঞ্চিত হয়।

লিখিত বক্তব্য আরো বলা হয়, মাদরাসা শিক্ষাকে যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে ১৯৮৪ সালে বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক রেজিস্ট্রেশন দেয়া হয়। বাংলাদেশ ও বিশ্বে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাল মিলাতে এনসিটিবি থেকে প্রকাশিত শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক অনুযায়ী কোরআন সুন্নাহ এবং আরবি ভাষা শিক্ষাদানের পাশাপাশি প্রাথমিক শিক্ষার ন্যায় বাংলা, ইংরেজি, বিজ্ঞান, গণিত, সমাজ ১ম শ্রেণি থেকে ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পাঠদান করে আসছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রাইমারির মতো বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ, ৫ম শ্রেণি থেকে উত্তীর্ণ হওয়ার পর দাখিল মাদরাসায় ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হয়।

২০১৩ সালে ৯ জানুয়ারি বিগত সরকারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ২৬ হাজার ১৯৩টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করেন। কিন্তু বড় দুঃখের বিষয় স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা জাতীয়করণ দূরের কথা একটি ইবতেদায়ি মাদরাসাকেও এমপিওভুক্তির না করে বড় বৈষম্য করেছিলেন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন