আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের নিবন্ধ

এক নতুন যুগের সূচনায় বাংলাদেশ

আমার দেশ অনলাইন

এক নতুন যুগের সূচনায় বাংলাদেশ
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিচ্ছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

গণঅভ্যুত্থানে স্বৈরাচারী হাসিনা সরকারের পতনের প্রায় দুই বছর পর এক ঐতিহাসিক নির্বাচনি রায় দিয়েছে বাংলাদেশ। জনগণ এমন একজনকে নেতা হিসেবে বেছে নিয়েছে, যিনি দেশে রাজনৈতিক পুনর্গঠন এবং আঞ্চলিক ক্ষেত্রে নতুন কৌশল নির্ধারণের অঙ্গীকার নিয়ে এসেছেন।

বিজ্ঞাপন

সাম্প্রতিক ইতিহাসের সবচেয়ে রাজনৈতিকভাবে অস্থির সময়গুলো পেরিয়ে তারেক রহমান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-কে একটি ভূমিধস বিজয়ের নেতৃত্ব দিয়েছেন। ২০২৪ সালে বিক্ষোভকারীদের ওপর নির্মম দমনপীড়নের পর হাসিনা সরকারের পতনের মাধ্যমে আন্দোলন চূড়ান্ত রূপ নেয়। ওই দমনপীড়নে প্রায় ১৪০০ মানুষ নিহত হন, যা জনরোষকে সংগঠিত বিরোধী আন্দোলনে রূপ দেয়।

বাংলাদেশের দীর্ঘ সময়ের প্রধানমন্ত্রী হাসিনা পালিয়ে দেশ ছেড়ে যাওয়ার পর দিল্লিতে আশ্রয় নিয়েছেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তার অনুপস্থিতিতে বিচার শেষে তাকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করেছে। তবে এই রায় একটি নতুন কূটনৈতিক টানাপোড়েন সৃষ্টি করে। অন্তর্বর্তী সরকারের অনুরোধ সত্ত্বেও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার তাকে প্রত্যর্পণ করতে অস্বীকৃতি জানায়, যা দুই দেশের নাজুক সম্পর্ককে আরো জটিল করে তোলে।

নয়াদিল্লির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা

এই নির্বাচনের ফলাফলকে অনেক বিশ্লেষক হাসিনার শাসনামলে বছরের পর বছর দমনপীড়নের বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থানের প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন। একই সঙ্গে এটি হাসিনা সরকারের প্রতি নয়াদিল্লির দীর্ঘমেয়াদি অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক নীতির সমর্থনের তীব্র সমালোচনাও করে।

ক্ষমতায় থাকাকালে হাসিনা অনেকটা স্থিতিশীল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখলেও রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণে হস্তক্ষেপ করছিলেন। বিরোধী নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার, গুম এবং বিচারবহির্ভূত হত্যার অভিযোগ ছিল নিয়মিত। আঞ্চলিক কূটনীতিতে তার সরকার যে ভারতের দিকে প্রবলভাবে ঝুঁকে পড়ে ছিল, এটি তার ১৫ বছরের শাসনামলে নয়াদিল্লিতে সাতবার দ্বিপাক্ষিক সফরের মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়। সমালোচকদের মতে, এই কূটনৈতিক ছন্দ এমন এক পররাষ্ট্রনীতির প্রতীক হয়ে ওঠে, যেখানে ভারতের নিরাপত্তা ও অন্যান্য আঞ্চলিক স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেয়া হয়, অথচ বাংলাদেশের সঙ্গে মূল দ্বিপাক্ষিক বিরোধগুলো অমীমাংসিতই রয়ে যায় ।

সময়ের সাথে সাথে, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি মোদী সরকারের সাথে বাস্তবসম্মত সম্পর্কের বাইরে চলে আসে এবং এমন এক রাজনৈতিক সমন্বয়ে গিয়ে দাঁড়ায়, যা দেশের অনেকের কাছেই অতিরিক্ত বলে মনে হয়। এই সম্পর্ক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক সুযোগ সৃষ্টি করেছিল, তবে একই সঙ্গে এমন একটি ধারণা—এবং অনেক ক্ষেত্রে বাস্তবতাও—তৈরি করেছিল যে সরকার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ঐকমত্যের চেয়েও নয়াদিল্লির কৌশলগত অগ্রাধিকারকে প্রাধান্য দিতে প্রস্তুত।

স্বাধীন পর্যবেক্ষকদের মতে, সবচেয়ে বেশি আলোচিত উদাহরণ ছিল দুই দেশের মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতা। হাসিনার প্রশাসন বাংলাদেশে সক্রিয় ভারতীয় বিদ্রোহী নেটওয়ার্কগুলো ভেঙে দেয় এবং দেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন মাত্রায় গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়। এর ফলে তিনি নয়াদিল্লির শক্ত সমর্থন অর্জন করেন, তবে দেশে এ বিষয়ে প্রায় কোনো জনসম্মুখ বিতর্ক হয়নি। এতে এই ধারণা আরো জোরদার হয় যে গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় নিরাপত্তা সিদ্ধান্তগুলো সংসদীয় পর্যালোচনার বদলে ভারতের স্বাচ্ছন্দ্য বিবেচনায় নিয়েই নির্ধারিত হচ্ছিল।

যোগাযোগের ক্ষেত্রে, ভারসাম্যহীনতা ছিল আরো স্পষ্ট। ট্রানজিট এবং ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধাগুলি ভারতকে বাংলাদেশী ভূখণ্ডের মাধ্যমে তার উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলিতে প্রবেশাধিকার দিয়েছে। আর এটি ছিল ভারতের দীর্ঘদিনের লক্ষ্য, অন্যদিকে ঢাকা ভারতের একই রকম চলাচল নিশ্চিত করতে লড়াই করেছিল। বারবার আশ্বাস দেওয়া সত্ত্বেও তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি অমীমাংসিত ছিল এবং ভারতীয় বাহিনীর দ্বারা সীমান্ত হত্যাকাণ্ড অব্যাহত ছিল, যার ফলে দৃশ্যমান কূটনৈতিক ব্যয় খুব কম ছিল। দেশে, সমালোচকরা যুক্তি দিয়েছিলেন যে ছাড়গুলি এক দিকে প্রবাহিত হয়েছিল, যখন পারস্পরিক বিনিময় অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়েছিল।

কূটনৈতিক ক্ষেত্রে সংবেদনশীল আঞ্চলিক ইস্যুতে ভারতকে প্রকাশ্যে বিরোধিতা না করতে হাসিনার সরকার সতর্ক ছিল। বহুপাক্ষিক ফোরাম হোক বা দ্বিপাক্ষিক বিরোধ—বিশেষজ্ঞদের মতে, ঢাকার ভাষা ও অবস্থান ছিল এতটাই সংযত যে অনেক সময় তা নীরবতার পর্যায়ে পৌঁছাত। সমর্থকদের কাছে এটি ছিল শৃঙ্খলাবদ্ধ রাষ্ট্রকৌশল, কিন্তু বিরোধীদের দৃষ্টিতে তা ছিল মোদি সরকারকে সন্তুষ্ট রাখার উদ্দেশ্যে আত্মনিয়ন্ত্রণ বা আত্ম-নিয়ন্ত্রণমূলক নীরবতা।

মোদি সরকারকে তখন হাসিনার শাসনের রাজনৈতিক গ্যারান্টর হিসেবে দেখা হচ্ছিল। ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দিল্লিতে তার নির্বাসন সেই বর্ণনাকে আরো বিশ্বাসযোগ্য করে তোলে। তাকে প্রত্যর্পণ করতে মোদি সরকারের অস্বীকৃতি এই ধারণাকে আরো জোরালো করে যে সম্পর্কটি ব্যক্তিকেন্দ্রিক হয়ে উঠেছিল এবং এমন রাজনৈতিক সমর্থনের ওপর দাঁড়িয়েছিল, যা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও টিকে ছিল। সমালোচকদের মতে, এটি দুই নেতৃত্বের মধ্যে এমন এক রাজনৈতিক বিনিয়োগের গভীরতার ইঙ্গিত দেয়, যা প্রচলিত প্রতিবেশী সম্পর্কের সীমা ছাড়িয়ে যায়।

তবে এ সবকিছুই এই সত্যকে অস্বীকার করে না যে হাসিনা চীন, জাপান, উপসাগরীয় দেশসমূহ এবং পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে কার্যকর সম্পর্ক বজায় রেখেছিলেন। কিন্তু সেসব সম্পর্ক ছিল প্রধানত অর্থনৈতিক ও লেনদেনভিত্তিক। তার পররাষ্ট্রনীতির রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা-ভিত্তিক কেন্দ্রবিন্দু ছিল ভারত, এবং এই অসমতাই এখন দেশের অভ্যন্তরীণ সমালোচনার মূল বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

চূড়ান্ত বিশ্লেষণে বিশেষজ্ঞদের মতে, নয়াদিল্লির সঙ্গে এত ঘনিষ্ঠভাবে সম্পৃক্ত হয়ে সাবেক বাংলাদেশি নেতা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তার সরকারকে সুরক্ষিত রাখলেও দেশের ভেতরে নিজেকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছিলেন—এমন এক সমঝোতা, যা এখন দেশের পররাষ্ট্রনীতি পুনর্বিন্যাসের বিতর্কের কেন্দ্রে অবস্থান করছে।

অত্যাবশ্যক পুনর্গঠন

বিএনপি ক্ষমতায় ফেরার পর তারেক রহমান তিন দশকের মধ্যে বাংলাদেশের প্রথম পুরুষ প্রধানমন্ত্রী ভারত ও পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক ব্যবস্থাপনায় কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়েছেন। সম্প্রতি এক সমাবেশে তিনি বলেন: ‘দিল্লি নয়, পিন্ডি নয় -সবার আগে বাংলাদেশ।’ তবে হাসিনার বিদায়ের পর অন্তর্বর্তী সরকার দ্রুত ইসলামাবাদের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করে। ১৪ বছর পর করাচিতে সরাসরি ফ্লাইট চালু হয়। ১৩ বছর পর পাকিস্তানি মন্ত্রীরা সফরে আসেন। সামরিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতা পুনরায় শুরু হয় এবং হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির পর ২৭% বাণিজ্য বৃদ্ধি।

বিশ্লেষক স্মৃতি পট্টনায়ক (দিল্লিভিত্তিক ইনস্টিটিউট ফর ডিফেন্স স্টাডিজ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস) বিবিসিকে বলেন, হাসিনার আমলে ইসলামাবাদের সঙ্গে সম্পৃক্ততা প্রায় অনুপস্থিত ছিল। দোলক ভারতের দিকে অতিরিক্ত ঝুঁকেছিল, এখন বিপরীত দিকে বেশি ঝুঁকে পড়ার ঝুঁকি আছে। তারেক রহমান ইতোমধ্যে দিল্লি ও ইসলামাবাদ উভয় রাজধানী থেকেই শুভেচ্ছা বার্তা পেয়েছেন।

আদালত হাসিনাকে দণ্ডিত করার পরও বাংলাদেশে ভারতবিরোধী মনোভাব গভীরভাবে বিদ্যমান। বছরের পর বছর ধরে কথিত হস্তক্ষেপ এবং নয়াদিল্লির ওপর তার প্রকাশ্য নির্ভরতা অনেকের কাছে ভারতকে বাহ্যিক প্রভাব বা নিয়ন্ত্রণের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেছে। সেই ক্ষোভ এখনও রাজপথে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিতর্কে এবং রাজনৈতিক সমাবেশে প্রকাশ পায়—যা প্রায়ই শাসনব্যবস্থা ও বৈষম্য নিয়ে বিস্তৃত হতাশার সঙ্গে জড়িত।

একই সঙ্গে চিত্রটি একমাত্রিক নয়। কিছু তরুণ ও কট্টরপন্থিগোষ্ঠী শক্তিশালী ভারতবিরোধী বক্তব্য সামনে আনে, তবে জনগণের বড় একটি অংশ সম্পর্ককে বাস্তববাদী দৃষ্টিতে দেখে—বাণিজ্য, জ্বালানি এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন থেকে। রহমানের জন্য চ্যালেঞ্জ হবে এই সূক্ষ্ম ভারসাম্য রক্ষা করা—স্বাধীন অবস্থান জোরদার করা, কিন্তু অপরিহার্য সহযোগিতা বন্ধ না করা।

সব মিলিয়ে, এখন নতুন বাংলাদেশ সরকারের জন্য প্রতিটি করমর্দন, প্রতিটি ফোনালাপ, প্রতিটি বাণিজ্যচুক্তিই তাৎপর্যপূর্ণ। খুব বেশি ঘনিষ্ঠ হলে সমালোচকেরা আত্মসমর্পণের অভিযোগ তুলবে; আবার অতিরিক্ত কঠোর অবস্থান নিলে গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ফলে ভারতবিরোধী মনোভাব নতুন নেতৃত্বের জন্য যেমন একটি সতর্কবার্তা, তেমনি একটি সীমাবদ্ধতাও। রহমান কীভাবে এই বাস্তবতা মোকাবিলা করেন, তা শুধু দেশের ভেতরে তার বিশ্বাসযোগ্যতাই নয়, বরং আগামী বহু বছর ধরে অঞ্চলে বাংলাদেশের অবস্থানও নির্ধারণ করবে।

পুরোনো ধারণা ও আগামীর পথ

পর্যবেক্ষকদের মতে, বাংলাদেশের এই রাজনৈতিক রায় অঞ্চলটিকে পুরোনো ধারণাগুলো নতুন করে ভাবার সুযোগ করে দিয়েছে। আল জাজিরাকে এক বিশেষজ্ঞ জানান, দক্ষিণ এশিয়াকে আর কোনো একক শক্তির প্রভাবক্ষেত্র হিসেবে দেখা যাবে না, এবং ঢাকার নতুন পররাষ্ট্রনীতিকে সেই বাস্তবতা স্বীকার করতেই হবে। তবে তিনি বলেন, এই পরিবর্তন রাতারাতি ঘটবে না; এ ধরনের রূপান্তর সাধারণত ধীরে ধীরে ঘটে, যা অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও আঞ্চলিক চাপের দ্বারা প্রভাবিত হয়।

বছরের পর বছর ধরে পর্যবেক্ষকরা সতর্ক করে আসছেন যে ঢাকাকে সতর্ক পুনর্বিন্যাসের পথে হাঁটতে হবে। দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশ খুব সম্ভবত ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখবে, তবে একই সঙ্গে চীনের প্রতি আরো ভারসাম্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি অনুসন্ধান করবে—সম্পর্কগুলো যাচাই করবে এবং নিজস্ব স্বার্থকে জোরালোভাবে উপস্থাপন করবে। পাশাপাশি, ঢাকা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পৃক্ততা জোরদার করতে এবং ইসলামাবাদের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার দিকেও নজর দিতে পারে—যা হাসিনা আমলে পুরোপুরি নয়াদিল্লির দিকে ঝুঁকে পড়া নীতির থেকে সরে আসবে।

এই পরিবর্তনের গুরুত্ব নাটকীয় রূপান্তরে নয়, বরং সেই বার্তায় নিহিত যে বাংলাদেশ স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে প্রস্তুত। একইভাবে নিজস্ব শর্তে অংশীদারিত্ব মূল্যায়ন করতে চায় যেখানে তার পররাষ্ট্রনীতি পুরোনো জোট ও ধারণার দ্বারা নির্ধারিত হবে না। দিল্লির ওপর অতিনির্ভরতার ধারণার পর, নতুন নেতৃত্বের সামনে সুযোগ রয়েছে দেখানোর যে সিদ্ধান্তগুলো আগে জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতেই নেওয়া হবে, বাইরের প্রত্যাশার ভিত্তিতে নয়।

দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের প্রদিবেদনের চূড়ান্ত বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির কাজ হবে সতর্কভাবে ভারসাম্য রক্ষা করা—বিকল্প সম্প্রসারণ করা, একক কোনো অংশীদারের ওপর নির্ভরশীলতা এড়ানো এবং এই বার্তা দেওয়া যে ঢাকার কণ্ঠস্বর গুরুত্বপূর্ণ।

কার্যত, নবনির্বাচিত নেতার অধীনে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় আরো আত্মবিশ্বাসী ও দৃঢ় অবস্থানের এক খেলোয়াড় হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে—প্রধান শক্তি ও আঞ্চলিক পক্ষগুলোর মধ্যে নীরবে ভারসাম্য রক্ষা করবে, পুরোনো সম্পর্কগুলো পুনর্মূল্যায়ন করবে এবং এই সংকেত দেবে যে দেশটিকে আর অবহেলা করার সুযোগ নেই, যেমনটি হাসিনার চার মেয়াদের শাসনামলে ভারতের পক্ষ থেকে অনেকাংশে করা হয়েছিল বলে সমালোচকরা মনে করেন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন