এমপি সালাহ উদ্দিন

মেগা প্রকল্পের মাধ্যমে শুরু হয়েছে মেগা দুর্নীতি

স্টাফ রিপোর্টার

মেগা প্রকল্পের মাধ্যমে শুরু হয়েছে মেগা দুর্নীতি

দেশে মেগা প্রকল্পের মাধ্যমে মেগা দুর্নীতি শুরু হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন গাজীপুর-৪ আসনের বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য সালাহ উদ্দিন। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনা করতে গিয়ে তিনি এ কথা কলেন।

তিনি আরো বলেন, স্কুল ফিডিং প্রোগ্রাম থেকে ডিম, রুটি ও কলা বাবদ প্রতি সপ্তাহে ১৭ কোটি টাকা লুটপাট করা হচ্ছে। খাল খনন কর্মসূচিতে প্রতিদিন নতুন নতুন দুর্নীতির খবর আসছে।

বিজ্ঞাপন

জামায়াতের এই এমপি বলেন, দুর্নীতি এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে ক্যালকুলেটরে হিসাব করে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত ঘুষ নেওয়া হচ্ছে। এমনকি দুর্নীতিকে প্রমোট করার জন্য সারোয়ার আলমের মতো একজন সৎ ও ক্লিন ইমেজের ডিসিকে সিলেট থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত বাজেট প্রসঙ্গে সালাহ উদ্দিন বলেন, ‘অর্থমন্ত্রী যে বাজেট প্রস্তাব করেছেন, তাকে তিনি একে জীবনের গল্প বললেও আসলে এটি একটি ‘আষাঢ়ের গল্প’। প্রায় পৌনে তিন লক্ষ কোটি টাকার এই ঋণ নির্ভর বাজেট দেখে আমি অবাক হইনি, কারণ যারা নিজেরা ঋণগ্রস্ত ও ঋণখেলাপি, তারা তো ঋণনির্ভর বাজেটই দেবেন।’

তিনি বলেন, বাজেট পেশ করার আগেই ১৪টি নিত্যপণ্যসহ অধিকাংশ পণ্যের দাম বাড়ানো হয়েছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি তেল এবং এলপিজি গ্যাসের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে, যা পরিবহন ভাড়ার ক্ষেত্রেও ইতিহাসের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। এই বাজেটে এমএস রড, ইস্পাত, টিন, সাবান ও শ্যাম্পুর কাঁচামালের ওপর ভ্যাট ও কর বাড়ানো হয়েছে।

তিনি বলেন, এটি কেবল ‘গরিব মারার’ বাজেট নয়, বরং খুচরা ব্যবসায়ীদের জন্য ০.২ শতাংশ অগ্রিম কর আরোপের মাধ্যমে একটি হয়রানির বাজেট।

সালাহ উদ্দিন বলেন, এই কর-ব্যবস্থা আমাদের ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শোষণের কথা মনে করিয়ে দেয়, যখন তাদের ট্যাক্স আদায়ের ভয়ে মানুষ গ্রাম ছেড়ে জঙ্গলে পালাত। তিনি বলেন, বাজেটে কৃষি ও পল্লি উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ ৫৩ হাজার কোটি টাকায় নামিয়ে আনা হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় অনেক কম। কৃষি খাতে ভর্তুকি এবং বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতেও বরাদ্দ কমানো হয়েছে। গ্রামীণ রক্ষণাবেক্ষণ খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে মাত্র ৪০০ কোটি টাকা।

এমপি সালাহ উদ্দিন বলেন, ইসলামের বিধান হলো ধনীদের থেকে সম্পদ নিয়ে গরিবদের মধ্যে বিলিয়ে দেওয়া, কিন্তু এই সরকার উল্টো নীতি গ্রহণ করে গরিব ও খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে সম্পদ নিয়ে ধনীদের জন্য বরাদ্দ রাখছে।

মাননীয় স্পিকার, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) বরাদ্দ কমিয়ে এবং এনবিআরের মতিউর ও আনোয়ারের মতো দুর্নীতিবাজদের আশ্রয় দিয়ে দুর্নীতিকে উৎসাহিত করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, এনবিআরের দুর্নীতি যদি বন্ধ করা যেত, তাহলে বাংলাদেশে বাজেটের জন্য আলাদা ঋণের দরকার হতো না।

এই বাজেট জুলাইকে ধারণ করেনি মন্তব্য করে তিনি বলেন, এই বাজেট গুম হওয়া পরিবারের কান্নার খবর রাখেনি এবং গুম কমিশনের জন্য কোনো অর্থ বরাদ্দ দেয়নি।

তিনি বলেন, বাজেট বড় হলেই চলবে না; ঋণ নিয়ে বড় বাজেট না করে সুশাসন ও ইনসাফ ভিত্তিক অর্থনীতির মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।

তিনি নিজের এলাকা কাপাসিয়ার জন্য আধুনিক হিমাগার, মাদক ও কিশোর গ্যাং-বিরোধী বিশেষ অভিযান এবং রাজেন্দ্রপুর থেকে কাপাসিয়া হয়ে টোক পর্যন্ত হাইওয়ে রাস্তা চার লেনে উন্নীত করার জন্য বিশেষ বরাদ্দ দাবি করেন।

আরএ

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন