মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশের যোগদান নিয়ে কোন দেশের কী প্রতিক্রিয়া

মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশের যোগদান নিয়ে কোন দেশের কী প্রতিক্রিয়া

মক্কা চুক্তি বর্তমান সময়ে বহুল আলোচিত। চলতি বছরের ৭ আগস্ট সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান মক্কা জয়েন্ট ডিফেন্স অ্যাগ্রিমেন্ট বা ‘মক্কা চুক্তি’ স্বাক্ষর করে। চুক্তিটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নীতি হলো—তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র আক্রমণকে সবার ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য করা হবে। এই ভাষা স্বাভাবিকভাবেই ন্যাটোর আর্টিকেল ৫-এর কথা মনে করিয়ে দেয়। সে কারণেই ইতোমধ্যে কেউ কেউ একে ‘মুসলিম ন্যাটো’ বা ‘ইসলামিক ন্যাটো’ হিসেবে অভিহিত করছেন।

বিজ্ঞাপন

এই মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশের যোগ দেওয়া বা না দেওয়া নিয়ে বিভিন্ন দেশ কথা বলেছে।

পাকিস্তান

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সাজ্জাদ হায়দার খান পরিষ্কার করেছেন, মক্কা প্রতিরক্ষা জোটে আপাতত নতুন কোনো দেশকে (যেমন বাংলাদেশ) যুক্ত করার কোনো পরিকল্পনা নেই। জোটের মূল কমান্ড কাঠামো পুরোপুরি শক্তিশালী না হওয়া পর্যন্ত এটি তিন দেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে।

ইরান

তেহরান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, মক্কা চুক্তি বা এই আঞ্চলিক সামরিক সমন্বয় ইরানের সরাসরি স্বার্থের পরিপন্থী নয়। চুক্তির পরিধি এবং এতে বাংলাদেশের যোগ দেওয়া বা না দেওয়া নিয়ে তেহরানের কোনো আপত্তি বা উদ্বেগ নেই।

ভারত

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের বিশ্লেষণী প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ ভৌগোলিকভাবে ভারতের ‘চিকেনস নেক’ ও পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর সন্নিকটে থাকায়, ঢাকা যদি পাকিস্তান-তুরস্ক-সৌদি বলয়ের এই সামরিক জোটে যোগ দেয়, তবে তা ভারতের জন্য দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত ও নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করবে।

এদিকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, মক্কা প্রতিরক্ষা জোটে যোগ দেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত জোটের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পায়নি এবং বাংলাদেশও এ নিয়ে কোনো আলোচনা শুরু করেনি। তবে অন্য এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি উল্লেখ করেছিলেন যে ভবিষ্যতে কৌশলগত স্বার্থে এমন জোটে যুক্ত হওয়া অবাস্তব বা অস্বাভাবিক কিছু নয়।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন