মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ দীর্ঘ হলে আরব আমিরাতে বসবাসকারী ২০ লাখ বাংলাদেশির জীবন-জীবিকা ঝুঁকিতে পড়ার শঙ্কার কথা জানিয়েছে রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিট (রামরু)।
বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘ইরান ও উপসাগরীয় অঞ্চলের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি: বাংলাদেশি অভিবাসী কর্মীদের ওপর প্রভাব ও করণীয়’ নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ শঙ্কা প্রকাশ করে সংস্থাটি।
এ সময় গণমাধ্যমের কাছে প্রতিবেদন তুলে ধরেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ও রামরুর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ার ড. তাসনিম সিদ্দিকী।
রামরু’র প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধ চলতে থাকলে উপসাগরীয় শ্রমবাজারে ব্যাপক অনিশ্চয়তা দেখা দেবে। এ সংঘাত উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে ব্যবসায় ব্যাপক বিঘ্ন ঘটিয়েছে। এছাড়া বিনিয়োগকারীদের আস্থার পতন, ব্যয় বৃদ্ধি বা সরাসরি অবকাঠামোগত ক্ষতির কারণে এ প্রকল্পগুলো ব্যাহত হলে প্রত্যাশিত কর্মসংস্থানের সুযোগগুলো বিলুপ্ত হয়ে যাবে।
রামরু জানায়, চলাচলে ব্যাঘাত ঘটায় খোদ অভিবাসন কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়ার মধ্যেই একটি দ্বিতীয় সংকট সৃষ্টি হয়েছে। কর্মী নিয়োগে বিলম্ব বা বাতিলের ক্ষেত্রে নিয়োগ খরচ পরিশোধ নিয়ে এজেন্ট এবং সম্ভাব্য অভিবাসী কর্মীদের মধ্যে বিরোধ দেখা দিচ্ছে। সংঘাত অব্যাহত থাকলে এ প্রবণতা আরও তীব্র হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে সরকারের কিছু ঘাটতির কথা তুলে ধরা হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, সংঘাত-সম্পর্কিত আঘাত, চাকরি হারানো বা জোরপূর্বক প্রত্যাবর্তনের জন্য কোনও নির্দিষ্ট সংকট প্রতিক্রিয়া তহবিল নেই। বাতিল হওয়া যাত্রা, আটকে পড়া অভিবাসী বা প্রত্যাবর্তনের প্রবাহের জন্য কোনও রিয়েল টাইম পর্যবেক্ষন ড্যাশবোর্ড নেই।
প্রতিবেদন উপস্থাপন শেষে ড. তাসনিম সিদ্দিকী বলেন, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অনেকেই নিরাপত্তাজনিত কারণে কিছু অঞ্চলে কার্যক্রম সীমিত করে অন্য দেশে, বিশেষ করে তুরস্কে, ব্যবসা স্থানান্তর করছে। এর ফলে শ্রমবাজারেও দীর্ঘমেয়াদী পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে।
তিনি বলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতি শুধু তাৎক্ষণিক সংকট নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদে বৈশ্বিক শ্রমবাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে। তাই নতুন শ্রমবাজার খোঁজা, দক্ষতা উন্নয়ন, ভাষা শিক্ষা এবং শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়নের ওপর জোর দেওয়া প্রয়োজন।
এএস
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

