বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের অধীন সব সেতুতে ক্যাশলেস, দ্রুত ও স্বচ্ছ টোল আদায়ের ব্যবস্থা চালু করাসহ বেশ কিছু সুপারিশ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের সম্মেলন কক্ষে ‘মানব সম্পদ উন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধি’ প্রকল্পের আওতায় উপস্থাপিত তিনটি গবেষণাপত্রে এ সুপারিশ করা হয়।
পদ্মা সেতুতে পূর্ণাঙ্গ ইলেকট্রনিক টোল সংগ্রহ (ইটিসি) ব্যবস্থা চালু, জরুরি যোগাযোগ প্রোটোকল ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ে টোল আদায়ের সম্ভাবনা নিয়ে গবেষণা করা হয়েছে। গবেষণাপত্র তিনটিতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ উঠে এসেছে। সেগুলো বাস্তবায়িত হলে দেশের সেতুগুলোতে টোল দিতে গিয়ে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার প্রহর কমবে, বাড়বে যান চলাচলের গতি।
বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মিজ মালিহা তাবাসসুম মুখ্য গবেষক হিসেবে গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করেন। তার গবেষণায় জরুরি অবস্থা ও যানজট মোকাবিলায় কার্যকর যোগাযোগ প্রোটোকল তৈরির পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি সেতুতে একজন করে ডেডিকেটেড কমিউনিকেশন অফিসার নিয়োগ, বিবিএর ওয়েবসাইটে লাইভ ট্রাফিক ট্যাব যুক্ত করা এবং ইটিসি রেজিস্ট্রেশনের ধাপ পাঁচ থেকে কমিয়ে দুই করার সুপারিশ রয়েছে। পাশাপাশি অনলাইনে রেজিস্ট্রেশনের ব্যবস্থা করার কথাও বলা হয়েছে।
দ্বিতীয় গবেষণায় পদ্মা সেতুতে পূর্ণাঙ্গ ইলেকট্রনিক টোল ব্যবস্থা চালুতে ব্যবহারকারী ও সংশ্লিষ্টদের মতামত তুলে ধরা হয়েছে। এতে বিআরটিএ, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস ও বিবিএর মধ্যে সমন্বিত ডেটা শেয়ারিং সিস্টেম গড়ে তোলার সুপারিশ করা হয়েছে। ইটিসি ব্যবহারের সুবিধা নিয়ে ব্যাপক প্রচারণা চালানো, অপারেটরদের প্রশিক্ষণ ও আরএফআইডি রিডারের নির্ভুলতা নিশ্চিত করার কথাও বলেছেন গবেষক।
তৃতীয় গবেষণায় (সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালকের একান্ত সচিব মুশফিকুর রহমান) মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টোল আদায়ের বর্তমান চিত্র ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়েছে। এতে এমএফএস ওয়ালেটের সঙ্গে ইটিসি সিস্টেমের সরাসরি সংযোগ রেখে রিয়েল-টাইম ব্যালেন্স চেক ও পেমেন্ট নিশ্চিত করার সুপারিশ করা হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হিসেবে ‘মাল্টি-লেন ফ্রি ফ্লো’ ব্যবস্থা চালুর কথাও বলা হয়েছে—যেখানে গাড়ি না থামিয়ে চলন্ত অবস্থায় সেন্সরের মাধ্যমে টোল আদায় হবে।
সভাপতির বক্তব্যে সেতু সচিব আবদুর রউফ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর স্বনির্ভর বাংলাদেশ বিনির্মাণের অংশ হিসেবে আমরা দেশের সব সেতুতে দ্রুততম সময়ে ক্যাশলেস ও স্বয়ংক্রিয় টোল ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। গবেষণার সুপারিশগুলো যাচাই-বাছাই করে শিগগিরই মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। সাধারণ মানুষ কোনো প্রকার বিরতি ছাড়াই স্বাচ্ছন্দ্যে টোল প্রদান করে পারাপার হতে পারবেন।
সভায় সেতু বিভাগ ও সেতু কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সাইট অফিসের কর্মকর্তারা অনলাইনে যুক্ত ছিলেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

