আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে উন্নয়ন ভাবনাকে বাস্তব কর্মপরিকল্পনায় রূপ দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম। নীতি ঘোষণার বাইরে গিয়ে কার্যকর প্রয়োগ, নজরদারি এবং জবাবদিহির মাধ্যমে অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র গঠনের আহ্বান জানিয়ে আগামী সরকারের জন্য ১০ দফা জাতীয় কর্মসূচি প্রস্তাব করেন বক্তারা।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর লেকশোর হোটেলে আয়োজিত ‘জাতীয় নির্বাচন ২০২৬: আগামী সরকারের জন্য নাগরিক সুপারিশ’ শীর্ষক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে এসব বিষয় তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিটিজেন প্ল্যাটফর্ম ফর এসডিজি বাংলাদেশের আহ্বায়ক ও সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। আলোচনায় অংশ নেন নাগরিক প্ল্যাটফরমের কোর গ্রুপ সদস্য ও সিপিডি বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য সুলতানা কামাল, গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম, নিউ এইজ গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের ভাইস চেয়ারম্যান আসিফ ইব্রাহিম, সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান এবং সিপিডির অতিরিক্ত পরিচালক (গবেষণা) তৌফিকুল ইসলাম খান। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ব্র্যাকের সাবেক ডেপুটি চেয়ারপারসন ড. মুশতাক রাজা চৌধুরী ও শাহীন আনাম।
ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, অতীত অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে যে উন্নয়নের আকাঙ্ক্ষা কিংবা নীতিগত বক্তব্য থাকলেই কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসে না। কাঠামো, মূল্যবোধ অথবা নীতিমালার পাশাপাশি নির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা ও বাস্তবায়নযোগ্য কর্মসূচি অপরিহার্য। সে লক্ষ্যেই নাগরিক প্ল্যাটফর্ম খাতভিত্তিক প্রস্তাবের বাইরে গিয়ে জাতীয় পর্যায়ের কর্মসূচি প্রণয়ন করেছে।
তিনি বলেন, সামষ্টিক অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নীতিগত সুপারিশ দেওয়া হয়েছে, তবে এবার প্রথমবারের মতো সেসব বাস্তবায়নে সহায়ক কর্মসূচিও সামনে আনা হয়েছে। পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহারে এসব প্রস্তাব অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি পর্যবেক্ষণের জন্য একটি মনিটরিং রিপোর্ট প্রস্তুত করা হয়েছে।
নারী সমাজের প্রসঙ্গে ড. দেবপ্রিয় বলেন, বাংলাদেশের নারীরা বর্তমানে আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অধিক সচেতন ও সক্ষম। এই সক্রিয় নাগরিক শক্তি ভবিষ্যতের গণতান্ত্রিক উত্তরণে পাহারাদারের দায়িত্ব পালন করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
মিডিয়া ব্রিফিংয়ে সামাজিক সুরক্ষা ও কল্যাণভিত্তিক কর্মসূচির বিস্তারিত তুলে ধরে সিপিডির অতিরিক্ত পরিচালক (রিসার্চ) তৌফিকুল ইসলাম খান বলেন, চিকিৎসা ব্যয়ের চাপ কমাতে ‘জাতীয় স্বাস্থ্য কার্ড’ চালুর প্রস্তাব করা হয়েছে, যার মাধ্যমে পরিবারপ্রতি বছরে এক লাখ টাকা পর্যন্ত চিকিৎসাসেবা নেওয়ার সুযোগ থাকবে। প্রথম ধাপে বয়স্কভাতার আওতাভুক্ত ৬১ লাখ প্রবীণ নাগরিককে এই ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব রয়েছে।
তিনি বলেন, এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে বছরে প্রায় ৬১ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হবে, যা জিডিপির এক শতাংশের সমান। এতে দরিদ্র, প্রবীণ ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর চিকিৎসা নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।
আলোচনায় বক্তারা, যুবসমাজের জন্য ‘যুব ক্রেডিট কার্ড’ চালুর প্রস্তাব করেন, যেখানে বছরে এক লাখ টাকা পর্যন্ত সুদমুক্ত ও জামানতবিহীন ঋণ সুবিধা থাকবে। কৃষিখাতে ‘পার্টনার’ প্রকল্প পরিমার্জনের মাধ্যমে সারাদেশের প্রকৃত কৃষকদের স্মার্ট কার্ড প্রদানের সুপারিশ করা হয়েছে, যা এক দশমিক ৬৫ কোটি কৃষি পরিবারকে সেবার আওতায় আনবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

