অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটের উড়োজাহাজে ব্যবহৃত জেট ফুয়েলের দাম প্রতি লিটারে প্রায় ৯০ টাকা বৃদ্ধি করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। মঙ্গলবার এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।
আজ মধ্য রাত থেকে নতুন এ দাম কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে, জেট ফুয়েলের মূল্যবৃদ্ধি অযৌক্তিক বলে তা পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছে এভিয়েশন অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এওএবি)।
সংস্থাটির আশঙ্কা, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইট পরিচালনা বন্ধ হওয়ার মতো পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে।
জেট ফুয়েলের দাম বাড়িয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর তাৎক্ষণিকভাবে এর প্রতিবাদ জানায় এ সংস্থাটি। গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এওএবি জানায়, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) জেট এ-১ জ্বালানির মূল্য হঠাৎ করে বড় পরিসরে বাড়িয়েছে, যা বর্তমান বাজার বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
এওএবি’র সেক্রেটারি জেনারেল মফিজুর রহমানের পাঠানো এ বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়েছে, দেশে জ্বালানি তেলের কোনো ঘাটতি নেই বলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে জানিয়েছে। গত ২২ দিনে প্রায় ২৫টি তেলবাহী জাহাজ দেশে এসেছে এবং এসব তেল আগের নির্ধারিত দামেই কেনা হয়েছে।
পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারেও সাম্প্রতিক সময়ে তেলের দাম কমতির দিকে। এমন পরিস্থিতিতে ভবিষ্যতের মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কাকে ভিত্তি করে এত বড় বৃদ্ধি কোনোভাবেই যৌক্তিক নয়।
পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে এই মূল্যবৃদ্ধি অস্বাভাবিকভাবে বেশি উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ভারত ও নেপাল জেট ফুয়েলের দাম অপরিবর্তিত রেখেছে, সেখানে পাকিস্তান-এ ২৪ দশমিক ৪৯ শতাংশ এবং মালদ্বীপ-এ ১৮ দশমিক ৫৪ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। তাদের তুলনায় বাংলাদেশে প্রায় ৮০ শতাংশ বৃদ্ধি অযৌক্তিক।
এওএবি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছে, নতুন এই মূল্য কার্যকর হলে দেশের এয়ারলাইন্সগুলো মারাত্মক আর্থিক চাপে পড়বে। এর প্রভাব সরাসরি পড়বে অভ্যন্তরীণ রুটের যাত্রীদের ওপর, বাড়বে বিমান ভাড়া।
একই সঙ্গে জেট ফুয়েলের ওপর কর বৃদ্ধির কারণে পরিচালন ব্যয় আরও বেড়ে যাবে, যা পুরো এভিয়েশন খাতের টেকসই উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।
সংগঠনটি সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইট পরিচালনা বন্ধ হওয়ার মতো পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে।
এ অবস্থায় সরকারকে দ্রুত সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে এওএবি বলেছে, বাস্তবসম্মত ও গ্রহণযোগ্য মূল্য নির্ধারণের মাধ্যমে দেশের এভিয়েশন খাতের স্থিতিশীলতা ও প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা জরুরি।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

