সরকারি কর্মচারীদের বেতন দ্বিগুণ হয়ে গেছে—সাধারণ মানুষের মধ্যে এমন ধারণা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়ছে দ্রব্যমূল্যেও। অথচ ৯ম জাতীয় পে-স্কেলের চূড়ান্ত গেজেট এখনো প্রকাশ হয়নি বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি।
শনিবার খুলনা বিভাগীয় কমিটির আয়োজনে এক সমাবেশে এ তথ্য জানানো হয়।
সমিতির সভাপতি আবদুল মালেক বলেন, ‘প্রথম ধাপে ১ হাজার ৩৫২ টাকা পাওয়ার কথা ঘরের বউই বিশ্বাস করে না, পাবলিক বিশ্বাস করবে কীভাবে? সাধারণ মানুষ মনে করছে, সরকারি কর্মচারীদের বেতন দ্বিগুণ হয়ে গেছে। সেই ধারণার সঙ্গে দ্রব্যমূল্যও বেড়েছে। অথচ এখনো পে-স্কেলের গেজেট হয়নি।’
১২ বছর পর ৯ম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়ায় সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান সমিতির নেতারা। তবে আবদুল মালেক বলেন, দীর্ঘ ১১ বছর ধরে কর্মচারীরা নতুন পে-স্কেলের অপেক্ষায় রয়েছেন। প্রস্তাবিত কাঠামোতে বেতন-ভাতা ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হলে অনেক কর্মচারীর প্রত্যাশা পূরণ হবে না।
বিশেষ করে প্রথম ধাপে ১৫ শতাংশ বিশেষ ভাতা বাদ দিয়ে হাতে যে সামান্য অর্থ আসার কথা বলা হচ্ছে, তা হতাশাজনক বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বাড়িভাড়া ও বৈশাখী ভাতা বাড়ানোর বদলে কোথাও ৫ শতাংশ, কোথাও ১০ শতাংশ কমানোর সুপারিশের খবরেও কর্মচারীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। শিক্ষা ভাতায়ও কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন নেই। তাই চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন প্রকাশের আগে বাড়িভাড়া, বৈশাখী ভাতা, শিক্ষা ভাতাসহ অন্যান্য ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা পুনর্বিবেচনার দাবি জানান তিনি।
মূল বেতন এক ধাপে বাস্তবায়নের দাবি
পে-ফিক্সেশন ও সফটওয়্যার-সংক্রান্ত জটিলতা নিয়েও আপত্তি জানিয়েছেন সমিতির নেতারা। আবদুল মালেক বলেন, প্রয়োজনে ভাতাগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা যেতে পারে। তবে মূল বেতন এক ধাপে বাস্তবায়ন করতে হবে। বেতন ভেঙে ভেঙে নির্ধারণ করা হলে ভবিষ্যতে প্রশাসনিক ও কারিগরি জটিলতা তৈরি হতে পারে।
আমন্ত্রিত অতিথি তাসলিমা আখতার বলেন, কর্মচারীদের যৌক্তিক দাবি সরকারের বিবেচনা করা উচিত। ১১ বছর পর পে-স্কেল হচ্ছে। এরই মধ্যে দেশে দ্রব্যমূল্যের আমূল পরিবর্তন হয়েছে। তাই বাড়িভাড়া, শিক্ষা ভাতা, চিকিৎসা ভাতাসহ সব ভাতা সামঞ্জস্যপূর্ণ করার দাবি জানান তিনি।
সমিতির মহাসচিব আশিকুল ইসলাম বলেন, সচিব কমিটির গোপনীয় সুপারিশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতি নিরসনে সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট অবস্থান প্রয়োজন।
তিনি বলেন, এখনো চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ হয়নি। ফলে কর্মচারীদের উত্থাপিত অসংগতিগুলো সংশোধনের সুযোগ রয়েছে। এসব বিষয় পুনর্বিবেচনা না করে গেজেট প্রকাশ করা হলে কর্মচারীদের ক্ষোভ কমবে না, বরং আরও বাড়তে পারে।
আশিকুল ইসলাম বলেন, ‘পে-স্কেলকে কেন্দ্র করে বাজারে দফায় দফায় দ্রব্যমূল্য বেড়েছে। এর প্রভাব শুধু সরকারি কর্মচারীদের ওপর নয়, সাধারণ মানুষও এর ভুক্তভোগী। তাই একটি বাস্তবসম্মত ও বৈষম্যহীন পে-স্কেল দ্রুত বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন।’
সমাবেশে বক্তারা দ্রুত ৯ম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ, সব ভাতা পুনর্বিবেচনা, পে-ফিক্সেশন ও সফটওয়্যার-সংক্রান্ত জটিলতা নিরসন এবং কর্মচারীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপনে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান।
সমাবেশে কেন্দ্রীয় কমিটির মহাসচিব আশিকুল ইসলাম ৫১ সদস্যের খুলনা বিভাগীয় কমিটি ঘোষণা করেন। এতে সভাপতি হয়েছেন আবদুল কাদের খান এবং সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন মো. নাজমুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে বক্তারা সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে পে-স্কেল বাস্তবায়নের উদ্যোগকে স্বাগত জানান। একই সঙ্গে কর্মচারীদের যৌক্তিক প্রত্যাশা পূরণ এবং প্রস্তাবিত পে-স্কেলের অসংগতিগুলো সমাধান করেই চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশের দাবি জানান।
এএম
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


