ঢাকায় অবস্থানরত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করেছেন। জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার আগেই সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) এই পরিদর্শন অনুষ্ঠিত হয়।
সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী কূটনীতিকদের জাদুঘরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অংশ ঘুরিয়ে দেখান এবং ব্রিফ করেন। প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী এই সফরের শুরুতে কূটনীতিকরা ফ্যাসিস্ট শাসক শেখ হাসিনার আমলে শহীদ প্রায় চার হাজার মানুষের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন।
এ সময় মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বলেন, জুলাই জাদুঘর বিশ্বের অন্যান্য দেশের অনুরূপ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সহযোগিতা করবে। তিনি বলেন, এই জাদুঘরের মূল উদ্দেশ্য হলো-এ ধরনের দুঃশাসনের পুনরাবৃত্তি যেন শুধু বাংলাদেশে নয়, বিশ্বের কোথাও না ঘটে।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা এম তৌহিদ হোসেন বলেন, এই জাদুঘর শেখ হাসিনার দুঃশাসনের বিরুদ্ধে জনগণের সংগ্রামের প্রতিফলন।
জুলাই জাদুঘরের প্রধান কিউরেটর তানজিম ওয়াহাব কূটনীতিক ও অতিথিদের জাদুঘরের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে অবহিত করেন।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত ও বাংলাদেশে ইইউ প্রতিনিধিদলের প্রধান মাইকেল মিলার বলেন, ‘জুলাই জাদুঘর পরিদর্শন করতে পেরে আমি আনন্দিত। এটি অনুপ্রেরণাদায়ক এবং ইতিহাস বোঝা, গণঅভ্যুত্থান কীভাবে সংঘটিত হয় এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পটভূমি উপলব্ধির ক্ষেত্রে একটি শক্তিশালী স্মারক।’
অনুষ্ঠানে উপস্থিত কূটনৈতিকদের মধ্যে ছিলেন আলজেরিয়া, আর্জেন্টিনা, ভুটান, ডেনমার্ক, মিসর, ফ্রান্স, ইরান, ইরাক, ইতালি, কসোভো, লিবিয়া, মরক্কো, নেপাল, নরওয়ে, পাকিস্তান, ফিলিস্তিন, রাশিয়া, সিঙ্গাপুর, স্পেন, তুরস্ক, যুক্তরাষ্ট্র, চীন, জাপান ও ব্রুনাই দারুসসালামের প্রতিনিধিরা।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন আগা খান ডেভেলপমেন্ট নেটওয়ার্ক (AKDN), এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (ADB), বিমসটেক, সিআইআরডিএপি, এফএও, আইএফডিসি, আইওএম, ইউনেস্কো, ইউএনএইচসিআর, বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (WFP) এবং ইউএনওপিএস-এর শীর্ষ কর্মকর্তারা।
এসডিজি বিষয়ক জ্যেষ্ঠ সচিব লামিয়া মোর্শেদ, পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম এবং সংস্কৃতি বিষয়ক সচিব মো. মফিদুর রহমানও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
উচ্ছেদ হওয়া স্বৈরশাসক শেখ হাসিনার সাবেক বাসভবন গণভবনকে রূপান্তর করে জুলাই জাদুঘর করা হয়েছে। জাদুঘরটি আগামী সপ্তাহে সফট ওপেনিংয়ের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

