মিট দ্য প্রেসে ইউএস বাংলা এমডি

এভিয়েশনকে সমৃদ্ধ না করলে দেশ কখনোই উন্নত হবে না

এভিয়েশনকে সমৃদ্ধ না করলে দেশ কখনোই উন্নত হবে না
মিট দ্যা প্রেসে বক্তব্য দেন ইউএস বাংলার এমডি মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন। ছবি: আমার দেশ

বাংলাদেশের এভিয়েশনকে সমৃদ্ধ না করলে দেশ কখনোই উন্নত হবে না বলে মন্তব্য করেছেন ইউএস বাংলার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন। রোববার কক্সবাজারের ওশান প্যারাডাইজ হোটেলে ইউএস বাংলার এক যুগ পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত মিট দ্য প্রেসে তিনি এ মন্তব্য করেন।

আবদুল্লাহ আল-মামুন বলেন, এভিয়েশন মানে হচ্ছে কানেক্টিভিটি। এভিয়েশনকে সমৃদ্ধ করা ছাড়া এই দেশ কখনোই উন্নতি করবে না। এইটাকে সবার আগে প্রায়োরিটি দিতে হবে। আপনি কি জানেন বাংলাদেশ থেকে কার্গো রপ্তানি সবচেয়ে এক্সপেন্সিভ? ১ কেজি পটল রপ্তানি করবেন, সেখানে আপনাকে ২৫ সেন্ট দিয়ে দিতে হবে দুই অথরিটিকে। যেখানে ব্যাংকক নেয় ৫ সেন্ট, দিল্লি নেয় ৫ সেন্ট, সেখানে আমাদের এখানে নেয় ২৫ সেন্ট। ঢাকা থেকে যদি আপনার একটা কার্গো সবজি যায় তাহলে এই হারে এত বেশি খরচ হয়। বাংলাদেশের জন্য সবজি খাতটা বিশাল জায়গা।

বিজ্ঞাপন

তিনি দেশের এভিয়েশন খাত নিয়ে অবহেলার অভিযোগ এনে বলেন, বাংলাদেশে আমরা আসলে কোনো ক্রান্তিকালে(করোনা মহামারি ও ফুয়েল প্রাইজ বৃদ্ধি) অথরিটি বা সরকার থেকে সহযোগিতা পাই না। বাংলাদেশের এভিয়েশন হচ্ছে একলা চলো নীতি।

এখানে এয়ারলাইন্স একটাই, মালিক একটাই। আমি একা হয়ে একলা চলছি। সেজন্য আমরা সবার সহযোগিতা চাচ্ছি।

ইউএস-বাংলার এমডি আরো বলেন, আমি মাঝে মাঝে সব অপারেটরদের বলি যে দেখো আমাদের তো কিছু হচ্ছে না, আমরা এয়ারপোর্টে এক মিনিট আল্লাহর দরবারে হাত তুলে দাঁড়াই। আল্লাহ যদি কিছু করে এই এভিয়েশনটাকে।

সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনাদের কাছে আশা আপনারা দেশীয় এয়ারলাইন্সকে প্রমোট করেন। তবেই দেখবেন আমরা সাহস পাব, আমরা সাহস করব আরো বড় করার জন্য। আপনারা আমাদের দেশীয় এয়ারক্রাফটের টেকনিক্যাল সামান্য সমস্যা হলেই সেটা নিয়ে নিউজ করেন। কিন্তু ইন্ডিগোর এয়ারক্রাফট নিয়ে নিউজ হয় না। দেশি-বিদেশি সব এয়ারক্রাফটই টেকনিক্যাল সমস্যা হতে পারে। এটা কমন বিষয়৷ অথচ তাদের সমস্যায় নিউজ না হলেও আমাদের সমস্যা হলেই হয়৷ একজন ফেসবুকে একটা কিছু বলেছে বা দিয়েছে সেটাই নিউজ হয়ে গেছে৷ তাই বলব আপনারা একটু আমাদের দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর দিকে নজর দেন। আমরা এখন সাউথ এশিয়ান কাউকে নিজেদের প্রতিযোগী মনে করি না। সবার সহযোগিতায় আমরা দেশীয় থেকে গ্লোবাল প্রোডাক্টে পরিণত হব।

আবদুল্লাহ আল-মামুন জানান, ২০২৭ সালের মধ্যে ২০ দেশের ৩০ গন্তব্যে যেতে চায় তারা, বহরে যুক্ত হবে আরও ২১টি নতুন উড়োজাহাজ। চট্টগ্রাম ও সিলেটকে আঞ্চলিক হাব গড়ে তুলে যাত্রীসেবা আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার পরিকল্পনাও রয়েছে। তবে উচ্চ ল্যান্ডিং-পার্কিং-জ্বালানি খরচ, ভারী ট্যাক্স আর নীতিগত জটিলতায় গত কয়েক বছরে ৯টি এয়ারলাইন্স বন্ধ হয়ে গেছে। তাই এই খাতে সরকারি সহায়তা জরুরি বলে মনে করেন তিনি।

ব্যবসার পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতাতেও তার প্রতিষ্ঠান এগিয়ে বলে জানান তিনি। আবদুল্লাহ আল-মামুন জানান, দক্ষ জনবল তৈরিতে নিজস্ব অর্থায়নে মেধাবী শিক্ষার্থীদের আমেরিকায় পাইলট প্রশিক্ষণে পাঠানোর পাশাপাশি তারা দেশে এক হাজার বিঘা জমির ওপর একটি আন্তর্জাতিক মানের 'হেলথকেয়ার সিটি' তৈরি করবেন, যেখানে শুধু দেশ নয়, ভারতসহ বিভিন্ন দেশের রোগীর' চিকিৎসা নিতে আসবেন। এছাড়া ডাটা সেন্টার ও সফটওয়্যার পার্ক স্থাপনের পরিকল্পনা করছে ইউএস বাংলা। আর্থিক স্বচ্ছতার বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে যে তারা কোনো ব্যাংক লোন ছাড়াই সম্পূর্ণ নিজস্ব ও লিজিং অর্থায়নে পরিচালিত হচ্ছে। দেশীয় এই শিল্পকে বিশ্ব-দরবারে তুলে ধরতে এবং এর সম্ভাবনাকে বেগবান করতে গণমাধ্যমকেও গঠনমূলক ও ইতিবাচক ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন