দুইদিন ধরে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়লেও সারাদেশে ভ্যাপসা গরমের দাপট কমেনি। তাপমাত্রার চেয়েও বেশি গরম অনুভূত হচ্ছে।
আবহাওয়াবিদরা বলছেন, বৃষ্টি হলেও বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকায় তা বৃষ্টির পর আর্দ্রতা বাড়িয়ে দেয়। এর ফলে তৈরি হয় ভ্যাপসা গরম ও প্রচণ্ড ঘাম ঝরানো অস্বস্তিকর পরিবেশ। এছাড়াও মৌসুমি বায়ু এখনো পুরোপুরি সক্রিয় না হওয়ায় উষ্ণ বৃষ্টি ঝরাচ্ছে। তবে আগামী ৩ জুলাই থেকে লঘুচাপের প্রভাবে দেশজুড়ে টানা বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বেড়ে গরমের দাপট কিছুটা কমতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
মঙ্গলবার সন্ধ্যা ছয়টার পূর্বাভাসে বলা হয়, মৌসুমি বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ উত্তর প্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের উপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরের অন্যত্র মাঝারি অবস্থায় রয়েছে।
এর ফলে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিজলি চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি কিংবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে সারাদেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। বুধবার সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। সেই সঙ্গে বর্ধিত ৫ দিনে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়তে পারে।
এদিকে সংস্থাটির দেওয়া ২৪ ঘণ্টার তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, রাজধানীতে ২ মিলিমিটার বৃষ্টি হলেও মেঘলা আকাশে আগের দিনের তুলনায় মঙ্গলবার ঢাকায় তাপমাত্রা বেড়েছে ২ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে সারাদেশে আগের দিনের তুলনায় তাপমাত্রা আরও কমেছে। সোমবার সিলেটে সর্বোচ্চ ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হলেও মঙ্গলবার মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ছিল ৩৫ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দেশজুড়ে তাপমাত্রা কমলেও আগের দিনের তুলনায় বৃষ্টির পরিমাণ কমেছে।
সোমবার নীলফামারীর সৈয়দপুরে সর্বোচ্চ ১৪৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হলেও মঙ্গলবার ছিল পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় সর্বোচ্চ ৫২ মিলিমিটার। এ সময় রাজধানীতে মাত্র ২ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।
তীব্র ভ্যাপসা গরম সম্পর্কে আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবির বলেন, “প্রকৃতিতে অনেক পরিবর্তন ঘটে গেছে; টানা বৃষ্টি না হলে ভ্যাপসা গরম কমার সম্ভাবনা নেই। এই সময়ে বৃষ্টি হলেও তা অনেকটাই উষ্ণ বৃষ্টি, মেঘমালা জমিনের খুব কাছাকাছি অবস্থান করায় বৃষ্টি হলেও তা ঠান্ডা বয়ে আনছে না। এছাড়া এই সময়ে আমাদের দেশে খাড়াভাবে সূর্যের তাপ বিকিরণ করে থাকে; দিনের পরিধিও বড়। ফলে বেশি সময় ধরে বৃষ্টি না হওয়ায় তাপমাত্রা সহজে কমে না; বরং তাপমাত্রার চেয়েও কয়েক ডিগ্রি বেশি ভ্যাপসা গরম অনুভূত হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “আগামী বৃহস্পতিবার উপকূলের কাছাকাছি একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। এর প্রভাবে আগামী শুক্রবার থেকে দেশের দক্ষিণাঞ্চলসহ সারাদেশে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বেড়ে গরমের দাপট কিছুটা কমতে পারে। তবে লঘুচাপটি উপকূলের খুব কাছাকাছি সৃষ্টি হওয়ায় দুর্বল অবস্থাতেই ল্যান্ডে উঠে আসতে পারে; এ জন্য খুব বেশি বৃষ্টি ঝরাবে বলে মনে হচ্ছে না।”
এদিকে গরমের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে বিদ্যুতের লোডশেডিং। সারাদেশে ঘণ্টায় ঘণ্টায় তীব্র লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
প্রসঙ্গত, এবার মৌসুমের সবচেয়ে উষ্ণতম এপ্রিল-মে মাসে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টি হলেও জুন-জুলাই মাসে স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টিপাত এবং বেশি তাপমাত্রা থাকার কথা আগেই জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

