জাতীয় সংসদের অধিবেশনে নিজের জানমালের নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ। সোমবার জাতীয় সংসদের বিশেষ অধিকারের আলোচনায় অংশ নিয়ে একথা বলেন তিনি। হান্নান মাসউদ বলেন, গত পরশু হাতিয়া থেকে ফেরার পথেও তিনি হামলার মুখে পড়তে যাচ্ছিলেন উল্লেখ করে সংসদকে জানান তিনি।
এর আগে হান্নান মাসউদ এ বিষয়ে বিশেষ অধিকার প্রশ্নে সংসদে নোটিশ দিলে সংসদের সভাপতির দায়িত্বে থাকা ডেপুটি স্পিকার নাকচ করে দেন। তবে তিনি নোটিশে উত্থাপিত বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অনুরোধ করেন।
ডেপুটি স্পিকার নোটিশটি নিষ্পত্তি করার পর আবদুল হান্নান মাসউদ ফ্লোর নিয়ে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, তিনি একটি দুর্গম দ্বীপাঞ্চল থেকে নির্বাচিত হয়েছেন যেখানে ভূমিদস্যু ও জলদস্যুদের রাজত্ব চলছে। নির্বাচনের আগে ও পরে মিলিয়ে তিনি অন্তত পাঁচবার সরাসরি হামলার শিকার হয়েছেন। এমনকি তার জন্য মসজিদে দোয়া করায় ইমামের ওপর নৃশংস হামলা চালানো হয়েছে, যিনি গত দেড় মাস ধরে চিকিৎসাধীন।
ক্ষোভ প্রকাশ করে হান্নান মাসউদ জানান, আমাকে সরাসরি অস্ত্র হাতে কোপাতে আসার ভিডিও এবং প্রমাণাদি থাকা সত্ত্বেও সন্ত্রাসীদের রাজনৈতিক শেল্টারে রাখা হচ্ছে। ফেসবুক লাইভে এসে তাকে প্রতিনিয়ত হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং তার এলাকায় প্রবেশে বাধা দেওয়া হচ্ছে।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, একজন সংসদ সদস্য হয়েও যদি আমি এবং আমার নেতাকর্মীরা নিরাপদ না থাকেন, তবে সাধারণ মানুষের অবস্থা কী? তিনি জানান, তার গাড়িতে এখনো সন্ত্রাসীদের দেওয়া কোপের দাগ রয়েছে এবং বিটিভির সাংবাদিককে কুপিয়েছে এমন চিহ্নিত আসামিরাও প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এই ঘটনার সংসদীয় তদন্তের পাশাপাশি নিজের ও তার কর্মীদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের জোরালো হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
হান্নান মাসউদের এই বক্তব্যেও আগে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল আবদুল হান্নান মাছউদের দেওয়া নোটিশটি পড়ে শোনান। পরে তিনি বলেন, একজন সংসদ সদস্যের ওপর এ ধরনের হামলা ও হুমকি কোনোভাবেই কাম্য নয়।
যদিও কার্যপ্রণালী বিধির ১৬৫(২) ও ১৬৫(৪) উপবিধির কারিগরি সীমাবদ্ধতার কারণে নোটিশটি গ্রহণ করা সম্ভব হচ্ছে না, তবুও বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল। এই প্রেক্ষাপটে তিনি সংসদ সদস্যের উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে কার্যকর এবং দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অধিবেশনে উপস্থিত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেন।
ডেপুটি স্পিকারের নির্দেশনার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ তার বক্তব্যে বলেন, সংসদ সদস্য হান্নান মাসউদের উত্থাপিত বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। সংসদ সদস্যের বক্তব্যের প্রতিটি বিষয় আমি মনোযোগ দিয়ে শুনেছি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, যদি এ ঘটনা সত্য হয়ে থাকে, তবে তা অত্যন্ত দুঃখজনক। সংসদ সদস্য যদি জিডি বা মামলা সংম্লিষ্ট থানায় না করে থাকেন এখনো ইচ্ছা করলে এটা করতে পারেন। সে বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শুধু এই সংসদ সদস্য নন যেকোনো সংসদ সদস্য সে রকম পরিস্থিতির শিকার হন তবে তা যেন তাৎক্ষণিকভাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা স্থানীয় থানাকে অবহিত করেন। সরকার দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বদ্ধপরিকর।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

