দক্ষিণা বায়ুর প্রভাব

দেশের আবহাওয়ায় কী ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে

সরদার আনিছ

দেশের আবহাওয়ায় কী ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে
ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে দেশের সীমানায় প্রবেশ করেছে দক্ষিণ-পশ্চিমা মৌসুমি বায়ু। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মৌসুমি বায়ুর সক্রিয় অগ্রগতির ফলে দেশে আনুষ্ঠানিকভাবে বর্ষাকালের সূচনা হয়েছে। এর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা ক্রমশ বাড়বে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদেরা।

বিজ্ঞাপন

আবহাওয়াবিদদের মতে, বঙ্গোপসাগর থেকে আসা জলীয়বাষ্পযুক্ত এই বায়ুপ্রবাহ এখন দেশের মূল ভূখণ্ড চট্টগ্রাম অঞ্চলে অবস্থান করছে। মধ্যাঞ্চলে আসতে ৪৮ ঘণ্টা এবং সারা দেশে সক্রিয় হতে আরো কয়েক দিন লাগতে পারে। তবে এর প্রভাবে উপকূলীয় জেলাগুলোসহ দেশের মধ্যাঞ্চল ও উত্তরাঞ্চলে প্রচুর মেঘমালার সৃষ্টি হয়েছে।

মৌসুমি বায়ু প্রবেশের প্রভাবে দেশের আবহাওয়ার কী ধরনের পরিবর্তন হচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে আবহাওয়াবিদ ড. ওমর ফারুক বলেন, গ্রীষ্মকালীন মেঘ ও বাতাস সাধারণত উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে প্রবাহিত হয়ে থাকে; মৌসুমি বায়ু প্রবেশের ফলে এখন তা দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া আকাশে প্রচুর মেঘমালা তৈরি হয়ে দক্ষিণা বাতাসে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বেড়ে তাপপ্রবাহ প্রশমিত হয়ে দেশে একধরনের স্বস্তিদায়ক আবহাওয়ার ধারা সৃষ্টি হবে।

কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, মৌসুমি বায়ুর এই আগমন কৃষি খাতের জন্য ইতিবাচক। বিশেষ করে আমন ধানের বীজতলা তৈরি ও চাষাবাদের জন্য এই বৃষ্টিপাত অত্যন্ত সহায়ক হবে।

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন স্থানে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এ সময় রাজধানীতে ৭ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। গতকাল সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ যশোরে সর্বোচ্চ ৫৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগ ছাড়া দেশের প্রতিটি বিভাগেই কমবেশি বৃষ্টি হয়েছে। সন্ধ্যা ৬টার আবহাওয়া দপ্তরের দেওয়া ২৪ ঘণ্টার তথ্য পর্যাটলোচনা করে দেখা যায়, সংস্থাটির ৫১টি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের মধ্যে ২৭টি কেন্দ্র এলাকায় বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

এদিকে আগের দিনের তুলনায় শনিবার তাপমাত্রা বেড়েছে। শনিবার দেশে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে নোয়াখালীতে ৩৭ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা আগের দিন ছিল ৩৬ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একইভাবে রাজধানীতে তাপমাত্রা বেড়ে ঢাকার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা হয়েছে ৩৫ দশমিক ২ ডিগ্রি; যা আগের দিন ছিল ৩৩ দশমিক ৫ ডিগ্রি। তবে আজ রোববার তাপমাত্রা কমতে পারে বলে পূর্বাভাসে বলা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে আবহাওয়াবিদ ড. ওমর ফারুক আমার দেশকে বলেন, চট্টগ্রাম অঞ্চলে মৌসুমি বায়ু প্রবেশ করলেও তা সারা দেশে ছড়াতে মধ্য জুন লেগে যেতে পারে। ফলে আগামী ১২ কিংবা ১৩ জুন থেকে কিছুটা বর্ষার আমেজ শুরু হতে পারে।

তিনি বলেন, শনিবার দেশের সাত জেলায় ৩৬ ডিগ্রির বেশি তাপমাত্রা রেকর্ড করা হলেও তাপপ্রবাহের তথ্য দেওয়া হয়নি; কেননা, রোববার তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে।

তিনি আরো বলেন, এখনই তাপপ্রবাহ প্রশমিত হচ্ছে না; মৌসুমি বায়ু সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ার আগপর্যন্ত তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। আগামী ৮ কিংবা ৯ জুন থেকে আবারও তাপপ্রবাহ শুরু হয়ে তা দু-তিন দিন থাকতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আবহওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, আগামী কয়েক দিনে বৃষ্টির পরিধি বাড়বে। উপকূলীয় এলাকায় স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বাতাসের গতিবেগ থাকতে পারে। বৃষ্টির পরিমাণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশের নদ-নদীর পানি বাড়তে পারে এবং নিচু এলাকায় সাময়িক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে বর্ষার আগমনে জনজীবনে স্বস্তি ফিরলেও আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, বর্ষার শুরুতে বজ্রপাতের হার বেশি থাকে, তাই আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকলে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় আগামী সপ্তাহ থেকে দেশে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ আরো বাড়তে পারে। সেই সঙ্গে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা কমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে, যা চলমান ভ্যাপসা গরম থেকে জনজীবনে স্বস্তি নিয়ে আসবে।

এ বিষয়ে আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক আমার দেশকে বলেন, গ্রীষ্মকালীন হঠাৎ বৃষ্টিতে ক্ষণিকের স্বস্তি মেলে; এখন মৌসুমি বায়ু দেশে প্রবেশ করায় বৃষ্টি শুরু হলে তা দীর্ঘ সময় ধরে চলবে । এতে তাপমাত্রা দ্রুত কমে স্বস্তিদায়ক পরিবেশ সৃষ্টি করবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...