আপনাদের অনেকেরই হয়তো জানা আছে যে, এডলফ হিটলার এবং বেনিতো মুসোলিনির উত্থান হয়েছিল রাজনীতির পাঠগ্রহণ এবং নির্বাচিত পন্থায়। কিন্তু এই তারাই অর্থাৎ হিটলার এবং মুসোলিনির নাম আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িত হয়ে গেছে সবচেয়ে ঘৃণিত, নিন্দিত ফ্যাসিবাদ এবং নাৎসিবাদের প্রবক্তা হিসেবে। জার্মানির হিটলারের রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় ১৯১৯ সালে, যখন তিনি জার্মান ওয়ার্কার্স পার্টিতে যোগ দেন এবং অল্পকালেই ওই দলের নাম পরিবর্তিত হয়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক জার্মান ওয়ার্কার্স পার্টিতে (এসএসডিএপি) রূপান্তরিত হয়।
ওই দলকে সংক্ষেপে নাৎসি পার্টিও বলা হতো। বহু ঘটনাবলির পরে বিশ্বজুড়ে মহামন্দাকে কাজে লাগিয়ে হিটলারের দল বা নাৎসি পার্টি ১৯৩২ সালের জুলাই মাসের নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পেয়ে পার্লামেন্টে যায়। আর জনপ্রিয়তার কারণে এডলফ হিটলার জার্মানির চ্যান্সেলর নির্বাচিত হন। কিন্তু এক বছরের মধ্যে হিটলার পার্লামেন্ট ভেঙে দেন এবং ক্ষমতা কুক্ষিগতকরণের লক্ষ্যে এক ব্যক্তির শাসনব্যবস্থা চালু করেন। এই লক্ষ্যে তিনি ১৯৩৩ সালে সব আইনপ্রণয়ন এবং বাতিলের একচ্ছত্র অধিকার নিশ্চিতকরণে নয়া আইন চালু করেন।
তিনি তার জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে সব রাজনৈতিক দল, ট্রেড ইউনিয়নসহ ভিন্ন মতাবলম্বীদের সংগঠনগুলো নিষিদ্ধ করেন। তিনি এই কার্যক্রমকে সব প্রথা, প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করার জন্য কুখ্যাত স্লেইচ শাল টুং বা সমন্বয়কারী ব্যবস্থা চালু করেন। ১৯৩৪ সালে জার্মান প্রেসিডেন্টের মৃত্যুর পর তিনি প্রেসিডেন্ট এবং চ্যান্সেলরের আলাদা আলাদা পদ বিলোপ করে এমন এক ব্যবস্থা চালু করেন, যাতে তিনিই সর্বেসর্বা বা জার্মান ভাষায় ফুহরার (মহান নেতা) হিসেবে ঘোষণা করেন। ইতিহাসবিদরা বলেন, জার্মানিতে ১৯৩২ এবং ১৯৩৩-এর নির্বাচনে এমন এক ব্যবস্থা চালু করেন, যাতে তিনি সুপার মেজরিটির চেয়েও বেশি ভোট এবং আসন পান। এরপরের ইতিহাস নিশ্চয়ই অনেকের জানা আছে।
আবার ইতালির বেনিতো মুসোলিনি ব্যক্তিগত জীবনের শুরুতে একজন সমাজতন্ত্রীপন্থি সাংবাদিক ছিলেন। সম্পাদকও হয়েছিলেন সমাজতন্ত্রী মতাদর্শের একটি সংবাদপত্রের। এসব ঘটনাবলি ১৯১২-এর আগের। তিনি উগ্র সমাজতন্ত্রী থাকায় তাকে বহিষ্কার করা হলে ইতালীয় জাতীয়তাবাদী ধারার দিকে প্রবলভাবে ঝুঁকে পড়েন এবং নিজেই ‘ইল পেপোলো ডি ইতালিয়া’ সংবাদপত্র প্রকাশ করেন। পরে তিনি ১৯১৯ সালে সমাজতন্ত্রীবিরোধী জাতীয়তাবাদী ঐক্যের লক্ষ্যে ইতালীয় কমব্যাট স্কোয়াড গঠন করেন। কিন্তু তার দলের নির্বাচনে ভরাডুবি হয়। মুসোলিনি জাতীয় ব্লক নামের অন্য একটি দলে যোগ দিয়ে কোনো মতে পার্লামেন্ট সদস্য হন। এরপর তিনি উগ্রজাতীয়তাবাদীদের নিয়ে সহিংস ‘ব্ল্যাক শার্ট’ আন্দোলন শুরু করেন এবং সহিংসতার হুমকিতে রাজা ভিক্টর ইমানুয়েল বাধ্য হয়ে মুসোলিনিকে প্রধানমন্ত্রী পদে নিয়োগ দেন। প্রধানমন্ত্রী হয়েই ১৯২৩ সালে এমন এক আইন পাস করেন, যাতে শতকরা ২৫ শতাংশ ভোট পেলেই সেই দল দুই-তৃতীয়াংশ আসন পেয়েছে বলে গণ্য হবে। ১৯২৪ ছিল ইতালির কলঙ্কিত অধ্যায়। জাল ভোটার তালিকা, ব্যাপক কারচুপি, ভয়ভীতি প্রদর্শন, সহিংসতার মাধ্যমে মুসোলিনির দল ৬৪ দশমিক ৯ শতাংশ ভোট ম্যানেজ করে ৩৭৪টি আসন দখল করে। ১৯২৫ সালে একদলীয় বা নিজের একনায়কত্ব ব্যবস্থার আইন জারি এবং ১৯২৭-এর মধ্যে সব রাজনৈতিক দলসহ সব ধরনের সংস্থা, সংগঠন নিষিদ্ধ করেন। আর এটা জায়েজ করার জন্য ১৯২৭ সালে মুসোলিনিকে সমর্থন করেন কি না এমন এক ভয়ংকর গণভোটের আয়োজন করেন, যাতে ৯৮ দশমিক ৪৩ ভাগ ভোট হ্যাঁ-এর পক্ষে পড়েছে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়। এটি ছিল ভীতিপ্রদ পদ্ধতি।
এটা অনেকেরই জানা যে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ অর্থাৎ ১৯৪৫-এর দিকে এই দুই পাপিষ্ঠ নরাধম শাসকের ভাগ্যে কী ঘটেছিল। এই দীর্ঘ ভূমিকার অবতারণা করা হলো এ কারণে যে, গণতান্ত্রিক পন্থায় ও প্রয়োগের মাধ্যমেই হিটলার আর মুসোলিনির উত্থান হয়েছিল। দ্বিতীয়ত, এই দুজনের কথা জেনেও কেন এখনো অনেক শাসক একনায়কতান্ত্রিক, ফ্যাসিস্ট এবং নাৎসিবাদী পথে হাঁটে এবং হেঁটে চলেছে। তাহলে সংকটটা ব্যক্তির মনস্তত্ত্বে না গণতন্ত্রের দুর্বলতার? এ বিষয়টি বিচার-বিশ্লেষণ না করলে গণতন্ত্র, বিশেষ করে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের সংকটটির স্বরূপ সন্ধান সম্ভব নয়।
সংকট কোথায়
গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা নতুন নয়। খ্রিষ্টপূর্ব ৫০০ বছর বা তারও কিছুকাল আগে প্রাচীন গ্রিসে গণতন্ত্র চর্চা শুরু হয়। প্রায় হাজারখানেক নগর রাষ্ট্রের মধ্যে শ-দেড়েক নগর রাষ্ট্র বেশ কার্যকর ছিল এবং এখানে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা চালু ছিল। যদিও নির্বাচনে দাস, নারী এবং জন্মসূত্রে নাগরিক নন, এমন কেউই ভোটার হতে পারতেন না। সবচেয়ে কার্যকর গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ছিল অ্যাথেন্স-এ। আর প্রথম সংবিধানও রচিত হয় অ্যাথেন্স-এ, যার প্রণেতা ছিলেন ওই সময়কার বিখ্যাত রাষ্ট্রনায়ক, রাজনীতিবিদ সোলন।
এ কথাও আমাদের হয়তো জানা আছে, ইতিহাসের সেরা দার্শনিক সক্রেটিসকে বিষ পানে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়, অ্যাথেন্সের পার্লামেন্টে, যারা ছিলেন বিচারকও। ৫০১ সদস্যের বিচার সভায় (২৮০-২২১) ভোটে সক্রেটিসের বিষ পানে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।
গণতন্ত্রের সংকট বা গণতন্ত্রের যথেচ্ছার নিয়ে বাংলাদেশসহ দুনিয়াজুড়ে ব্যাপক আলাপ-আলোচনা হয়েছে এবং এখনো হচ্ছে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে সঠিক এবং যথার্থভাবে জনগণের জন্য এবং জনগণের দ্বারা যতই বলা হোক কিন্তু কার্যত স্বল্পসংখ্যকের বা এক ব্যক্তির এবং স্বৈরতান্ত্রিক শাসনই বহাল থাকছে দেশে দেশে। কাজেই গণতন্ত্রের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনায় না গিয়ে সংকটের মূল কারণ অথবা স্বরূপ অনুসন্ধান জরুরি।
যতক্ষণ না ক্ষমতার মাত্রাতিরিক্ত লোভ বা ব্যক্তি বা ক্ষমতার কেন্দ্রিকতার অবসান না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত সচল সজীব গণতন্ত্রের সন্ধান পাওয়া যাবে না। এতে প্রতিনিধিত্বশীল সরকারব্যবস্থা অথবা সংখ্যানুপাতিক নির্বাচন পদ্ধতিসহ যত ব্যবস্থাই গ্রহণ করা হোক না কেনÑএ কথা বলতেই হবে, ক্ষমতার কেন্দ্রীভবনের বদলে বিকেন্দ্রায়নেও খুব যে ভালো ফল পাওয়া যাবে, এমনটা আশা করা যায় না।
প্রতিনিধিত্বশীল সরকার ব্যবস্থা
বর্তমানে আমাদের যে নির্বাচনি এবং এর ভিত্তিতে সরকার ব্যবস্থা, তা প্রতিনিধিত্বমূলক ব্যবস্থা। ১৮৬১ সালে রাজনীতি বিজ্ঞানী, দার্শনিক জনস্টুয়ার্ড মিল প্রথমে তার বই The Representative goverment (প্রতিনিধিত্বশীল সরকার)-এ বলেছিলেন, এ সরকার ব্যবস্থা শুধু সংখ্যাগরিষ্ঠদের নয়, বরং সংখ্যালঘুসহ (বিরোধী মত) সবার প্রতিনিধিত্ব করতে হবে। মিলের মতে, সংখ্যাগরিষ্ঠের শাসন গণতন্ত্রের নেতিবাচক প্রদর্শনী ছাড়া কিছুই নয়। মিল এ লক্ষ্যে, প্রতিনিধিত্বমূলক নির্বাচনব্যবস্থা, সংখ্যালঘুর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গোপনে নয়, প্রকাশ্যে ভোটদান ব্যবস্থাসহ জনগণের বুদ্ধিবৃত্তিক ও নৈতিক চিন্তার কথা বলেছিলেন।
কিন্তু অনেকের মতো আমারও বিশ্বাস, প্রতিনিধিত্বশীল নির্বাচনি ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় দুর্বলতা এবং সংকট হচ্ছে, একটি নির্দিষ্ট অংশের ভোটপ্রাপ্ত দল পুরো জনগোষ্ঠীকে প্রতিনিধিত্ব করবে? যেমন : ৫১ শতাংশ যদি একজন প্রার্থীকে ভোট দেয়, তাহলে ৪৯ শতাংশ তাকে ভোট দেননি। কাজেই আমাদের মতো দুর্বল গণতন্ত্রের দেশে এটা কি আদৌ কার্যকর? কারণ সরকার গঠনের জন্য যেমন বাংলাদেশে ১৫১টি আসন হলেই যথেষ্ট। তাহলে ১৪৯টি আসন এবং তাদের প্রাপ্ত ভোটের কী হবে? কারণ এ কথা মনে রাখতে হবে, ক্ষমতাশীলতার সঙ্গে সঙ্গে বিরোধী পক্ষ নির্মূল বা বিনাশ প্রক্রিয়া আমাদের মতো দেশে নিয়মিত ঘটনা। এছাড়া সুপার মেজরিটির সরকার ব্যবস্থায় বিরোধী দল প্রান্তিক সীমায় চলে আসে।
অবশ্য জন স্টুয়ার্ড মিল তার বইয়ে সাবধান করে দিয়েছেন এই বলে যে, যেখানে জনগণ অচেতন ও সুসভ্য নয়, সেখানে প্রতিনিধিত্বশীল ব্যবস্থা কার্যকর হবে না। তিনি বারবার উন্নত রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। মিল বলেন, এ সরকার ব্যবস্থা শুধু জনগণের স্বার্থই রক্ষা করে না; বরং এটি জাতীয়ভাবে বুদ্ধিবৃত্তিক এবং উন্নয়তমাত্রার চারিত্রিক উৎকর্ষের সেরা মাধ্যম। জন স্টুয়ার্ড মিলের তত্ত্বের ওপরে ব্যাপকভিত্তিক আলোচনা করেছেন নোবেলজয়ী অমর্ত্য সেন। তিনি বলেছেন, এটি গণতন্ত্রের অনুধাবনকে সমঝোতার বা আলোচনার শাসনের দিকে নিয়ে যায়। কিন্তু গণতন্ত্রকে আরো বড় করে দেখা দরকার এই কারণে যে, এই ব্যবস্থা কীভাবে জ্ঞান ও বুদ্ধিভিত্তিকে প্রসারিত করে তোলে এবং পারস্পরিক আলাপ আলোচনার যুক্তিপূর্ণ সম্ভাবনা বাড়িয়ে তোলে। অমর্ত্য সেন বলেছেন, আনুষ্ঠানিকভাবে কী কী প্রতিষ্ঠান আছে, শুধু তা দিয়ে গণতন্ত্রের মূল্যায়ন অসম্ভব। বরং ভিন্ন ভিন্ন গোষ্ঠীর বা অংশের বহু মানুষের কণ্ঠস্বরগুলো শোনা যাচ্ছে কি নাÑসেটাই দেখতে হবে। (তথ্য সূত্র : Amartya Sen; The Idea of Justice, Penguin Books London, 2010)
সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব
গণতন্ত্রের নানা পরীক্ষার অংশ হিসেবে জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলোর একটি ব্যবস্থাকে Propasotional Representation বা PR পদ্ধতি বলা হয়। এটি আগে যে প্রতিনিধিত্বশীল ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে, তা থেকে আলাদা। এ ব্যবস্থার প্রবর্তকদের মতে, সংখ্যা আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব ব্যবস্থা আরো উন্নত এবং উচ্চমাত্রার জনগণতান্ত্রিক। এই ব্যবস্থায় বড় থেকে ছোট দল, গোষ্ঠী বা বিশেষ দাবিতে ঐক্যবদ্ধ জনগণ, প্রাপ্ত সব মিলিয়ে ভোটের সংখ্যানুপাতে আসন পাবে। এতে বড় দলগুলো তো অবশ্যই কোনো ভোট নষ্ট হওয়ার প্রতিনিধিত্বহীন না থাকা অথবা জনমতের সঠিক অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রতিনিধিত্বমূলক জাতীয় সংসদ বা পার্লামেন্ট গঠন নিশ্চিত করে। জন স্টুয়ার্ড মিল যে প্রতিনিধিত্বশীল সরকার ব্যবস্থার কথা বলেছেন, তা হচ্ছে, নির্বাচনে শুধু একজন প্রার্থী এবং একটি দল নির্বাচিত হতে পারে। আর এ ব্যবস্থাকে ফ্যার্স্ট পাস্ট দ্য পোস্ট (এফপিটিপি) বলা হয়। যে সবচেয়ে বেশি ভোট পাবেন, তিনিই নির্বাচিত। আগেই বলা হয়েছে, ৫১ শতাংশ ভোট পেয়ে যিনি নির্বাচিত হবেন, তিনি পার্লামেন্টে প্রতিনিধিত্ব করবেন। অথচ তিনি বাকি ৪৯ শতাংশ ভোটারের প্রতিনিধিত্ব করেন না। তুলনামূলক সংখ্যাগরিষ্ঠতার সংকট এখানেই। অথচ সংখ্যানুপাতিক ব্যবস্থায় জটিলতা অনেক কমে যায়। ইউরোপের সুইডেন, ফিনল্যান্ড, নেদারল্যান্ডসহ বেশ কিছু দেশ ছাড়াও দক্ষিণ আফ্রিকা, ব্রাজিলসহ বেশ কয়েকটি দেশে এই ব্যবস্থা চালু আছে। শ্রীলঙ্কা, নেপাল অর্থাৎ দক্ষিণ এশিয়ার এই দুটো দেশ মিশ্র পিআর পদ্ধতি ব্যবস্থা চালু করেছে। দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার দেশ ইন্দোনেশিয়ায় পুরোপুরি এবং থাইল্যান্ডে মিশ্র ব্যবস্থা চালু আছে।
ক্ষমতার লোভ
যে ব্যবস্থাই চালু থাকুক না কেন, ক্ষমতার ব্যক্তিগতকরণ বা কর্তৃত্ববাদী প্রবণতা, কোনো ব্যবস্থাকেই সচল থাকতে দেয় না বা দেবে না। রাজনীতি এবং মনস্তাত্ত্বিক বিজ্ঞানে একে Power Hungriness বা ক্ষমতার লোভ বা ক্ষমতার লিপ্সা বলে চিহ্নিত করা হয়। এটি একটি মনস্তাত্ত্বিক আচরণ, যেখানে ক্ষমতা-লোভিতা ব্যক্তিকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং মনস্তাত্ত্বিক আধিপত্য বিস্তারের এক অতৃপ্ত, অথচ বিপজ্জনক চাহিদা তৈরি করে। আর এ কারণে ক্ষমতার ব্যক্তিগতকরণ অথবা অধস্তন কতিপয়ের শাসনকে কায়েম করে অধীন করার মানসিকতায় ভোগেন।
লেখার শুরুতে হিটলার এবং মুসোলিনির প্রসঙ্গ নিয়ে আলোচনা করেছিলাম। তারা এই রোগের সুবিশাল এবং কঠিন রোগী। আর এভাবেই ফ্যাসিবাদ ও একনায়কতান্ত্রিক শাসকদের জন্ম নেয়। এই জন্ম একবার নয়, বারবার হয়, হতেই থাকে।
লেখার শেষে জার্মান দার্শনিক ফ্রিডরিখ হেগেলের বিখ্যাত পর্যবেক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করি। হেগেল বলেন, জাতি এবং সরকারগুলো কখনই ইতিহাস থেকে কিছুই শেখেনি বা ইতিহাস থেকে তারা কোনো শিক্ষাই গ্রহণ করেনি।
লেখক : গবেষক
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

