আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

ভেনেজুয়েলায় আগ্রাসন ও বাংলাদেশের জন্য শিক্ষা

মেহেদী হাসান

ভেনেজুয়েলায় আগ্রাসন ও বাংলাদেশের জন্য শিক্ষা

দুর্বল কোনো দেশের কাছে যদি মূল্যবান সম্পদ থাকে আর সে সম্পদ রক্ষার উপযুক্ত ব্যবস্থা না থাকে, তাহলে সেই সম্পদই দেশটির জন্য বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। ভূলুণ্ঠিত হতে পারে দেশটির স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব। ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসন ও দেশটির প্রেসিডেন্টকে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা এর সর্বশেষ নজির।

ভেনেজুয়েলায় বিশ্বের সবচেয়ে বেশি প্রমাণিত অপরিশোধিত জ্বালানি তেল মজুত রয়েছে। এর পরিমাণ ৩০৩ বিলিয়ন ব্যারেল। শতকরা হিসাবে বিশ্বের মজুত তেলের ১৭ থেকে ২০ ভাগ।

বিজ্ঞাপন

১৯১৪ সালে ভেনেজুয়েলায় প্রথম তেল উত্তোলন শুরু করে নেদারল্যান্ডসের রয়াল ডাচ শেল কোম্পানি। এর পরপরই সেখানে তেল উত্তোলনে জড়িত হয় যুক্তরাষ্ট্রের এক্সন মবিল, স্ট্যান্ডার্ড অয়েল, গালফ অয়েলসহ বিভিন্ন কোম্পানি। ১৯২৯ সালের মধ্যে ভেনেজুয়েলায় ১০০টির বেশি আন্তর্জাতিক কোম্পানি আসে তেল উত্তোলন করতে এবং যুক্তরাষ্ট্রের পরে ভেনেজুয়েলা বিশ্বে দ্বিতীয় বৃহত্তম জ্বালানি তেল উৎপাদনকারী দেশে পরিণত হয়। কৃষিপ্রধান থেকে রাতারাতি দেশটি পরিণত হয় তেলনির্ভর দেশে। দ্রুত ভেনেজুয়েলায় জ্বালানি তেলে বিনিয়োগ এবং উত্তোলনে বিশ্বের সব কোম্পানিকে ছাড়িয়ে যায় যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলো। ভেনেজুয়েলায় উত্তোলিত তেলের মূল ক্রেতাও ছিল যুক্তরাষ্ট্র। তবে ১৯৭৬ সালে ভেনেজুয়েলা সরকার দেশটির জ্বালানি সম্পদ জাতীয়করণ করে এবং সব বিদেশি কোম্পানির লাভের ৫০ শতাংশ ভেনেজুয়েলা সরকারের মালিকানা নিশ্চিত করে। ১৯৯৮ সালে ভেনেজুয়েলায় ক্ষমতায় আসেন বামপন্থি নেতা হুগো শ্যাভেজ এবং তিনি দেশটিতে আধা সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেন। এরপর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুরু হয় ভেনেজুয়েলার আদর্শিক দ্বন্দ্ব ও তিক্ত সম্পর্ক। যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন তেল কোম্পানির ওপর কঠিন শর্ত আরোপ করতে থাকে শ্যাভেজ সরকার। ২০০৫ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রও ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে অবরোধ আরোপ শুরু করে। ২০০৭ সালে হুগো শ্যাভেজ সরকার যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান তেল কোম্পানি এক্সন মবিল ও তৃতীয় বৃহত্তম তেল কোম্পানি কনোকোফিলিপসের ভেনিজুয়েলায় থাকা সব সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে। ২ জানুয়ারি মধ্যরাতে আগ্রাসনের আগ পর্যন্ত ভেনেজুয়েলার কঠিন শর্ত মেনে যুক্তরাষ্ট্রের একটি মাত্র কোম্পানি শেভরন তেল উত্তোলন করত সেখানে।

ভেনেজুয়েলা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের তেল কোম্পানিগুলোকে বের করে দেওয়ায় সেখানে তাদের বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ ভেস্তে যায়। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ভেনেজুয়েলার তেলশিল্প ও তেল অবকাঠামো মূলত গড়ে তুলেছে তারা। সে কারণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ‘ভেনেজুয়েলার তেল আমাদের। তারা আমাদের তেল চুরি করছে। এটা ছিল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় চুরি। এর আগে কেউ এভাবে আমাদের সম্পদ চুরি করতে পারেনি। তারা আমাদের তৈরি অবকাঠামো দখল করেছে এবং সেগুলো নষ্ট হয়ে গেছে।’

ভেনেজুয়েলায় আগ্রাসন ও প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে তুলে আনার অন্যতম কারণ দেশটির তেলসম্পদ ও দেশটির অদূরদর্শী নেতৃত্ব। তবে আগ্রাসনের অজুহাত হিসেবে সামনে রাখা হয়েছে মাদক পাচার ইস্যু। ভেনেজুয়েলায় আগ্রাসনের আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ‘ভেনেজুয়েলার তেল আমাদের চাই।’ ভেনেজুয়েলায় আগ্রাসন সফল হওয়ার পরপরই ট্রাম্প বলেছেন, ‘আমাদের তেল কোম্পানিগলো ভেনেজুয়েলায় প্রবেশ করবে। তারা সেখানে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে তেল উত্তোলনের জন্য। এর মাধ্যমে সেখানে তেল অবকাঠামো আধুনিকায়ন করবে এবং ভেনেজুয়েলা আবার ধনী দেশে পরিণত হবে।’ ট্রাম্প বলেছেন, ‘আমরা এখন ভেনেজুয়েলায় তেলের ব্যবসা শুরু করছি। আমাদেরই নিয়ন্ত্রণে থাকবে দেশটির জ্বালানি তেল।’

বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি মন্ত্রনালয় এক ঘোষণায় জানানো হয়েছে এখন থেকে ভেনেজুয়েলার সমস্ত জ্বালানি তেল বিক্রির কাজ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রন করবে তারা।

ভেনেজুয়েলা

ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনের মাধ্যমে নামেমাত্র জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক রুল বেজড যে বিশ্বব্যবস্থা ছিল, তা সবই অকার্যকর আর ভেঙে খান খান হয়ে গেছে। ভেনেজুয়েলায় আগ্রাসনের মাধ্যমে বিশ্বকে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে এমন এক আদিম যুগে, যেখানে শুধু গায়ের জোরই সবকিছুর নির্ধারক। এ ঘটনার মাধ্যমে ‘জোর যার মুলুক তার’ কথাটির বাস্তবতা দেখল বিশ্ব। প্রাচীনকালে শক্তিশালী রাজারা প্রতিবেশী দুর্বল রাজ্য দখল করে রাজ্যের সীমানা বৃদ্ধি করত। এই দখলদারিত্ব থেকে রক্ষার জন্য অনেক দুর্বল দেশের রাজা শক্তিশালী রাজার বশ্যতা স্বীকার করত বার্ষিক নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ বা সম্পদ দেওয়ার মাধ্যমে। ১৫০০ শতক থেকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগ পর্যন্ত ইউরোপিয়ান বিভিন্ন ঔপনিবেশিক শক্তি এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার প্রায় সব দেশ শক্তির জোরে দখল করে নেয়। ভেনেজুয়েলায় আগ্রাসনের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকে আবার যেন ফিরিয়ে নিতে চাইছে সেই প্রাচীন আর ইউরোপিয়ান ঔপনিবেশিক আগ্রাসনের যুগে। এ ঘটনার মাধ্যমে বিশ্বকে এমন এক অবস্থায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে, যেখানে দুর্বলের টিকে থাকার উপায় হলো শক্তিমানের কাছে নিজেকে সমর্পণ করা বা আনুগত্য স্বীকার করা। ভেনেজুয়েলার পর গ্রিনল্যান্ডও দখলে নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে হোয়াইট হাউস থেকে।

বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে বর্তমানে শক্তিশালী আগ্রাসী প্রতিবেশী দেশের কাছে অসহায় অবস্থায় রয়েছে অনেক দুর্বল দেশ। তাছাড়া বিতর্কিত বিভিন্ন অঞ্চল জোর করে দখলে রেখেছে অনেক শক্তিশালী দেশ এবং চালিয়ে যাচ্ছে নিপীড়ন। ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসন বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে আরো অনেকের জন্য এ ধরনের আগ্রাসন এবং শক্তি প্রয়োগের ক্ষেত্রে উদ্দীপনা জোগাবে এবং অবৈধ দখলদারিত্বকে বৈধতা দিচ্ছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধকে যুক্তরাষ্ট্রসহ সব পশ্চিমা বিশ্ব রাশিয়ার আগ্রাসন হিসেবে আখ্যায়িত করে আসছে। যুক্তরাষ্ট্রসহ কোনো পশ্চিমা দেশের আর নৈতিক কোনো অধিকার নেই ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন নিয়ে কোনো কথা বলার।

ভেনেজুয়েলা বিশ্বের সবচেয়ে বেশি মজুত জ্বালানি তেলের মালিক কিন্তু দেশটি সামরিক শক্তিতে অতিশয় দুর্বল। ভেনেজুয়েলার উল্লেখ করার মতো ফাইটার জেট হলো রাশিয়ার তৈরি এসইউ-৩০ এবং এর সংখ্যা মাত্র পাঁচটি। সাগরতীরে অবস্থিত ভেনেজুয়েলা কিন্তু দেশটির নেই কোনো নৌশক্তি। দুটি ডিজেল-ইলেকট্রিকচালিত সাবমেরিন, একটি মিনি সাবমেরিন আর একটি মাত্র ফ্রিগেট দেশটির মূল রণতরী। রাশিয়ার তৈরি দুটি মাত্র এস-৩০০ মিসাইল সিস্টেম ও কিছু মাঝারি পাল্লার মিসাইল দেশটির এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম। এর পাশাপাশি কিছু ট্যাংক আর মাল্টিপল রকেট লঞ্চিং সিস্টেম ছাড়া দেশটির উল্লেখ করার মতো কোনো সমরাস্ত্র নেই। ফলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের একজন সেনারও জীবনহানি ছাড়া আগ্রাসন চালিয়ে ধরে নিয়ে গেছে দেশটির প্রেসিডেন্টকে।

ভেনেজুয়েলা শুধু যে সামরিকভাবে অতিশয় দুর্বল তাই নয়, বরং তাদের নেতৃত্বের ব্যর্থতাও দায়ী দেশটির আজকের এ পরিণতির জন্য। দেশটির অদূরদর্শী, হঠকারী নেতৃত্ব একের পর এক ভুল পদক্ষেপ আর ফাঁকা বুলির মাধ্যমে যে পরিমাণ যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশের ক্রোধ অর্জন করেছে, তার বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রের আক্রোশ মোকাবিলার ন্যূনতম কোনো আয়োজনই ছিল না তাদের। দেশটি তাদের তেল ব্যবসা থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে বের করে দিয়েছে কিন্তু নিজেরাও এ খাতে কিছু করতে পারেনি। যেখানে আগে দৈনিক ৩৭ লাখ ব্যারেল তেল উত্তোলন হতো, সেখানে তা শেষ পর্যন্ত নেমে আসে দৈনিক চার লাখ ব্যারেলে। তার ওপর দেশটির নির্বাচনব্যবস্থাসহ গুরুত্বপূর্ণ সব রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান কুক্ষিগত ও অকার্যকর করাসহ দুর্নীতি ও লুটপাট ছিল সাধারণ চিত্র। এর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বাত্মক অবরোধ দেশটিকে রসাতলে নিয়ে গেছে গত কয়েক দশকে।

সামরিক শক্তিসহ সব দিক দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দেশটির আকাশ আর জমিনের ব্যবধান থাকার পরও ভেনেজুয়েলার দু্ই বামপন্থি প্রেসিডেন্ট হুগো শ্যাভেজ এবং তার উত্তরসূরি নিকোলাস মাদুরো যে মাত্রায় নিজেদের যুক্তরাষ্ট্রের শত্রুতে পরিণত করেছেন, তা কতটা সঠিক ছিল, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। নিজেদের কোনো শক্তি না থাকার পরও মিথ্যা দম্ভ আর জেদ প্রদর্শন করে এর আগে ইরাক ও লিবিয়াকে ধ্বংস করেছেন এ দুই দেশের প্রেসিডেন্ট যথাক্রমে সাদ্দাম হোসেন ও মোয়াম্মার গাদ্দাফি। একইভাবে শুধু জেদ আর প্রবল রাশিয়াবিরোধী উগ্রবাদী প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির কারণে ধ্বংস হয়ে গেছে ইউক্রেনের মতো একটি সুন্দর দেশ। বস্তুত যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশের কোপানল থেকে নিজেদের দেশকে রক্ষার জন্য যে ধরনের দূরদর্শী নেতৃত্ব, দক্ষ কূটনীতি আর কৌশলের প্রয়োজন ছিল, তার বিন্দু পরিমাণ ছিল না এই স্বৈরাচারী শাসকদের।

তারপরও ভেনেজুয়েলার অদূরদর্শী শাসকবর্গ যুক্তরাষ্ট্রকেই যতই উসকানি দিক আর ক্ষেপিয়ে তুলুক না কেন, যুক্তরাষ্ট্রের উচিত হয়নি দেশটিতে আগ্রাসন পরিচালনা। সন্দেহের কোনোই অবকাশ নেই, যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশের প্রশাসন চাইলে কূটনৈতিকভাবে এর সমাধান করতে পারত। বস্তুত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার দ্বিতীয় মেয়াদের শাসনামল থেকে বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্র ও পৃথিবীর নতুন অধ্যায়, নতুন একটি বিশ্বব্যবস্থার সূচনা করতে চেয়েছেন। আর তিনি হতে চেয়েছেন নতুন এই অধ্যায় ও ইতিহাস সূচনার নায়ক যাকে যুগ যুগ ধরে স্মরণ করবে বিশ্ব। এরই প্রথম বলি হলো ভেনেজুয়েলা। এখন থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন এ অধ্যায় ট্রাম্প-পরবর্তী যুগ হিসেবে ইতোমধ্যে লেখা হয়ে গেছে ভবিষ্যৎ পৃথিবীর জন্য। গত ৫ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলপত্র প্রকাশের পরপরই আশঙ্কা করা হয়েছিল, ট্রাম্প বর্তমান বিশ্বব্যবস্থা ভেঙে চুরমার করে দিতে যাচ্ছেন। এক মাস পার না হতেই তার বাস্তবতা দেখল বিশ্ব।

বর্তমানে জ্বালানিসহ বিভিন্ন খনিজসম্পদই শুধু একটি দেশের মূল্যবান সম্পদ নয়। বরং ভৌগোলিক অবস্থান, বিপুল জনশক্তিসহ নানা কারণে এখন একটি দেশ আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। শিকার হতে পারে আন্তর্জাতিক বড় শক্তিগুলোর আধিপত্য বিস্তারকেন্দ্রিক প্রতিযোগিতার এবং নানা ধরনের টানাপোড়েনের। এ অবস্থায় এ ধরনের সম্ভাবনাময় একটি দেশের যেমন সামরিক শক্তিতে শক্তিশালী হওয়া অপরিহার্য, তেমনি থাকতে হয় দূরদর্শী শাসক আর দক্ষ কূটনীতি। আর এটা অনেক ক্ষেত্রেই অসম্ভব যদি দেশটিতে সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা না থাকে এবং গুরুত্বপূর্ণ সব প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির ব্যবস্থা না থাকে।

ভেনেজুয়েলায় আগ্রাসনের ঘটনা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে সামরিক শক্তিতে শক্তিশালী হওয়া এবং কূটনৈতিক দক্ষতা অর্জন এখন বাংলাদেশের জন্য কতটা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। ভারতের মতো তীব্র বাংলাদেশবিদ্বেষী প্রতিবেশী দেশ হিসেবে বাংলাদেশের জন্য শুধু সামরিক শক্তিতে শক্ত অবস্থানই যথেষ্ট নয়। ন্যাটো আদলে চীন ও পাকিস্তানের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি করা এখন অতিশয় জরুরি হয়ে পড়েছে। কারণ ভারতের শীর্ষপর্যায়ে থেকে ঘোষণা করা হয়েছে বাংলাদেশের অস্তিত্ব তাদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি। ভারত মনে করে, স্বাধীন, সার্বভৌম, গণতান্ত্রিক আর শক্তিশালী বাংলাদেশ তাদের সেভেন সিস্টার্সকেন্দ্রিক ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষার ক্ষেত্রে বড় ধরনের হুমকি। সে কারণেই তারা পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশকে আলাদা করতে ষড়যন্ত্র ও যুদ্ধ পর্যন্ত করেছে। এরপর বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকেই ভারত বাংলাদেশকে একটি অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করার মাস্টারপ্ল্যান নিয়ে অগ্রসর হয়, যা সদা চলমান। বাংলাদেশকে তাই একটি প্রকৃত স্বাধীন, সার্বভৌম, শক্তিশালী দেশ হিসেবে টিকে থাকতে হলে ভারতের ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করেই টিকে থাকতে হবে। আর তাই এ ক্ষেত্রে নিজে শক্তি অর্জনের পাশাপাশি চীন ও পাকিস্তানের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি হতে পারে বড় ধরনের রক্ষাকবচ।

লেখক : সহকারী সম্পাদক, আমার দেশ

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন