ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর বদলে যাওয়া রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হলো ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও বিরোধী দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামী একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক দল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। নির্বাচনে জামায়াতের সাফল্য-ব্যর্থতা নিয়ে চলছে নানামুখী বিশ্লেষণ। নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর ফলাফল থেকে চমকপ্রদ—এমন সব তথ্য উঠে এসেছে, যা ভবিষ্যৎ রাজনীতির গতিপথ বুঝতে অনেকটা সহায়ক হবে বলে মনে করা যায়।
উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলে জামায়াতের প্রভাব
জামায়াতে ইসলামী রাজনৈতিক ইতিহাসে এবার প্রথমবারের মতো ৬৮টি আসনে বিজয়ী হয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে জাতীয় সংসদে ভূমিকা রাখতে যাচ্ছে। দলটি এককভাবে ভোট পেয়েছে ৩১ দশমিক ৭৬ এবং জোটবদ্ধভাবে প্রায় ৩৮ দশমিক ৫০ শতাংশ। জোটগতভাবে আসনসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৭টি। নির্বাচনে জামায়াত যে পরিমাণ ভোট পেয়েছে, সে তুলনায় আসন কম পেয়েছে।
জামায়াত জোট রংপুর বিভাগের ৩৩ আসনের মধ্যে ১৮টিতে বিজয়ী হয়েছে। রাজশাহী বিভাগের ৩৯ আসনের মধ্যে ১১টিতে এবং খুলনা বিভাগের ৩৬ আসনের মধ্যে ২৫টিতে জয়ী হয়েছে। এই তিন বিভাগ নিয়ে গঠিত দেশের পশ্চিমাঞ্চলের ১০৮টি আসনের ১০০টিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে এককভাবে ৫২টি আসনে জয় পেয়েছে দলটি। এই তিন বিভাগেই ছিল জামায়াতের বড় চমক।
দেশের অন্য যেসব বিভাগে জাতীয় সংসদের আসনসংখ্যা বেশি, সেসব বিভাগে জামায়াত ভালো ফল করতে পারেনি। আবার রংপুর বিভাগের বগুড়া, দিনাজপুর ও ঠাকুরগাঁওয়ে কোনো আসন পায়নি দলটি। বগুড়ায় আসন না পাওয়া অস্বাভাবিক না হলেও দিনাজপুর ও ঠাকুরগাঁওয়ে অতীতে জামায়াত আসন পেয়েছে। এবার সুবিধাজনক অবস্থানে থেকেও কোনো আসন পায়নি।
অবশ্য সংখ্যালঘু ভোটারদের সমর্থন পাওয়ার যে আশা জামায়াত করেছিল, তা সফল হয়নি বলেই মনে হয়। এই দুই জেলায় প্রায় ৩০ শতাংশ সংখ্যালঘু ভোট রয়েছে। এমনকি খুলনা অঞ্চলে দলটির একমাত্র সংখ্যালঘু প্রার্থীও পরাজিত হয়েছেন।
শহুরে মধ্যবিত্তের মধ্যে প্রভাব বেড়েছে
জামায়াতে ইসলামী অতীতের নির্বাচনে কখনো রাজধানীর কোনো আসনে বিজয়ী হতে পারেনি। এবার ঢাকা সিটি করপোরেশনের ১৫টি আসনের মধ্যে ৬টিতে বিজয়ী হয়েছে দলটি। এছাড়া জোটসঙ্গী জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) পেয়েছে ১টি আসন। সামান্য ব্যবধানে আরো ৪টি আসন হাতছাড়া হয়েছে। নিজেদের ইতিহাসে এবারই প্রথম ঢাকা মহানগরে আসন জিতেছে জামায়াত।
গণঅভ্যুত্থানের প্রভাব ও দুর্নীতিবিরোধী প্রচারের সুফল পেয়েছে দলটি। শহুরে মধ্যবিত্ত শ্রেণি জুলাইয়ের অভ্যুত্থানে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিল। তারা জামায়াতকে এই পরিবর্তনের একটি প্রধান শক্তি হিসেবে বিবেচনা করেছে। এনসিপির সঙ্গে জোট গঠনও আস্থা অর্জনে অনেকখানি এগিয়ে দিয়েছে। ফলে ঢাকায় চমক দেখাতে সক্ষম হয়েছে জামায়াত।
এছাড়া গাজীপুর ও ফরিদপুরে একটি করে আসনে জয়ী হয়েছে দলটি। এসব আসনপ্রাপ্তি থেকে বোঝা যায়, শহুরে মধ্যবিত্তের মধ্যে জামায়াতের প্রতি আস্থা বেড়েছে। এমনকি গুলশান-বনানীর মতো অভিজাত এলাকায় তারেক রহমান মাত্র চার হাজার ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন।
জামায়াত মনোযোগী হলে ঢাকাকেন্দ্রিক রাজনীতিতে আরো শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারে। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন ছাত্র সংসদ নির্বাচনে শিবিরের বিজয়ের প্রভাব রাজধানীর ভোটারদের ওপর পড়েছে। পলিসি সামিট ও ব্রেস্ট ক্যানসার-সচেতনতা কর্মসূচিসহ বিভিন্ন উদ্যোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের মাধ্যমে ঢাকার ভোটারদের প্রভাবিত করেছে। দলটি তাদের ইমেজ বাড়াতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে বেশ কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে পেরেছে।
চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে দুর্বলতা
জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম বিভাগ ও সিলেট বিভাগে উল্লেখ করার মতো কোনো আসন পায়নি। এসব এলাকায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) শুধু নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে ধরে রাখেনি, জামায়াতের প্রভাবাধীন এলাকাতেও আসন পেয়েছে।
কক্সবাজারের মহেশখালী ও টেকনাফের মতো এলাকাতেও জামায়াত আসন পায়নি, অথচ অতীতে একাধিকবার এই দুটি আসন পেয়েছে। চট্টগ্রামে ১৬টি আসনের মধ্যে মাত্র দুটিতে জয়ী হয়েছে জামায়াত। জোটসঙ্গী লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) অলি আহমদের ছেলেও পরাজিত হয়েছেন।
সিলেট বিভাগের ১৯টি আসনের মধ্যে ১১টিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেও একটিতেও জিততে পারেনি জামায়াত। চট্টগ্রাম বিভাগের ৫৮টি আসনের মধ্যে ৪২টিতে লড়ে মাত্র তিনটিতে জয়ী হয়েছে দলটি। অর্থাৎ দেশের পূর্বাঞ্চলের ৭৭টি আসনে জামায়াতের অর্জন মাত্র তিনটি আসন। সিলেট বিভাগে জোটসঙ্গী মাত্র একটি আসনে বিজয়ী হয়েছে।
চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলে জামায়াতের খারাপ ফলের একটি কারণ হতে পারে—এ অঞ্চলে কওমি আলেমদের ব্যাপক প্রভাব রয়েছে এবং তারা সরাসরি জামায়াতের বিরোধিতা করেছেন। এছাড়া মাজারপন্থি ও সংখ্যালঘু ভোটারদের সমর্থন না পাওয়ায় ভোটের ফলের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
আওয়ামী প্রভাবিত এলাকার ভোট
দেশের মধ্যাঞ্চল ও ময়মনসিংহ বিভাগÑটাঙ্গাইল এলাকায় জামায়াত তেমন কোনো আসন পায়নি। এসব এলাকা আওয়ামী লীগ-প্রভাবিত হিসেবে পরিচিত। জামায়াতের অনেক নেতা আশা করেছিলেন, এসব এলাকায় তারা কিছু আসন পাবেন।
ময়মনসিংহ বিভাগের ৩৮টি আসনের মধ্যে তিনটিতে, ঢাকা বিভাগের ৫৬টি আসনের মধ্যে আটটিতে এবং বরিশাল বিভাগের ২১টি আসনের মধ্যে দুটিতে জয়ী হয়েছে জামায়াত। এই তিন বিভাগ নিয়ে গঠিত মধ্যাঞ্চলের ১১৫টি আসনের মধ্যে ১৩টিতে জয় পেয়েছে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক। তবে প্রথমবারের মতো ময়মনসিংহ বিভাগে তিনটি আসনে জয়ী হয়েছে দলটি। এই জয়কে সাফল্য হিসাবে বিবেচনা করা যায়।
জামায়াত নেতাদের মতে, আওয়ামী লীগের ভোট একচেটিয়াভাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রতীক ধানের শীষে গেছে। ফলে সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও ময়মনসিংহ-৪, ৭ ও ১০, শেরপুর-১ এবং কিশোরগঞ্জ-১-এর মতো আসনে জিততে পারেনি জামায়াত জোট। এই বিভাগে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকার অনেক কেন্দ্রে জামায়াত প্রার্থী কার্যকর প্রতিদ্বন্দ্বিতায়ও ছিলেন না।
আওয়ামী লীগের দুর্গখ্যাত আসনগুলোতে জয় পেয়েছে বিএনপি। গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর, গাজীপুর, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ ও কিশোরগঞ্জের আসনগুলোয় একচেটিয়া জয়ের কারণে জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির আসন ব্যবধান অনেক বড় হয়েছে।
জামায়াত-ঝড়ে জাতীয় পার্টি
উত্তরাঞ্চলে জামায়াতের উত্থানে কার্যত ভরাডুবি হয়েছে জাতীয় পার্টির। বলা যায় রাজনীতির দৃশ্যপট থেকে বিলীন হয়ে গেলো দলটি। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের শাসনামল থেকে জাতীয় পার্টির দুর্গ হিসেবে পরিচিত রংপুর বিভাগে এবার লাঙ্গল প্রতীক কোনো আসনেই জয়ী হতে পারেনি। লালমনিরহাট বাদে এই বিভাগের বাকি ১৯টি আসনের মধ্যে ১৮টিতেই জিতেছে জামায়াত জোট। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের রংপুরের একটি আসনে তৃতীয় হয়েছেন। দলটির মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী গাইবান্ধার দুটি আসনে নির্বাচন করে একটিতে জামানত হারিয়েছেন।
নির্বাচনের আগে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের একটি মহল জাতীয় পার্টিকে প্রধান বিরোধী দল বানানোর পরিকল্পনা করেছিল—এমন গুঞ্জন ছিল। জাতীয় পার্টির এই বিপর্যয়কে জামায়াতের একটি বড় সাফল্য হিসেবে দেখা যেতে পারে।
নতুন নেতৃত্ব তৈরির পথ
জাতীয় নির্বাচনে বেশ কয়েকজন তরুণ শিবির নেতা বিজয়ী হয়েছেন। জামায়াতে ইসলামীতে তরুণ নেতৃত্বের প্রভাব আগামী দিনে বাড়বে বলে মনে করা যায়। এর মধ্যে শিবিরের সাবেক সাতজন সভাপতি—সাইফুল আলম খান মিলন, সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, রফিকুল ইসলাম খান, নুরুল ইসলাম বুলবুল, শফিকুল ইসলাম মাসুদ, মো. রাশেদুল ইসলাম এবং সালাহউদ্দিন আইয়ুবী নির্বাচিত হয়েছেন। ছাত্রশিবিরের সাবেক শীর্ষ নেতাদের মধ্যে একেবারে তরুণ কয়েকজন নেতা বিজয়ী হয়েছেন। এরমধ্যে কুড়িগ্রাম থেকে ব্যারিস্টার মাহবুব আলম সালেহী এবং বাগেরহাটে শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাদ জয়ী হয়েছেন। শিবিরের সাবেক নেতাদের এই নির্বাচিত হওয়া দলটির ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের গতিশীলতায় সহায়ক হতে পারে। তবে জুলাই আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া কোনো নেতাকে প্রার্থী করতে পারেনি জামায়াত। একই সময়ে জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া এনসিপির তরুণরা ভালো সাফল্য দেখিয়েছেন। সেখানে শিবিরের জুলাই আন্দোলনের নেতাদের নির্বাচন থেকে দূরে রাখা দলটির প্রার্থী নির্বাচনে দূর্বলতা হিসাবে দেখা যেতে পারে।
ডা. শফিকের গনমুখি নেতৃত্ব
নির্বাচনে সবচেয়ে বড় ক্যারিশমা দেখিয়েছেন জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান। জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক ইতিহাসে এমন গণমুখী চরিত্রের নেতা খুব কম দেখা গেছে। তিনি একটি ক্যাডারভিত্তিক রাজনৈতিক দলকে অনেকটা সাধারণ মানুষের দলে রূপান্তর করে দেশের প্রধান বিরোধী দলে পরিণত করেছেন। তার নির্বাচনি ভাষণে সমাজের মধ্যবিত্তের মধ্যে বিশেষ প্রভাব পড়েছে। যদিও নারী ইস্যুতে দেওয়া বক্তব্য কিছুটা বিতর্ক সৃষ্টি করেছিল। জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ ইসলামপন্থি কয়েকটি দলের সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়া তার রাজনৈতিক প্রজ্ঞার পরিচয় দেয়। জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া তরুণদের প্রতি তার বিশেষ ধরনের সহমর্মিতা আছে বলে মনে হয়েছে।
নির্বাচনের কিছুদিন আগে তারা বড় ধরনের অপারেশন হয়েছিল কিন্তু নির্বাচনি প্রচারে তিনি ছিলেন সাবলীল। নির্বাচনি প্রচারের বহু আগে থেকে তিনি দেশের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্ত সফর করেছেন। এই অভিজ্ঞতা তাকে অনেকখানি এগিয়ে নিয়ে গেছে।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে জামায়াতে ইসলামী সবসময় ছিল তৃতীয় প্রধান রাজনৈতিক শক্তি। ব্যাপক নিপীড়নের মধ্যে শেখ হাসিনার উৎখাতের আন্দোলনে দলটির ভূমিকা শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে, ছাত্রশিবিরের প্রভাব জনমানুষের ওপর পড়েছে। নির্বাচনে এর বড় সুফল পেয়েছে জামায়াতে ইসলামী। একসময়ের মিত্র বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এখন জামায়াতের প্রধান প্রতিপক্ষ। নির্বাচনি ফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, আওয়ামী লীগ নির্বাচনে না থাকা সত্ত্বেও বিএনপি সহজ জয় পায়নি। দুইশোর বেশি আসন পেলেও এবারের নির্বাচনে অন্তত ৫০টি আসনে জয়-পরাজয় নির্ধারিত হয়েছে মাত্র ১০ হাজারের কম ভোট ব্যবধানে। পাশাপাশি পাঁচ হাজারের কম ব্যবধানে জয়-পরাজয় নির্ধারিত হয়েছে ২১টি আসনে। রাজধানীর অন্তত ৪টি আসন মাত্র ১০ থেকে ১৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে হেরেছেন জামায়াত প্রার্থীরা। একইভাবে ঢাকা ও পাশের এলাকায় জামায়াতের জোটসঙ্গী এনসিপির প্রার্থীরা অল্প ব্যবধানে হেরেছেন। এনসিপি প্রার্থীদের বিজয়ী করতে জামায়াত নেতাকর্মীরা সর্বত চেষ্টা করেছেন। এই প্রার্থীরা জামায়াত নেতাকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন, যা ভবিষ্যতে জামায়াত ও এনসিপির মধ্যে সম্পর্ক সুদৃঢ় করতে বড় ভূমিকা রাখবে।
অতীতে জামায়াত বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের অংশ ছিল। সেই জোট থেকে দলটি সর্বোচ্চ ৩০টি আসনে নির্বাচন করে ১৮ টি আসনে বিজয়ী হয়েছিলো। এবার জামায়াতের নেতৃত্বে জোট গঠিত হয়েছে এবং জোটবদ্ধ দল থেকে ৯ জন সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এটি জোট রাজনীতির একটি সফল উদাহরণ হিসেবে দেখা যায়।
নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর জোট ৩৮ শতাংশ ভোট পেয়েছে। অতীতের নির্বাচনগুলোর ভোটপ্রাপ্তি বিশ্লেষণে করলে দেখা যায়, জামায়াতের ভোট ১২ থেকে ১৫ শতাংশের বেশি হওয়ার কথা নয়। সেখানে এই বিশাল ভোট এসেছে বিএনপি সমর্থকদের কাছ থেকে । বিএনপি প্রভাবিত নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুরে জামায়াত প্রার্থীরা বিজয়ী হতে না পারলেও ১০ থেকে ২০ হাজার ভোটের ব্যবধানে হেরে গেছেন। সংখ্যালঘু ও আওয়ামী সমর্থকদের বড় অংশের ভোট পেয়েছে বিএনপি। অর্থাৎ বিএনপির মূল ভোটব্যাংকে ভাঙন ধরেছে। সংখ্যালঘু ও আওয়ামী সমর্থকদের ভোট বাদ দিলে বিএনপি ও জামায়াতের ভোটের ব্যবধান আরো কমে আসে। সেদিক দিয়ে জামায়াতের এই বিশাল ভোটপ্রাপ্তি দলটির বড় আকারের উত্থান হিসেবে দেখা যায়। এনসিপি ও ইসলামপন্থি দলগুলোর সঙ্গে এই জোট টেকসই হলে আগামী দিনের ভোটের রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে। এছাড়া অল্প সময়ের মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর অভ্যন্তরে যে রূপান্তর ঘটছে, তার ধারাবাহিকতা থাকলে ভবিষ্যতে নির্বাচনি রাজনীতিতে দলটি বড় ধরনের সাফল্য অর্জন করতে পারে।
লেখক: সহযোগী সম্পাদক, আমার দেশ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

