আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

করুণ পরিণতির অপেক্ষায় আরব নেতারা

আলফাজ আনাম

করুণ পরিণতির অপেক্ষায় আরব নেতারা
আলফাজ আনাম

ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার সময় আরব নেতারা কল্পনাও করতে পারেননি যে এই যুদ্ধের মধ্যে পুরো আরব বিশ্ব ঢুকে পড়বে। আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির হত্যাকাণ্ড ছিল ইরানের জন্য ‘রেডলাইন’। ইরান যে এমন পরিস্থিতির জন্য দীর্ঘদিন ধরে সীমিত সামর্থ্যের মধ্যে প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিল, তা দুদিনের যুদ্ধেই স্পষ্ট হয়ে গেছে।

ইরানের যুদ্ধবিমান নেই, নেই শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা। ইরান জানে, বিমান হামলা মোকাবিলা করার মতো সামর্থ্য তার নেই। খুব দ্রুত সেই সক্ষমতা অর্জন করাও সম্ভব নয়। এ কারণে দেশটি বিশাল এক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের ভান্ডার গড়ে তুলেছে। ক্ষেপণাস্ত্রভিত্তিক অস্ত্রশক্তি এবং দেশটির কৌশলগত অবস্থান যুদ্ধের গতিপথ বদলে দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

স্বল্পসময়ে রেজিম চেঞ্জ করে নতুন শাসক তেহরানের সিংহাসনে বসবে বলে যে আশা করেছিলেন নেতানিয়াহু-ট্রাম্প—তা এখন দুস্বপ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে। ইরানের বিশাল এলাকা হয়তো ধুলায় মিশিয়ে দেওয়া যেতে পারে, কিন্তু ইরানের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন করা যে সহজ নয়, তা এখন অনেকটাই স্পষ্ট।

ইরানের বিপ্লবী সরকার ও সাধারণ জনগণ রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে ছয় হাজার বছরের সভ্যতার মর্যাদা রক্ষা করছে। অন্যদিকে প্রতিবেশী ধনী আরব দেশগুলোর শাসকরা ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা গ্যারান্টির আওতায় প্রতিটি আরব দেশে একাধিক সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করা হয়েছিল। কিন্তু ইরানের পাল্টা হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে এসব ঘাঁটি। বিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে কেনা এই নিরাপত্তা গ্যারান্টি কোনো আরব দেশকেই প্রকৃত নিরাপত্তা দিতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র।

সাইপ্রাস থেকে বাহরাইন পর্যন্ত প্রতিটি মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা হয়েছে। এসব ঘাঁটি ছেড়ে মার্কিন সৈন্যরা সরে গেছে। ফলে ইরানের সস্তা কামিকাজে ড্রোন ও স্বল্পমূল্যের ক্ষেপণাস্ত্রের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে এসব আরব দেশ। অথচ তাদের অস্ত্রভান্ডারে রয়েছে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান, আয়রন ডোম, টাইফুন যুদ্ধবিমান, প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রসহ বিভিন্ন ধরনের অত্যাধুনিক সমরাস্ত্র। সৌদি আরব বিশ্বের অন্যতম প্রধান অস্ত্র ক্রয়কারী দেশ। আরব আমিরাত, কাতার ও বাহরাইনের অবস্থানও প্রথম সারিতে। কিন্তু কোনো দেশের সুউচ্চ ভবন, বিমানবন্দর ও তেলক্ষেত্রই ইরানের হামলার বাইরে নয়। বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র ক্রয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা গ্যারান্টি কোনো কাজে আসছে না। একজন সৌদি কর্মকর্তা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের পরিত্যাগ করে ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিয়ে ব্যস্ত। বাস্তবতা হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র ইসরাইলের সুরক্ষা দিতেও হিমশিম খাচ্ছে পশ্চিমা বিশ্ব।

অনেক সামরিক বিশ্লেষক মনে করেন, এই যুদ্ধ সহসা থামবে না। ফলে আরব বিশ্বে এর প্রভাব পড়বে দীর্ঘমেয়াদি। হয়তো এই যুদ্ধের পর আমরা নতুন এক মধ্যপ্রাচ্য দেখব। মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিরক্ষা ও জ্বালানি নিরাপত্তায় আসবে বড় ধরনের পরিবর্তন। এমনকি আরব শাসকদের অর্থনৈতিক ও আভ্যন্তরীনভাবে বড় ধরনের চাপের মুখে পড়তে হবে।

মধ্যপ্রাচ্যে যেকোনো অস্থিরতা বা যুদ্ধ বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য উদ্বেগের কারণ। ভৌগোলিক দূরত্ব থাকলেও অর্থনৈতিক ও জ্বালানি নিরাপত্তার দিক থেকে আমরা সরাসরি মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরশীল। বাংলাদেশের অর্থনীতি দাঁড়িয়ে আছে প্রবাসী আয়ের ওপর। এই প্রবাসী আয়ের বেশির ভাগ আসে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আসে সৌদি আরব থেকে, এরপর আসে আরব আমিরাত ও কাতার থেকে।

কুয়েত থেকেও রেমিট্যান্সপ্রবাহের পরিমাণ একেবারেই কম নয়। মধ্যপ্রাচ্য থেকে প্রবাসী আয়ের প্রধান তিন দেশে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। ইতোমধ্যে এসব দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বেশ কিছু কর্মক্ষেত্র বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের এসব দেশে প্রায় ৫০ লাখ বাংলাদেশি নাগরিক কাজ করেন। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে তাদের কাজের সুযোগ কমে যাবে। আমদানি-রপ্তানিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে। এছাড়া আরব আমিরাতে অর্থনীতি বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে পারে।

সৌদি আরবে রয়েছে প্রায় ৩৫ লাখ বাংলাদেশি। এককভাবে বিশ্বের অন্য কোনো দেশে এত বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি নেই। সৌদি আরবের ‘ভিশন ২০৩০’-এর কারণে সেখানে নির্মাণ ও সেবা খাতে প্রচুর বাংলাদেশি কর্মীর চাহিদা তৈরি হয়েছে। বর্তমানে সাধারণ শ্রমিকদের পাশাপাশি দক্ষ কর্মী পাঠানোর হার বেড়েছে, যারা বেশি বেতন পান এবং বেশি টাকা দেশে পাঠাতে পারেন।

সৌদি আরবে থাকা মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার পাশাপাশি দেশটির তেলক্ষেত্রে ড্রোন হামলা হয়েছে। এসব হামলায় কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়, কারণ এসব দেশ হামলায় ক্ষতির খবর যতটা সম্ভব কম প্রকাশ করে। এখন পর্যন্ত সৌদি আরব ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখায়নি। তবে কাতার, বাহরাইন ও কুয়েত সম্মিলিতভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধে অংশ নিতে পারে। এতে পরিস্থিতি আরো জটিল হতে পারে, কারণ ইরান তখন দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে নামতে পারে। এসব দেশে রয়েছে বিপুলসংখ্যক শিয়া নাগরিক, যারা ইরানের পরাজয় স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করবে না। নিশ্চিতভাবে, দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ হলে সামরিক স্থাপনাগুলো ও জ্বালানি অবকাঠামো আরো বেশি হামলার শিকার হবে।

যুদ্ধকবলিত দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হলে প্রবাসীদের বেতন কমে যেতে পারে বা অনেককে দেশে ফিরে আসতে হতে পারে, যা বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এমন পরিস্থিতিতে প্রবাসীদের জন্য এসব দেশে অবস্থান করা কঠিন হয়ে উঠতে পারে। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে কোনো বিদেশি নাগরিক এসব দেশে থাকতে চাইবে না। যদি বাংলাদেশিদের এসব দেশ ছাড়তে হয়, তাহলে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের প্রধান খাতেও বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসতে পারে।

বাংলাদেশ তার প্রয়োজনীয় জ্বালানি তেলের একটি বড় অংশ মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানি করে। যুদ্ধ শুরু হলে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হয়, যার ফলে জ্বালানির দাম হু-হু করে বেড়ে যায়। জ্বালানির দাম বাড়লে দেশে পণ্য পরিবহন এবং কৃষি উৎপাদনের খরচ বেড়ে যাবে, যা সরাসরি সাধারণ মানুষের ওপর মুদ্রাস্ফীতি হিসেবে প্রভাব ফেলবে। বিশ্বের জ্বালানি পরিবহনের বড় অংশ ইরানের নিয়ন্ত্রণে থাকা হরমুজ প্রণালি দিয়ে। ইতোমধ্যে ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছেন।

Arab

ইরানের এই সিদ্ধান্ত বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের বাজারে চরম অস্থিরতা তৈরি করেছে। জ্বালানি তেল ও এলপিজি গ্যাসের দাম যেভাবে বেড়ে যাচ্ছে, তা গরিব দেশগুলোর জন্য ভয়াবহ এক অশনিসংকেত। এর মধ্যে জ্বালানির ক্ষেত্রে বড় আঘাত এসেছে কাতার থেকে। দেশটির প্রধান গ্যাসক্ষেত্রে ড্রোন হামলার চেষ্টা হলে কাতার গ্যাস উৎপাদন বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে। এরপর ইউরোপে গ্যাসের দাম ৫০ শতাংশ বেড়ে গেছে। ইউক্রেন যুদ্ধের পর রাশিয়ার পরিবর্তে ইউরোপের দেশগুলো কাতার থেকে চাহিদার বড় অংশের গ্যাস কিনে থাকে।

ইরানে হামলার পর থেকে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম ঊর্ধ্বমুখী। হরমুজ ও ওমান উপকূলে একাধিক তেল ট্যাংকারে হামলার পর তা আরো বেড়ে যেতে পারে। এই যুদ্ধের কারণে শুধু হরমুজ প্রণালি নয়, হুতিদের নিয়ন্ত্রণের কাছাকাছি থাকা বাব আল মান্দেব প্রণালির ওপরও হুমকি দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মক বিপর্যয়ের মধ্যে পড়তে পারে। শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের বহু দেশ সৌদি আরবসহ আরব দেশগুলোর তেল ও কাতারের জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল। ফলে বিশ্ববাজারে উৎপাদিত প্রতিটি পণ্যের দাম বেড়ে যেতে পারে। বাংলাদেশের জন্য এটি বড় সংকট হয়ে দাঁড়াতে পারে।

আরব আমিরাত ও বাহরাইনে হামলার ফলে পুরো মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনীতি হুমকির মুখে পড়েছে। এ দুই দেশ ইসরাইলের সঙ্গে প্রথম সম্পর্ক স্বাভাবিক করার নীতি গ্রহণ করে। ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সঙ্গে এ দুই দেশের রয়েছে নিবিড় সম্পর্ক। ইরানের কাছাকাছি অবস্থানের কারণে ইরান সহজে হামলা করতে সক্ষম হচ্ছে। এমনকি ইরানের বিখ্যাত শাহেদ কামিকাজে ড্রোন ব্যবহার করে এই দুদেশে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করতে পেরেছে। এই মুহূর্তে ইরানের কৌশল হচ্ছে ‘ডু অর ডাই’, যেহেতু তার প্রথাগত সামরিক শক্তি ধ্বংস হয়ে গেছে। ইরান এখন দীর্ঘমেয়াদিভাবে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর ওপর আঘাত হানবে। এই অঞ্চলের জ্বালানি ব্যবহারে বাধা দেওয়া হবে ইরানের অন্যতম কৌশল।

শুধু জ্বালানি বা প্রবাসী নাগরিকদের কারণে বাংলাদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে না; মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্যের ওপরও মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। বাংলাদেশ বর্তমানে ইউরোপ ও আমেরিকায় পণ্য পাঠানোর জন্য সুয়েজ খাল ব্যবহার করে। মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা বাড়লে নৌপথ অনিরাপদ হয়ে পড়ে। জাহাজগুলোকে দীর্ঘ পথ ঘুরে যেতে হয়, যার ফলে আমদানি-রপ্তানি পণ্যের ভাড়া বা ফ্রেইট কস্ট কয়েকগুণ বেড়ে যায়। এতে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা কমে যেতে পারে। যুদ্ধের কারণে বাংলাদেশের প্রধান দুটি প্রবাসী আয়ের উৎসের একটি, অর্থাৎ তৈরি পোশাক খাতও, হুমকির মুখে পড়তে পারে।

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত যদি বৈশ্বিক রাজনীতিকে মেরূকরণের দিকে নিয়ে যায়, তার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের সংকট দেখা দিতে পারে, যা বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে।

অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, এবারের যুদ্ধ অন্য সময়ের যুদ্ধের চেয়ে ব্যতিক্রমী। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের রেজিম চেঞ্জ বা শাসক পরিবর্তনের কথা বললেও, এই কাজ মোটেও সহজ নয়। ভূকৌশলগত দিক থেকে ইরান অনেক সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। ইরাকের মতো ইরানে সেনা পাঠানো কোনো অবস্থাতেই সম্ভব হবে না এবং যুক্তরাষ্ট্রের সে ধরনের কোনো পরিকল্পনাও নেই। যুক্তরাষ্ট্রের কৌশল হচ্ছে ইরানের নেতাদের হত্যা করা, দেশটির বিপ্লবী গার্ডকে ধ্বংস করা এবং একটি পুতুল সরকার বসানো। কিন্তু সেই কাজ ততটা সহজ হবে না। ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল তা বুঝতে পেরেছে। এখন বলা হচ্ছে রেজিম চেঞ্জ নয় ইরানের পারমানবিক ও মিসাইল প্রকল্প ধ্বংস করা এই আক্রমনের লক্ষ্য। ইরানের নেতারা তাদের প্রশিক্ষিত বাহিনী ছড়িয়ে দিয়ে দীর্ঘমেয়াদিভাবে যুদ্ধ চালাবে।

ইরানে প্রায় ১০ কোটি মানুষ রয়েছে, যাদের একটি বড় অংশ জীবনভর তাদের প্রজাতন্ত্রকে রক্ষা করবে। মাদুরোকে অপহরণের কয়েক দিন পর, খামেনি তার পূর্বসূরি ও পিতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যিদ রুহুল্লাহ মুসাভি খোমেনির মাজারে গিয়েছিলেন। এই ঘটনার পর তিনি হয়তো বুঝেছিলেন, সামনে কী সময় আসছে এবং ইরানকে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত করেছিলেন। তিনি বাশার আল-আসাদ বা হাসিনার মতো পালিয়ে যাওয়ার কথা ভাবেননি। তিনি জানতেন, ৮৬ বছর বয়সে তার মৃত্যু ইরানিদের আরো বেশি ঐক্যবদ্ধ করবে।

খামেনির হত্যাকাণ্ড ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সমর্থকদের মনোবল ভাঙেনি; বরং এটিকে শাহাদতের মর্যাদায় ভূষিত করে তাদের সংকল্পকে আরো দৃঢ় করেছে। ইরানের ক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইলের কাছে জয়ের কোনো বাস্তবসম্মত কৌশল নেই। ইসরাইলের পরিকল্পনা হলো ইরানকে আরেকটি গাজা বানানোর চেষ্টা করা। তারা হয়তো বিপুলসংখ্যক মানুষকে হত্যা করতে পারে, কিন্তু ইরানি দেশপ্রেম ও ইচ্ছাশক্তিকে ভাঙতে পারবে না।

ইরানের নেতারা জানিয়ে দিয়েছেন, ইসলামি রেভল্যুশনারি বাহিনীকে তারা নির্দেশ দিয়েছে স্বাধীন ভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে। ইরান কোনো ছোট দেশ নয়; দেশটির প্রতিটি প্রদেশের সামরিক নেতৃত্ব এখন স্বাধীনভাবে সামরিক পদক্ষেপ নিচ্ছে। ইতোমধ্যে তারা হাইপারসনিকসহ নতুন ধরনের মিসাইল ব্যবহার করছেন, যা আগে কখনো ব্যবহার করা হয়নি। স্বাভাবিকভাবেই ইরানের সামরিক নেতৃত্ব দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের পথে হাঁটবে, কারণ তাদের হারানোর কিছু নেই। ইরান একটি অসম শক্তির সঙ্গে যুদ্ধ করছে; গোটা পশ্চিমা ও আরব বিশ্ব একটি দেশের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। ইরানের মজুতকৃত মিসাইল ও ড্রোনের কার্যকারিতা কিছুটা কমে আসবে, কারণ বিমান হামলায় অনেক মিসাইল লঞ্চার ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। তবু ইরান আত্মসমর্পণ না করে শত্রুকে বেদনাদায়ক শিক্ষা দিতে চাইছে। এই শিক্ষার ফল কেমন হবে, তা এখন দেখার বিষয়।

লেখক : সহযোগী সম্পাদক, আমার দেশ

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন