মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার মধ্যেও পাকিস্তানে বেড়েছে বিদেশি পর্যটক

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার মধ্যেও পাকিস্তানে বেড়েছে বিদেশি পর্যটক

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও জ্বালানির দামের ওঠানামার মধ্যেও পাকিস্তানের গিলগিট-বালতিস্তানে বিদেশি পর্বতারোহী ও ট্রেকারদের সংখ্যা বেড়েছে। চলতি বছরের এপ্রিল থেকে আগস্ট পর্যন্ত ২ হাজার ২০০ জনের বেশি বিদেশি অভিযাত্রী অঞ্চলটি ভ্রমণ করেছেন।

গিলগিট-বালতিস্তান পর্যটন বিভাগের উপপরিচালক সাজিদ হুসেইনের তথ্য অনুযায়ী, বিদেশি পর্যটকরা বিশ্বের কয়েকটি সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ জয় এবং দুর্গম এলাকায় ট্রেকিংয়ের জন্য সেখানে গেছেন। এর মধ্যে রয়েছে বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ শৃঙ্গ কে-টু, নাঙ্গা পর্বত, ব্রড পিক, গ্যাশারব্রুম-১ ও গ্যাশারব্রুম-২।

বিজ্ঞাপন

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চলতি বছর বসন্ত, গ্রীষ্ম ও শরৎ মৌসুম মিলিয়ে গিলগিট-বালতিস্তানের বিভিন্ন পর্যটন এলাকা ও উন্মুক্ত অঞ্চলে বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়াতে পারে। উন্মুক্ত পর্যটন এলাকায় বিদেশিদের জন্য বিশেষ অনুমতিরও প্রয়োজন হয় না।

গত বছরের তুলনায় এবার বিদেশি অভিযাত্রীর সংখ্যা বেড়েছে। পর্যটন কর্মকর্তার মতে, গত বছর ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যুদ্ধ এবং জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে গিলগিট-বালতিস্তানে দেশি-বিদেশি পর্যটকের আগমন কমে গিয়েছিল।

এবার পর্বতারোহণের মৌসুম শেষ হলেও ট্রেকারদের যাতায়াত অব্যাহত রয়েছে। কে-টু বেস ক্যাম্পের মতো দুর্গম পথেও পর্যটকরা যাচ্ছেন। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অক্টোবর পর্যন্ত ট্রেকারদের আগমন অব্যাহত থাকবে। চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত অভিযান ও ট্রেকিংয়ের অনুমতিপত্র থেকে গিলগিট-বালতিস্তান সরকার প্রায় ৩৫ কোটি পাকিস্তানি রুপি আয় করেছে।

আলপাইন ক্লাব অব পাকিস্তানের সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল ইরফান আরশাদ খান বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের অনিশ্চয়তা, জ্বালানির দামের ওঠানামা ও অন্যান্য প্রতিকূলতার মধ্যেও বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা বৃদ্ধি আশাব্যঞ্জক। পর্যটনের মাধ্যমে স্থানীয় পোর্টার, হোটেল মালিক, পরিবহন ব্যবসায়ী ও দোকানদাররা সরাসরি লাভবান হন।

তাঁর মতে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে অনেক দেশ তাদের নাগরিকদের পাকিস্তান ভ্রমণে সতর্কতা জারি করেছিল। বিদেশি পর্বতারোহী ও ট্রেকারদের অনুমতিপত্র দিতেও বিলম্ব হয়েছে। এসব সমস্যা না থাকলে এবার বিদেশি অভিযাত্রীর সংখ্যা ২ হাজার ২০০-এর চেয়েও বেশি হতে পারত। আগামী বছর ৪ হাজারের বেশি বিদেশি পর্বতারোহী ও ট্রেকার গিলগিট-বালতিস্তানে আসতে পারেন বলে আশা করা হচ্ছে।

তবে বড় পর্বতশৃঙ্গগুলোতে সাফল্যের হার এখনো কম। তুষারধস, পাথরধস, প্রচণ্ড বাতাস এবং উচ্চতার অনিশ্চিত আবহাওয়া পর্বতারোহীদের জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে রয়েছে।

সূত্র: ডন

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন