জলাবদ্ধতায় দুর্ভোগ

কেন্দুয়ায় ড্রেন নির্মাণে বাধা অপরিকল্পিত ভবন নির্মাণ

কেন্দুয়ায় ড্রেন নির্মাণে বাধা অপরিকল্পিত ভবন নির্মাণ
ছবি: আমার দেশ

নেত্রকোনা কেন্দুয়া পৌরসভার পশ্চিম শান্তিবাগ মহল্লায় দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন বাসিন্দারা। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়ক ও বসতবাড়িতে পানি জমে যায়। পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ আরও বাড়ে। এ অবস্থায় জরুরি ভিত্তিতে ড্রেন নির্মাণ এবং বিধিবহির্ভূত স্থাপনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

এ দাবিতে সোমবার কেন্দুয়া পৌর প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেন পশ্চিম শান্তিবাগ মহল্লার বাসিন্দারা। আবেদনে বলা হয়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবনের পশ্চিম পাশে অবস্থিত এ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নেই। সামান্য বৃষ্টি হলেই বিভিন্ন বাসাবাড়ি ও সড়কে পানি জমে স্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এতে মশার উপদ্রবসহ পানিবাহিত রোগের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এলাকাবাসীর অভিযোগ, পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও রাস্তার পাশে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় কাজটি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এর মধ্যে কয়েকটি স্থানে পৌর বিধি না মেনে স্থায়ী পাকা স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। ফলে ড্রেন নির্মাণের পাশাপাশি ভবিষ্যতে সড়ক সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা। আবেদনে মাহমুদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ইকবাল মাস্টারের বিরুদ্ধে পৌর বিধি অনুসরণ না করে ভবন নির্মাণের অভিযোগ করা হয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, এর আগেও ভবন নির্মাণ নিয়ে অভিযোগ উঠলে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রিফাতুল ইসলাম কাজ বন্ধের নির্দেশ দেন এবং এক লাখ টাকা জরিমানা করেন। তবে বর্তমান ইউএনও সানজিদা চৌধুরী যোগদানের পর পুনরায় ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ তাদের। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ইকবাল মাস্টার বলেন, ‘আমি পৌর বিধি মেনেই বাসার কাজ করছি। পৌরসভায় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়া আছে। প্রয়োজনে পৌরসভায় যোগাযোগ করে বিষয়টি যাচাই করে দেখতে পারেন।’

কেন্দুয়া পৌরসভার উপসহকারী প্রকৌশলী রাজু আহমেদ বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর ভবন নির্মাণের কাজ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর আগেও এ বিষয়ে অভিযোগ হয়েছিল এবং তখন ইকবাল মাস্টারকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছিল।

পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিদা চৌধুরী বলেন, ‘লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। সরেজমিনে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এলাকাবাসী দ্রুত পশ্চিম শান্তিবাগ পরিদর্শন করে পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেন নির্মাণ এবং বিধিবহির্ভূত স্থাপনার বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া হলে দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা ও জনদুর্ভোগ কমার পাশাপাশি ভবিষ্যতে পৌরসভার সড়ক সম্প্রসারণও সহজ হবে।

এমএইচ

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন