দেশ পুনর্গঠনে সব দলের সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব চান প্রধানমন্ত্রী: নজরুল ইসলাম

দেশ পুনর্গঠনে সব দলের সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব চান প্রধানমন্ত্রী: নজরুল ইসলাম

দেশ পুনর্গঠনের বিষয়ে জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কাছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব চেয়েছেন বলে জানিয়েছেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান।

তিনি বলেন, দেশের সমস্যা সমাধানে সরকার কোনো অনমনীয় অবস্থানে নেই। দেশ পুনর্গঠনে সব রাজনৈতিক দল, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবীদের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট পরামর্শ নিতে সরকার আগ্রহী।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান মরহুম কাজী জাফর আহমেদের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, দেশের সমস্যা সমাধানে সরকার কোনো ‘রিজিড’ বা অনমনীয় অবস্থানে নেই। দেশ পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলসহ সংশ্লিষ্ট সবার সুনির্দিষ্ট পরামর্শ নিতে সরকার আগ্রহী।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কাছে দেশ পুনর্গঠনে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব চেয়েছেন। সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে বিভিন্ন পক্ষের পরামর্শ ও প্রস্তাব বিবেচনায় নিয়ে দেশের বিদ্যমান সমস্যাগুলোর সমাধান করা।

নজরুল ইসলাম খান আরও বলেন, শুধু রাজনৈতিক দল নয়, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবীদের কাছ থেকেও সুনির্দিষ্ট পরামর্শ নিতে সরকার আগ্রহী। দেশের মানুষের দুর্ভোগ কমাতে এবং দেশকে এগিয়ে নিতে পারস্পরিক সহযোগিতা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, সরকার কোনো নির্দিষ্ট অবস্থানে অনড় না থেকে দেশের স্বার্থে কার্যকর প্রস্তাব ও পরামর্শ গ্রহণ করতে প্রস্তুত।

প্রশাসনের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে নজরুল ইসলাম খান বলেন, গত ১৭ বছরে দেশের প্রশাসনকে ‘ধ্বংস’ ও ‘পলিউটেড’ করে ফেলা হয়েছে। দলীয় ও আঞ্চলিক বিবেচনায় অযোগ্যদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হয়েছে এবং যোগ্যদের বিদায় করা হয়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার ভঙ্গুর অর্থনৈতিক অবস্থা ও অগোছালো প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ে কাজ শুরু করেছে। গত ১৭ বছরের ‘জঞ্জাল’ পরিষ্কার করে প্রশাসনকে পুনর্গঠন করতে কিছুটা সময় প্রয়োজন। এ জন্য দেশবাসীকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, সরকারের মূল লক্ষ্য জনদুর্ভোগ কমানো এবং সমস্যার সমাধান করা। রাজনৈতিক উসকানি বা প্ররোচনার পরিস্থিতিও প্রধানমন্ত্রী শান্তভাবে মোকাবিলা করছেন।

স্মরণসভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী মোস্তফা জামাল হায়দার।

স্মরণসভায় আরও বক্তব্য দেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব কাজী মো. নাহিদ, কো-চেয়ারম্যান আহসান হাবীব লিংকন, নওয়াব আলী আব্বাস খান, প্রেসিডিয়াম সদস্য মোস্তফা জুবায়ের হায়দার ও সেলিম মাস্টার, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান শামসুদ্দিন পারভেজ, জমিয়তে উলামায়ে বাংলাদেশ-এর মহাসচিব মহিউদ্দিন একরাম, জাতীয় পার্টির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এ এস এম শামীম, যুগ্ম মহাসচিব কাজী মোহাম্মদ নজরুল, প্রয়াত কাজী জাফর আহমেদের কন্যা কাজী জয়া, চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি আব্দুল্লাহ চৌধুরী পাশা, জাতীয় যুব সংহতির আহ্বায়ক নিজাম উদ্দিন সরকার, জাতীয় স্বেচ্ছাসেবক পার্টির আহ্বায়ক মামুন আসিফ ভূঁইয়া, জাতীয় ছাত্র সমাজের আহ্বায়ক কাজী ফয়েজ আহমেদ ও সদস্য সচিব মেহেদি হাসান অভি প্রমুখ।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন