চলতি বছর জার্মানিতে অধিক তাপমাত্রার কারণে প্রায় ১৫ হাজার ৮০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। গত ১০ বছরের যেকোনো বছরের তুলনায় এ সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক হিসাব থেকে এ তথ্য জানিয়েছে বার্লিনভিত্তিক রবার্ট কচ ইনস্টিটিউট (আরকেআই)। খবর আনাদোলুর।
জার্মানির জাতীয় জনস্বাস্থ্য সংস্থা আরকেআইয়ের সর্বশেষ সাপ্তাহিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুনের শেষ দিকে তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে প্রায় ৯ হাজার ৬০০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া আগস্টের প্রথম দুই সপ্তাহে অস্বাভাবিক বেশি তাপমাত্রার সঙ্গে প্রায় ৪ হাজার মৃত্যুর যোগসূত্র পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনটিতে ৬ এপ্রিল থেকে ১৬ আগস্ট পর্যন্ত সময়ের তথ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
আরকেআইয়ের হিসাবে, এর আগে ২০১৮ সালে জার্মানিতে তাপজনিত কারণে প্রায় ৯ হাজার ৫০০ এবং ২০১৯ সালে ৭ হাজার ৬০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোর কিছু পরিসংখ্যান আগের প্রকাশিত তথ্যের তুলনায় কিছুটা ভিন্ন। ইনস্টিটিউটের এক মুখপাত্র জানান, প্রতি মাসে হিসাব নতুন করে করা হয়, যার ফলে আগের বছরগুলোর পরিসংখ্যানও সংশোধিত হতে পারে।
মৃত্যুর প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে
ইনস্টিটিউট জানিয়েছে, এবারের হিসাবটি তুলনামূলকভাবে রক্ষণশীল। ফলে চলতি বছর তাপজনিত মৃত্যুর প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
জার্মান ইন্টারডিসিপ্লিনারি অ্যাসোসিয়েশন ফর ইনটেনসিভ কেয়ার অ্যান্ড ইমার্জেন্সি মেডিসিনের মেডিকেল পরিচালক উভে ইয়ানসেনস সম্প্রতি বলেন, অনেক মৃত্যুই তাপজনিত হিসেবে নথিভুক্ত হয় না। কারণ মৃত্যুসনদে অঙ্গ বিকল হওয়ার মতো কারণ উল্লেখ করা হয়।
আরকেআই বলেছে, কিছু ক্ষেত্রে—যেমন হিটস্ট্রোকে—অতিরিক্ত তাপের সংস্পর্শ সরাসরি মৃত্যুর কারণ হয়। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তাপমাত্রার প্রভাবের সঙ্গে আগে থেকে থাকা বিভিন্ন শারীরিক অসুস্থতা মিলিত হয়ে মৃত্যুর কারণ হয়।
বয়স্করাই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে
আরকেআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের তাপজনিত মৃত্যুর অর্ধেকেরও বেশি—প্রায় ৭ হাজার ৯৬০ জন—৮৫ বছর বা তার বেশি বয়সী। ৭৫ থেকে ৮৪ বছর বয়সী প্রায় ৩ হাজার ৯০০ জন এবং ৬৫ থেকে ৭৪ বছর বয়সী প্রায় ২ হাজার ৪৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে। ৬৫ বছরের কম বয়সীদের মধ্যে মারা গেছেন প্রায় ১ হাজার ৪৭০ জন।
সামগ্রিকভাবে তাপজনিত কারণে পুরুষের তুলনায় নারীর মৃত্যুর সংখ্যা বেশি। তবে এর অন্যতম কারণ হলো বয়স্ক জনগোষ্ঠীর মধ্যে নারীর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি।
এমএমআর
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


