আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

ঢাকায় জামায়াতের এমপি কর্নেল বাতেনের ওপর হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ

স্টাফ রিপোর্টার

ঢাকায় জামায়াতের এমপি কর্নেল বাতেনের ওপর হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ

ঢাকা-১৬ আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য অবসরপ্রাপ্ত কর্ণেল আব্দুল বাতেন ও তার নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার দুপুরে মিরপুর-৬ নম্বর কাঁচাবাজার থেকে জামায়াত নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়ে চলন্তিকা মোড়, মিল্কভিটা এলাকা হয়ে মিরপুর-১১ নম্বরে গিয়ে শেষ হয়।

বিজ্ঞাপন

এসময় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও আসন পরিচালক অধ্যক্ষ নাসির উদ্দীন, রূপনগর থানা আমির আবু হানিফ, পল্লবী উত্তর থানা আমির মাওলানা সাইফুল কাদের, পল্লবী দক্ষিণ থানা আমির আশরাফুল আলম, পল্লবী মধ্য থানা আমির মো. রইসুল ইসলামসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা।

মিছিল পরবর্তী সমাবেশে অধ্যক্ষ নাসির উদ্দীন বলেন, মূলত ময়লা অপসারণের অতিরিক্ত টাকা আদায়কে কেন্দ্র করে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। ময়লার জন্য ৪০ টাকা নেওয়ার কথা থাকলেও এলাকায় ভেদে ১০০ থেকে ১২০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছিল। এ বিষয়ে প্রতিবাদ করায় আমাদের নেতা-কর্মীদের উপর হামলা চালানো হয়েছে। কারণ এতে অনেকের চাঁদাবাজি বন্ধ হয়ে গেছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।

তিনি আরো বলেন, একজন সংসদ সদস্য স্বাধীনভাবে কাজ করবেন—এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু ঢাকা-১৬ আসনে তা সম্ভব হচ্ছে না। কারণ তিনি বিভিন্ন ধরনের চাঁদাবাজি বন্ধ করার উদ্যোগ নিয়েছেন। এতে স্থানীয় বিএনপির কিছু নেতা-কর্মী ক্ষুব্ধ হয়ে প্রকাশ্যে হামলা চালিয়েছে এবং আমাদের নেতা-কর্মীদের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।

বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, আমরা কোনো অশান্তি চাই না। সবাইকে নিয়ে একটি সুন্দর রূপনগর-পল্লবী গড়ে তুলতে চাই। এজন্য সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। তবে আমাদের উপর বারবার হামলা হলে আমরা বসে থাকব না। জামায়াতে ইসলামী অনেক ধৈর্যের পরিচয় দিয়ে যাচ্ছে—এটিকে দুর্বলতা ভাবার সুযোগ নেই।

এ সময় জানানো হয়, গত রোববার ঢাকা-১৬ আসনের সংসদ সদস্য অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল আব্দুল বাতেনের উন্নয়নমূলক কাজে বাধা প্রদানসহ তার নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। পরে রোববার রাতে তিনি এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এর প্রতিবাদ জানান।

আব্দুল বাতেন বলেন, রোববার আমার নিয়মিত কাজের অংশ হিসেবে বাউনিয়া এলাকায় যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীদের বাধার কারণে সেই কর্মসূচি বাতিল করতে হয়। পরে রূপনগরের চলন্তিকা মল্লিকা মসজিদে নামাজ আদায় করে মুসল্লিদের সঙ্গে মতবিনিময় করি। সেখানেও বিএনপির নেতা-কর্মীদের বাধার মুখে পড়তে হয়।

তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপির মহানগর উত্তরের যুগ্ম আহ্বায়ক মন্টু মিয়া, সিরু, লিটন, মহাসিন, সোহাগসহ শতাধিক নেতা-কর্মীর নেতৃত্বে এ বাধা দেওয়া হয়। তাদের হামলায় আমাদের পাঁচজন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন, যার মধ্যে দুইজনের অবস্থা গুরুতর। তিনি আরো বলেন, বিএনপির নেতা-কর্মীরা শুধু হামলাই চালায়নি, তারা আমাদের দুটি মোবাইল ফোন ও একটি ক্যামেরাও ছিনিয়ে নিয়ে গেছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন