শ্রমিকের ন্যায্য মজুরির পাশাপাশি আন্দোলনের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে: জুনায়েদ

শ্রমিকের ন্যায্য মজুরির পাশাপাশি আন্দোলনের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে: জুনায়েদ

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) রাজনৈতিক পর্ষদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ বলেন, শ্রমিকের ন্যায্য মজুরির পাশাপাশি শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের অধিকারও নিশ্চিত করতে হবে। শিল্পের সক্ষমতা ও রাষ্ট্রের দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করতে হবে।

বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।

বিজ্ঞাপন

আলী আহসান জুনায়েদ আরও বলেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্প শুধু রপ্তানি আয়ের প্রধান উৎস নয়, প্রায় ৪০ লাখ মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে যুক্ত। এই শিল্পের শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করা যেমন রাষ্ট্রের দায়িত্ব, তেমনি শিল্পের উৎপাদন সক্ষমতা, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান টিকিয়ে রাখাও জাতীয় স্বার্থের অংশ।

বর্তমান শ্রমিক অসন্তোষকে শুধু ষড়যন্ত্র, নাশকতা কিংবা আইনশৃঙ্খলার সমস্যা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই দাবি করে এনসিপির এই নেতা বলেন, দ্রব্যমূল্য, বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ মজুরি শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি। একই সঙ্গে শিল্পমালিকদের উৎপাদন ব্যয়, জ্বালানি সংকট, আন্তর্জাতিক বাজারের প্রতিযোগিতা এবং ক্রেতাদের মূল্য নির্ধারণের বিষয়গুলোও বিবেচনায় নিতে হবে।

তিনি দাবি করেন, মজুরি বোর্ডের মাধ্যমে শ্রমিকদের জীবনযাত্রার ব্যয় ও শিল্পের বাস্তব সক্ষমতা বিবেচনা করে গ্রহণযোগ্য ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করা হোক। শ্রমিকদের বকেয়া বেতন, অন্যায় ছাঁটাই ও ব্ল্যাকলিস্টিং বন্ধ করতে হবে। শান্তিপূর্ণ শ্রমিক আন্দোলনের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে সহিংসতা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং আইনানুগ বিচার নিশ্চিত করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগও তদন্ত করতে হবে।

জুনায়েদ বলেন, শ্রমিক ও মালিককে পরস্পরের প্রতিপক্ষ বানিয়ে নয়, বরং সরকার, শ্রমিক, মালিক ও আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের দায়িত্বশীল অংশগ্রহণের মাধ্যমে এই সংকটের সমাধান করতে হবে। শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি এবং শিল্পের টেকসই সক্ষমতা, দুটিই বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য অপরিহার্য।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন