আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় জামায়াত আমির

হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান-সবার জন্য আমরা ন্যায়বিচার নিশ্চিত করব

স্টাফ রিপোর্টার

হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান-সবার জন্য আমরা ন্যায়বিচার নিশ্চিত করব

হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টানসহ সবার জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিতের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর আমির ডা শফিকুর রহমান। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) বিকেলে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় ১০ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের জনসভা প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমাদের অঙ্গীকার স্পষ্ট- দুর্নীতি আমরা করব না,দুর্নীতি আমরা সহ্য করব না। বাংলাদেশের ৫৬ হাজার বর্গমাইলে কাউকে চাঁদাবাজি করতে দেব না। মামলাবাজির জালে জড়িয়ে মানুষকে আর হয়রানি করতে দেয়া হবে না। হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্ট্রান সবার জন্য আমরা ন্যায়বিচার নিশ্চিত করব। বিচার কারো মুখ দেখে, কারো ধর্ম, কারো বর্ণ ও কারো প্রতিপত্তি দেখেও হবে না।”

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, “আমরা অতীতে চাঁদাবাজি, মামলাবাজি, কারো ইজ্জতের হামলা করিনি। আমরা কী? বাজে লোকের কাছে তা শোনা লাগবে না। দেশপ্রেমিক লোকেরাই সাক্ষীর জন্য যথেষ্ট। আমরা জাতিকে যত উপরের দিকে টান দেই, কেউ কেউ ঠ্যাং ধরে নিচের দিকে টানে। জনগণের ভালোবাসা নিয়ে আমরা জাতিকে তুলে আনব, ইনশাআল্লাহ। চোরাবালিতে এই জাতিকে হারিয়ে যেতে দেবো না।”

জামায়াত আমির বলেন, ফ্যাসিবাদ বিগত ১৫টি বছর মানুষকে চুবিয়ে চুবিয়ে মেরেছে। অসংখ্য মায়ের বুক খালি করেছে, বোনকে বিধবা করেছে, ইয়াতিম বাচ্চাদের পিতৃহারা করেছে-সেই ফ্যাসিবাদ বাংলার জমিনে ফিরে আসুক তা আর আমরা চাই না।

ডা. শফিকুর রহমান প্রশ্ন রেখে বলেন, “দেশ স্বাধীনের ৫৪ বছরে অতীতের কোনো একটি সরকার বুকে হাত দিয়ে কী বলতে পারবে তারা দুর্নীতি করেনি, অতীতে যে দলগুলো দেশ শাসন করেছে তারা চাঁদাবাজি করে নাই? তারা বলতে পারবে যে জাতিকে সুশাসন দিয়েছে? তারা কী বলতে পারবে সমাজে ন্যায়বিচার কায়েম করতে পেরেছে? তারা কী বলতে পারবে মানসম্মত বিশ্বমানের শিক্ষাব্যবস্থা উপহার দিয়েছে?- তারা বলতে পারবে না। তারা বলতে পারবেন না যে তারা জনগণের মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে কাজ করেছেন।”

বিগত সরকারে থাকা জামায়াতের শীর্ষ নেতৃত্ব সাবেক মন্ত্রী ও শহীদ আমীরে জামায়াত মাওলনা মতিউর রহমান নিযামীর উদাহরণ টেনে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘তার শত্রুরাও মাওলানা মতিউর রহমান নিযামীর বিরুদ্ধে আঙ্গুল তুলে বলার সাহস পায়নি যে তার মন্ত্রণালয়ে দুর্নীতি হয়েছে বা ব্যক্তিগতভাবে কারো প্রতি স্বজনপ্রীতি হয়েছে।’

তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদী সরকার অন্যায়ভাবে মাওলানা মতিউর রহমান নিযামীসহ আরো কয়েকজন শীর্ষ নেতাকে হত্যা করেছে। এছাড়াও হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। পঙ্গু করা হয়েছে আরও অনেককে।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী একটি নির্যাতিত রাজনৈতিক দল। এই দলের দাঁড়িপাল্লা ইনসাফের প্রতীক। আমাদের অফিসগুলোকে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়েছে। দল নিষিদ্ধ করা হয়েছে, নির্বাচন কমিশন আমাদের প্রতীক কেড়ে নিয়েছে, আমাদের নেতৃবৃন্দের ঘরবাড়ি বুলডোজার দিয়ে ভেঙে দেয়া হয়েছে। আর কারো সাথে এগুলো করা হয়নি। যাদের সাথে এগুলো করা হয়নি; দুভাগ্যবশত তারা চাঁদাবাজি শুরু করেছেন। তারা মামলাবাণিজ্য শুরু করলেন। একজন লোক একটি রাজনৈতিক দল সমর্থন করেন এজন্য তার বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে তার কাছ থেকে খাজনা আদায় করতে হবে আমরা তাকে ঘৃণা করি। এটি আমাদের রাজনৈতিক শিক্ষায় নেই। আমি বিশ্বাস করি আল্লাহর রহমত ও জনগণের ভালোবাসায় আগামীতে ১০ দল দেশ পরিচালনার সুযোগ পাবে।

জামায়াত আমির বলেন, আমরা চব্বিশ সালের ৫ আগস্ট বলেছি- আমরা কারো কাছ থেকে প্রতিশোধ নেব না। আল্লাহ আমাদের মুক্তি দিয়েছেন, আমরা সেজদাহ করে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করেছি।

তিনি বলেন, আমরা জনগণের খেদমতে নেমে পড়েছি। চাঁদাবাজদের রুখে দেয়ার চেষ্টা করেছি বিভিন্ন জায়গায়। বিভিন্ন ধরনের প্রতিষ্ঠান পাহারা দিয়েছি নিজ দায়িত্বে। আমাদের ভাইয়েরা সারা দেশে টানা ১৫ দিন রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে দায়িত্ব পালন করেছেন। কোথাও কোনো দুর্বলতা দেখাইনি। বন্যা এসেছে আমরা ত্রাণ নিয়ে ঝাপিয়ে পড়েছি, শহীদ হয়েছে- পরিবারের কাছে সবার আগে যাওয়ার চেষ্টা করেছি। আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারীদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি। আমরা এভাবে সমাজটাকে তুলে আনার চেষ্টা করেছি।

জনসভায় জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, সিরাজগঞ্জ জেলা জামায়াতের আমীরসহ ১০ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...