সর্বজনীন শিক্ষা, সামাজিক ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন ছাড়া প্রকৃত গণতন্ত্র সম্ভব নয়: রিজভী

সর্বজনীন শিক্ষা, সামাজিক ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন ছাড়া প্রকৃত গণতন্ত্র সম্ভব নয়: রিজভী
ফাইল ছবি

সর্বজনীন শিক্ষা, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং আইনের শাসন ছাড়া প্রকৃত গণতন্ত্র সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও স্থায়ী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

আগামীকাল মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস উপলক্ষে সোমবার এক বাণীতে তিনি এ কথা বলেন।

বিজ্ঞাপন

বাণীতে রুহুল কবির রিজভী বলেন, গণতন্ত্র সম্পর্কে মানুষের মধ্যে আগ্রহ সৃষ্টি করা এবং আইনের শাসন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, নাগরিক অধিকার, মানবাধিকার ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠানের শক্ত ভিত্তি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবসের গুরুত্ব রয়েছে। বিশ্বজুড়ে গণতন্ত্রের নীতি প্রচার ও সুসংহত করার উদ্দেশ্যেই এ দিবসটি উদ্‌যাপন করা হয়।

গণতন্ত্র অর্জনের সংগ্রামে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যারা জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান তিনি। জীবনদানকারী শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে আহতদের প্রতি সমবেদনা জানান রিজভী। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবসে বিশ্বের গণতন্ত্রকামী মানুষের প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান তিনি।

রিজভী বলেন, মানবাধিকার রক্ষায় গণতন্ত্রের গুরুত্ব অপরিসীম। গণতন্ত্র এমন একটি পরিবেশ তৈরি করে, যেখানে মানুষের মৌলিক অধিকার ও স্বাধীনতা সুরক্ষিত থাকে। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা জনগণের সেবা এবং ন্যায়সঙ্গত সিদ্ধান্ত গ্রহণে সচেষ্ট হন। গণতন্ত্রের চর্চা অব্যাহত থাকলে কোনো স্বৈরশক্তিই মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে না এবং জনগণকে ক্রীতদাসে পরিণত করাও সম্ভব হয় না।

তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এখনও একদলীয় দুঃশাসনের কালো থাবা বিরাজমান। দেড় দশক ধরে বাংলাদেশেও নাগরিক স্বাধীনতা, ভোটাধিকার, মানবিক মর্যাদা ও মানবাধিকার হরণ করে একটি ভয়ঙ্কর আওয়ামী ফ্যাসিবাদী শাসন কায়েম ছিল। নানা কালাকানুনের মাধ্যমে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা হরণ করা হয়েছিল। ভিন্নমতের কারণে অনেকেই গুম, খুন ও আইনবহির্ভূত হত্যার শিকার হয়েছেন।

বিএনপির এই নেতা বলেন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে বাংলাদেশের কিংবদন্তিতুল্য আপসহীন যোদ্ধা দেশনেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা ও সাজানো মামলায় কারাগারে আটকে রাখা হয়েছিল। গণতন্ত্রের প্রতি দৃঢ় অঙ্গীকারাবদ্ধ বিএনপির চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপরও মিথ্যা মামলায় সাজা দেওয়ার বর্বরোচিত অত্যাচার নামিয়ে আনা হয়েছিল।

তিনি বলেন, দেশবাসী ১৬ বছর এক ভয়াবহ দুর্দিন অতিক্রম করেছে। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ঐতিহাসিক রক্তস্নাত আন্দোলনের মাধ্যমে স্বৈরাচারের পতন হয়েছে। গত ১২ ফেব্রুয়ারির অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পর এখন দেশে প্রকৃত গণতান্ত্রিক সরকার গঠিত হয়েছে।

রিজভী বলেন, বর্তমান গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও গতিশীল করে গণতন্ত্রকে একটি স্থায়ী রূপ দিতে হবে। গণতন্ত্রকে সচল রাখতে হলে নিরপেক্ষ নির্বাচনের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে হবে। সর্বজনীন শিক্ষা, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং আইনের শাসন ছাড়া প্রকৃত গণতন্ত্র সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, নারী-পুরুষ অথবা অন্য কোনো লিঙ্গের মানুষের সমান অংশগ্রহণ ও সুবিধা পাওয়ার নিশ্চয়তা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও সমাজে থাকতে হবে। গণতন্ত্র লিঙ্গভেদে কারও প্রতি কোনো বৈষম্যকে বাড়িয়ে তুলতে পারে না; বরং সবার জন্য সমান আইনি ও সামাজিক অধিকার নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।

বাণীর শেষাংশে রিজভী বলেন, “আমরা দুঃসময় কাটিয়ে উঠে স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়েছি। এখন কার্যকর গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ে তোলার সার্বিক প্রচেষ্টায় আমাদের ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে।”

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন