নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে নিরলস কাজ করছেন প্রধানমন্ত্রী: রিজভী

স্টাফ রিপোর্টার

নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে নিরলস কাজ করছেন প্রধানমন্ত্রী: রিজভী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কর্মকাণ্ড তুলে ধরে তার রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী নিরন্তর প্রচেষ্টার মধ্য দিয়ে তাঁর নির্বাচনে প্রদত্ত অঙ্গীকার বাস্তবায়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। কৃষি কাজ ও স্বাস্থ্য খাতের কাজসহ এই যে প্রতিশ্রুতিগুলো, এগুলো বাস্তবায়নে কোনো ধরনের কমতি বা ঘাটতি নেই; প্রতিনিয়ত তিনি এগুলো মনিটরিং করছেন, সবকিছু দেখছেন।

তিনি বলেন, যার বাৎসরিক আয় ৪ লাখ টাকা, এবারের বাজেটে বলা হয়েছে তাঁর কোনো আয়কর দিতে হবে না। প্রস্তাব করা হয়েছিল মুদির দোকানগুলোতে কর বসানোর; আমরাও বলেছি , ক্ষুদ্র ও মাঝারি এই দোকানগুলোতে ভ্যাট বা কর বসানো যাবে না। বাজেট যখন পাস হয়েছে, তখন মুদির দোকানের ওপর যে করের প্রস্তাব করা হয়েছিল, তা প্রত্যাহার করা হয়েছে। আমরা এও দেখছি, ১২ কেজির যে গ্যাস সিলিন্ডার, সেটার মূল্য ৩৫৭ টাকা কমানো হয়েছে। অর্থাৎ জনস্বার্থকে সবচেয়ে বড় করে দেখা হচ্ছে, জনগণের কষ্ট লাঘব করাকে বড় করে দেখছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার ঢাকেশ্বরী মন্দিরে করে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও নৃ-গোষ্ঠী সম্প্রদায়ের উদ্যোগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫ তম শাহাদত বার্ষিকী উপলক্ষে প্রার্থনা ও আলোচনা সভায় তিনি এই কথা বলেন।

রিজভী বলেন, অত্যন্ত আনন্দের বিষয় যে আজকে আমরা একটা মুক্ত পরিবেশে নির্বিধায় সবার কথা বলার সুযোগ পেয়েছি। যার মনে যা আছে, সেই কথা বলার স্বাধীনতা অনেকদিন পর এসেছে। একটি ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আমরা যে পরিবেশ পেয়েছি, সেই পরিবেশে এই কথা বলা নিশ্চিত হয়েছে। নিশ্চিত হয়েছে সত্যিকার অর্থে জনগণের ভোটাধিকার, একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন এবং জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক একটি সরকার। এটা অত্যন্ত আনন্দের বিষয়।

সকল ধর্মের মানুষের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে রিজভী বলেন, আমরা একই ভূখণ্ডের মানুষ ও জনগোষ্ঠী। আমাদের স্বাধীন সত্তা বিনির্মাণের জন্য একসাথে লড়াই করা ও আত্মত্যাগ করা মানুষ আমরা। এদের মধ্যে যেমন মুসলমান ছিল, তেমনি হিন্দু, খ্রিস্টান ও বৌদ্ধ ছিল। সবাই মিলে এই জাতি ও গোষ্ঠী নির্মাণ করেছেন। অথচ বারবার একটি বিভাজনের রেখা তৈরি করার চেষ্টা করা হয়েছে—'ওরা' আর 'আমরা'। এই ধরনের একটি প্রচেষ্টা বারবার করা হয়েছে, অথচ তারা জানত না যে এই দেশের মাটিতে এটা কখনো সম্ভব নয়। হ্যাঁ, কৃত্রিমভাবে সংকট ও বিভাজন তৈরি করা যায়, কিন্তু আমাদের মনের উদারতা ও গভীরতা অনেক বেশি। হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, চাকমা, ত্রিপুরা—সবাই মিলে এই ভূখণ্ডের অস্তিত্ব, স্বাধীনতা এবং অর্থনৈতিক বিকাশের জন্য একসাথে লড়াই করেছে। এই জাতি কখনো কোনো জাতীয়, আন্তর্জাতিক বা বৈদেশিক চক্রান্তের কাছে মাথা নত করেনি। আমাদের ভেতরের এই নিবিড় সম্পর্ককে তারা আগেও বিনষ্ট করতে পারেনি, এখনও পারেনি; যদিও নানাভাবে চেষ্টা-প্রচেষ্টা চলে।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনার কাছে হিন্দু-মুসলমান বা ধর্ম বড় ছিল না; তার কাছে বড় ছিল ; তার পরিবার এবং দল । এর বাইরে উনাদের কোনো অস্তিত্ব ছিল না। যদি অস্তিত্ব থাকত, তাহলে তপন মিত্রের চাকরি কেন চলে গেল? উনার তো সচিব হওয়ার কথা ছিল, অথবা ডেপুটি সেক্রেটারি বা জয়েন্ট সেক্রেটারি পদে থাকার কথা ছিল। কিন্তু আপনাদের চাকরি নাই, কারণ উনারা জাতীয়তাবাদী শক্তির সাথে সম্পর্কিত। বেগম খালেদা জিয়া বিজন দাদার মেয়ের বিয়েতে উপস্থিত হয়েছিলেন—এইটাই হচ্ছে তার অপরাধ। এই কারণে সে আর বাংলাদেশে থাকতে পারবে না, তপনদা বাংলাদেশে থাকতে পারবে না। এটা শুধু আপনাদের একটা উদাহরণ হিসেবে বললাম, প্রত্যেকের ক্ষেত্রে তাই হয়েছে

রিজভী বলেন, ৫ই আগস্টে একসাথে দাঁড়িয়েছি। সেদিন পিছনে বুলেটের মুখে হিন্দুও গুলি খেয়েছে, খ্রিস্টানও গুলি খেয়েছে, জুলাই আন্দোলনে সবাই মিলে দাঁড়িয়েছে। আশা করি, আমাদের এই পরস্পরের মধ্যকার ভ্রাতৃত্ববোধ কেউ নষ্ট করতে পারবে না। আমরা আমাদের এই স্বাধীন সত্তাকে রক্ষা করার জন্য কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে প্রত্যেকে একসাথে কাজ করে যাব। একসাথে লড়াই করব, একসাথে বিনির্মাণ করব, একসাথে সৃষ্টি করব আর প্রয়োজনে একসাথে প্রতিরোধ করব।

এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, বিএনপি সহ সাংগঠনিক সম্পাদক জয়ন্ত কুমার কুণ্ডু সহ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ও নৃ-গোষ্ঠীর সম্প্রদায়ের নেতৃবৃদ। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ সভাপতি ডা. জাহিদুল কবির , ছাত্রদলের সহ সভাপতি ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়াল প্রমুখ।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...