ফেনীতে মেডিকেল কলেজ স্থাপন ও ইপিজেড গড়ে তোলার আশ্বাস দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রোববার সন্ধ্যায় ফেনী সরকারি পাইলট হাই স্কুল মাঠে দলের নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ আশ্বাস দেন তিনি।
বক্তব্যের শুরুতে তারেক রহমান বলেন, ফেনীর সাথে আমার আত্মীয় সম্পর্ক। তিনি বলেন, বিএনপির কাছে আপনাদের যেমনই চাওয়া আছে তেমনই আমাদেরও দাবি আছে। সেটি হলো, ধানেন শীষে ভোট দিয়ে বিএনপি প্রার্থীদের জয়ী করা।
এ ছাড়া ফেনীতে মেডিকেল কলেজ স্থাপনের আশ্বাস দিয়ে তারেক রহমান বলেন, স্বাস্থ্য সেবা জনগণের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দিতে কাজ করবে বিএনপি। ফেনীতে ইপিজেড গড়ে তোলার কথা বলেন বিএনপি চেয়ারম্যান। জনসংখ্যাকে জনসম্পদে পরিণত করার পরিকল্পনা তুলে ধরেন তিনি।
তারেক রহমান আরও বলেন, আপনাদের অর্থাৎ জনগণের সামনে প্রতিপক্ষ দলের বিরুদ্ধে অনেক কথা বলতে পারি, কিন্তু তাতে জনগণের কোনো লাভ হবে না। বিএনপি জনগণের সরকার গঠন করতে চায়। জনগণকে সাথে নিয়েই সবার জন্য কাজ করতে চায়। জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করতে পারলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও দুর্নীতিরোধে কোনো ছাড় দেয়া হবে না বলে ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
বিগত সরকারের সময়ে তথাকথিত নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষের ভোটের অধিকার তথা রাজনৈতিক অধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছিল বলে মন্তব্য করেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, আমরা আজ এখানে একত্র হতে পেরেছি সেই মানুষগুলোর জীবনের বিনিময়ে, যারা আমাদের সকলের জন্য রাজপথে নেমে এসেছিলেন। আমরা আজ এখানে একত্র হতে পেরেছি সেই মানুষগুলোর ত্যাগের বিনিময়ে, যারা বিভিন্নভাবে নির্যাতিত, অত্যাচারিত ও পঙ্গুত্ববরণ করেছেন।

তারেক রহমান বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের ভেতর দিয়ে বাংলাদেশের মানুষ একাত্তর সালে যেভাবে দেশকে স্বাধীন করেছিল, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সেই স্বাধীনতাকে বাংলাদেশের মানুষ রক্ষা করেছে তাদের অধিকারকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য। এ ফেনী, নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুরেও বিএনপির অনেক নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়েছে। শুধু বিএনপিই নয়- দ্বিমতের বহু লোকজনকে হত্যা করা হয়েছে গত ১৭ বছরে। পঙ্গুত্ব বরণ করেছে অসংখ্য নেতাকর্মী। মামলা হামলা থেকে বাদ যায়নি বিএনপি পরিবারের কোনো সদস্য।
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, এখানে বহু মুরুব্বি উপস্থিত আছেন, যারা কালের সাক্ষী শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সময় কীভাবে দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র রচিত হয়েছে। দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার সময় কীভাবে দেশে সংসদীয় গণতন্ত্রের ভিত্তি রচনা করা হয়েছিল। কীভাবে এদেশে তথাকথিত উন্নয়নের নামে দেশ থেকে মানুষের অর্থ লুটপাট করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আমরা এ অবস্থার পরিবর্তন করতে চাই।
ধানের শীষকে জয়যুক্ত করতে আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রিয় ভাই-বোনেরা আপনারা কি আছেন আমার সঙ্গে এ অবস্থার পরিবর্তন করতে? প্রিয় ভাই-বোনেরা আমরা সারা বাংলাদেশের কৃষক ভাইদের পাশে দাঁড়াতে চাই। যদি ইনশাআল্লাহ আপনারা আগামী ১২ তারিখে ধানের শীষকে জয়যুক্ত করেন, করতে পারেন— আমরা ইনশাআল্লাহ সারা বাংলাদেশের কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে পারবো। দাঁড়াতে চান কৃষকদের পাশে? আপনাদের মনে আছে-কয়েক বছর আগে কীভাবে ওইপাশ থেকে পানি ছেড়ে দেয়া হয়েছিল। সারা ফেনী ডুবে বন্যার পানিতে। মনে আছে? সেজন্যই আমরা বলেছি, একটি কথা। আমরা দেখেছি গত ১৫/১৬ বছর কীভাবে এদেশকে অন্য দেশের কাছে বন্ধক দিয়ে দেয়া হয়েছিল। সেজন্যই আমি বলেছি- দিল্লি নয়, পিণ্ডি নয়, নয় অন্য কোনো দেশ। সবার আগে বাংলাদেশ।
তারেক রহমান বলেন, শুধু কৃষিই নয়-স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কর্মসংস্থানসহ সব খাতে পরিবর্তন ঘটাতে বিএনপির পরিকল্পনা চূড়ান্ত। এখন সবাইকে নিয়ে দেশ পুন:গঠনের কাজ করতে চায় বিএনপি। এ কাজে দলমতের বাইরেও সব পেশার মানুষকে সাথে চাইলেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, এর আগেও বিএনপি ৫ বার ক্ষমতায় ছিল, তখন আপনারা দেখেছেন দেশ ও মানুষের কল্যাণে কিভাবে কাজ হয়েছে।

তিনি বলেন, গত ১৫-১৬ বছরে আমরা দেখেছি, কীভাবে একের পর এক নির্বাচনে ব্যালট বক্স ছিনতাই হয়েছে; কীভাবে আমি-ডামির নির্বাচন হয়েছে; কীভাবে নিশি রাতের নির্বাচন হয়েছে। এবং এই নির্বাচনগুলোর মাধ্যমে, তথাকথিত নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষের ভোটের অধিকার তথা রাজনৈতিক অধিকারকে কেড়ে নেয়া হয়েছিল।
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, যারা ষড়যন্ত্র করছে, যারা এদেশের মানুষকে ঠকানোর চেষ্টা করছে, যারা এদেশের মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিকে আঘাত করে শিরক করার চেষ্টার করছে- এদের সম্পর্কে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। সজাগ থাকতে হবে। তিনি বলেন, প্রিয় ভাই-বোনেরা বিএনপি বিশ্বাস করে এই যে লক্ষ জনতা, সারা বাংলাদেশের কোটি কোটি যে জনতা এরাই হচ্ছে বিএনপির রাজনীতির শক্তির মূল উৎস। মূল উৎস হচ্ছে বিএনপি বিশ্বাস করে আপনারা। জনগণ হলো বিএনপির সকল রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস বলেন বিএনপি চেয়ারম্যান।
তারেক রহমান বলেন, আমরা দেখেছি গত ১৫-১৬ বছর অন্য দেশের কাছে কীভাবে বাংলাদেশকে বিক্রি করে দেয়া হয়েছে। এজন্য আমি আগে বলেছি দিল্লি নয়, পিণ্ডি নয়, অন্যদেশ নয়, সবার আগে বাংলাদেশ। আমি আরেকটি কথা বলেছিলাম, স্বৈরাচার সরকার যখন মানুষের ঘাড়ে চড়ে বসেছিল, সেটা হচ্ছে ‘টেক ব্যাক বাংলাদেশ’। আমরা টেক ব্যাক বাংলাদেশের অর্ধেক পথে এসেছি। আমরা স্বৈরাচারমুক্ত হয়েছি, গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু করেছি। ১২ তারিখে ধানের শীষকে নির্বাচিত করার মধ্য দিয়ে গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হবে।

বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, আমরা যে ফ্যামিলি কার্ডের কথা বলেছি, কৃষক কার্ডের কথা বলেছি এ থেকে চা শ্রমিকসহ দেশের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী আর্থিক সুবিধা পাবে। এ সময় তিনি উন্নয়ন, গণতন্ত্র, বাকস্বাধীনতা ও আইনের শাসনের জন্য ধানের শীষে ভোট চান। বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশে একটি পরিবর্তন হয়েছে, এখন সমগ্র বাংলাদেশের মানুষ একটি পরিবর্তন চায়। মানুষ চায় তাদের সমস্যার সমাধান, চলাফেরায় নিরাপত্তা, দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হোক, দেশের শিক্ষার্থীরা যেন শিক্ষার সুযোগ পায়, তরুণ ও যুব সমাজের লক্ষ লক্ষ কর্মহীন আছে, এই বেকার সমস্যা সমাধান চায়।
করবো কাজ গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ। ধানের শীষকে যতবার নির্বাচিত করেছে ততবার দেশে উন্নয়ন হয়েছে। মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়েছে। বৃহত্তর তিন জেলা ফেনী, নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুরের ১৩ আসনে ধানের শীষের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে তাদের জন্য ধানের শীষের পক্ষে ভোট চান তারেক রহমান। একইসঙ্গে অনুরোধ করছি- আমাদের পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করতে হলে সমগ্র বাংলাদেশে ধানের শীষের প্রার্থীদের জয়ী করতে হবে। তিনি বলেন শুধু এ তিন জেলাই নই, সমগ্র বাংলাদেশে যার যেখানে পরিচিতি আছে এবং আত্মীয়স্বজন ছড়িয়ে আছে, তাদের সবাইকে অনুরোধ করবেন- আগামী ১২ তারিখে যেন ধানের শীষে ভোট দেয়।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

