আইএল টি-টোয়েন্টিতে এমআই এমিরেটসের হয়ে দারুণ ছন্দে ছিলেন সাকিব আল হাসান। ব্যাট হাতে ১১৫ রান করার পাশাপাশি বল হাতে শিকার করেন তিন উইকেট। সব মিলিয়ে সময়টা মোটেও খারাপ ছিল না তার জন্য। এই আইএল টি-টোয়েন্টি ছাড়াও বিশ্বের বিভিন্ন লিগে খেলে বেড়াচ্ছেন। সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরবের এক টুর্নামেন্টে খেলেছেন তিনি। শুধু সৌদি কিংবা আরব আমিরাত নয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ওয়েস্ট ইন্ডিজেও বিভিন্ন লিগে নিয়মিত খেলছেন সাকিব আল হাসান। তাকে এবার ফেরাতে চায় বিসিবি। গত পরশু বোর্ড সভায় সেই উদ্যোগটাও নেওয়া হয়েছে।
৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পলায়নের পর সরকার পতন হলে আর দেশে ফিরতে পারেননি সাকিব আল হাসান। আওয়ামী লীগ সরকারের সংসদ সদস্য থাকা সাকিব চেয়েছিলেন দেশে ফিরে নিজের বিদায়ী টেস্ট খেলতে। তবে মাঝপথে এসে ফিরে যান যুক্তরাষ্ট্রে। মূলত সরকার থেকে সবুজ সংকেত না পাওয়ায় তাকে দেশের মাটিতে খেলাতে পারেনি বিসিবি। এবার তাকে ফের দেশে ফিরিয়ে খেলানোর উদ্যোগ নিয়েছে বিসিবি।
এ নিয়ে বিসিবির মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন বলেন, ‘যদি সাকিব আল হাসানের এভেইলেবিলিটি, ফিটনেস ও অ্যাকসেসেবিলিটি; সঙ্গে যে ভেন্যুতে খেলা হবে-ওখানে যদি উপস্থিত থাকার মতো সক্ষমতা থাকে, অবশ্যই বোর্ড বা নির্বাচক প্যানেল সাকিব আল হাসানকে পরবর্তী সময়ে দলে নির্বাচনের জন্য বিবেচনা করবে।’
সাকিব আল হাসানের বিরুদ্ধে মামলা থাকায় দেশে ফিরলেই আছে তার গ্রেপ্তার হওয়ার শঙ্কা। ফলে গ্রেপ্তার এড়াতে দেশে ফিরে আদালত থেকে জামিন নিতে হবে তাকে। সাকিবের দেশে ফিরতে এখন পর্যন্ত এটাই সবচেয়ে বড় বাধা। এ নিয়ে আমজাদ বলেন, ‘এ বিষয়ে সরকারের সঙ্গে যোগাযোগের ব্যাপারে এরই মধ্যে আমাদের সভাপতিকে বলা হয়েছে।’
তিনি আরো যোগ করেন, ‘সাকিবের ব্যক্তিগত ইস্যুগুলো তার নিজস্ব। সেগুলো সরকার কীভাবে দেখবে, সেটা সরকারের বিষয়। কিন্তু আমরা বোর্ডের পক্ষ থেকে সাকিবকে চেয়েছি, এটাই মূল কথা।’
তবে হুট করে কেন সাকিবের আলোচনা এলো-এ প্রশ্নের কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি। যদিও গত পরশু রাতে বোর্ড সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে আসা তিন পরিচালক জানিয়েছেন, বিসিবির কেন্দ্রীয় চুক্তির প্রসঙ্গ আসতেই তার ব্যাপারে কথা হয়েছে। এছাড়া গত কদিন ধরেই বিসিবির পক্ষ থেকে সাকিবের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। সেখানে সাকিব খেলতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বলেও শোনা যায়। এই আগ্রহের কথা অবশ্য বিভিন্ন সময় তার বিভিন্ন সাক্ষাৎকারের মাধ্যমেও জানা গেছে। দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমের পাশাপাশি বিদেশি কয়েকটি গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি দেশে ফিরে খেলার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। শুধু তা-ই নয়, দেশের মাটিতে পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলে অবসরে যাওয়ার ইচ্ছার কথাও জানান।
সাকিবকে জাতীয় দলে খেলাতে বিসিবির এই উদ্যোগ এমন সময়ে এলো, যখন বাংলাদেশ দল বিশ্বকাপে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে অটল। নিরাপত্তা ইস্যুতে ভারতের মাটিতে বিশ্বকাপে খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় বিসিবিকে নিয়ে হচ্ছে নানা ধরনের আলোচনা। এই আলোচনার মধ্যেই বিসিবি সাকিব প্রসঙ্গ ফিরিয়ে আনায় বেশিরভাগ মানুষই ব্যাপারটিকে নেতিবাচক হিসেবে দেখছে।
শেষ পর্যন্ত বিসিবি সাকিবকে আদৌ ফিরিয়ে এনে মাঠে নামাতে পারবে কি না-সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা। কারণ, আগের দফাতেও ফিরিয়ে আনতে চেয়েছিল, তবে শেষ পর্যন্ত তা আর সম্ভব হয়নি!
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

