বিচারে নির্ধারিত হোক দেশে আ. লীগ রাজনীতি করতে পারবে না: সালাহউদ্দিন

স্টাফ রিপোর্টার

বিচারে নির্ধারিত হোক দেশে আ. লীগ রাজনীতি করতে পারবে না: সালাহউদ্দিন

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, আমরা পরিষ্কার করে বলতে চাই, বাংলাদেশ মানুষ গণঅভ্যুত্থানের মধ্যে দিয়ে আওয়ামী লীগকে প্রত্যাখ্যান করেছে, তাদের বিতাড়িত করেছে। এখন বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্যদিয়ে নির্ধারিত হোক আওয়ামী লীগ এ দেশে রাজনীতি করতে পারবে কিনা, নির্বাচন করতে পারবে কিনা।

বুধবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে আঞ্চলিক সম্পাদক পরিষদ আয়োজিত ‘জাতীয় ঐক্য ও বর্তমান বাস্তবতা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

বিজ্ঞাপন

অন্তবর্তীকালীন সরকারের উদ্দেশ্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আওয়ামী লীগকে রাজপথে কতদিন পুলিশ দিয়ে ঠেকিয়ে রাখবেন? আপনারা বলছেন, আওয়ামী লীগকে রাজনীতি করতে দেবেন না কিন্তু কী পদক্ষেপ নিচ্ছেন? আমরা বলেছিলাম, সংবিধানের ৪৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হোক। কিন্তু কোনও পদক্ষেপ নিচ্ছেন না। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের আইন আইন সংশোধন করার দাবি জানিয়েছিলাম, জনগণও দাবি করেছিল। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার অধ্যাদেশ জারি করার সিদ্ধান্ত নিয়ে পরবর্তী সময়ে কেবিনেটে তা বাতিল করা হয়। একদিকে বলবেন আওয়ামী লীগ রাজনীতি নিষিদ্ধ হোক, আবার বিচার করবেন না। রাজপথে পুলিশ দিয়ে বাধা দেবেন, এতো স্ববিরোধিতা ঠিক নয়।

তিনি বলেন, ‘আমরা পরিস্কার করে বলতে চাই, বাংলাদেশের মানুষ গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ছাত্র-জনতার বিপ্লবের মধ্যদিয়ে এদেশের মানুষ আওয়ামী লীগকে প্রত্যাখান করেছে, আওয়ামী ফ্যাসিবাদের রাজনীতিকে প্রত্যাখান করেছে, তাদেরকে বিতাড়ন করেছে। সেই আওয়ামী লীগ আওয়ামী লীগ নামে রাজনীতি করতে পারবে না… এই আওয়াজ আমরা উঠাচ্ছি। আমরা আওয়ামী লীগের গণহত্যার এবং মানবতা বিরোধী অপরাধের জন্য রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে বিচার দাবি করছি।’

তিনি বলেন, ‘বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে নির্ধারণ হোক বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ রাজনীতি করতে পারবে কিনা নির্বাচন করতে পারবে কিনা। সংবিধানে বিধান সংযুক্ত আছে সেই অনুযায়ী আপনারা আইন প্রণয়ন করুন। কেউ কেউ বলতে শোনা যাচ্ছে যে, মানবতা বিরোধী অপরাধ আদালতে যাদের বিচার হচ্ছে সেই বিচারে হয়তবা অবজারবেশন আসবে আওয়ামী লীগের রাজনীতি সম্পর্কে… সেটা অত্যন্ত দুর্বল অবজারবেশন। তখনও আপনাদেরকে(অন্তবর্তীকালীন সরকার) প্রশাসনিক আদেশ দিতে হবে, তখনও আপনাদেরকে আইন প্রণয়ন করতে হবে সেই অবজারবেশনের নিরিখে।কিন্তু এখন যদি আপনারা সোচ্চার হন বিচারের জন্য বাংলাদেশের মানুষ চায় বাংলাদেশ থেকে আওয়ামী লীগের ফ্যাসিবাদ রাজনীতির একদমন নির্মূল হয়ে যাক… সেই ব্যবস্থা আপনারা নিতে পারেন। বিচার বিভাগের সংস্কারের রিপোর্টে সেই বিষয়গুলো আসবে কিনা আমি জানি না।’

‘সর্ষের মধ্যে ভূত’ রেখে কখনও প্রধান উপদেষ্টা সফল হতে পারবেন না বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘সুতরাং প্রশাসন হোক, বিচার বিভাগ হোক বা নির্বাচন ব্যবস্থার মধ্য থেকে ফ্যাসিবাদদের পরিষ্কার করতে হবে। গণতান্ত্রিক সংস্কারের মধ্যে দিয়ে সাংবিধানিক রাজনৈতিক সরকার প্রতিষ্ঠাতা করতে চাই। এজন্য নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কারে অগ্রাধিকার দিতে হবে। নির্বাচনমুখী সংস্কারের জন্য স্বল্পমেয়াদি সংস্কার চিহ্নিত করতে হবে। মধ্যম ও দীর্ঘ মেয়াদী সংস্কার জন্য বিএনপি ৩১ দফায় অনেক আগেই দিয়েছে। ২০১১ সালে নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা বাতিল করেছিল সেই বিধান আবারও সংযুক্ত হয়েছে। স্বীকৃত দিতে হলেও নির্বাচিত সরকার দরকার।

বেশি সময়ক্ষেপণের জন্য কোনো কৌশল অবলম্বন করলে জনগণ মেনে নেবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ভোটার তালিকা তৈরি হয়ে যাবে। এরপর ডেলিমিটাশনসহ (সীমানা নির্ধারণ) অন্যান্য আইন প্রক্রিয়ার কাজ চলবে। সেগুলো কাজ শেষ করতে খুব বেশি সময় লাগবে না। এসব কাজ একই সঙ্গে চলতে পারে। সুতরাং জনগণের নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠাতা করুন।

অন্তর্বর্তী সরকারকে সবার সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত একটি নির্বাচন রোডম্যাপ প্রদান করার আহ্বান জানিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, আমরা বলছি জুলাই আগস্টে নির্বাচন সম্ভব। তার আগে নির্বাচনের জন্য আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক কিছু সংস্কার করে আমরা নির্বাচনমুখী হতে চাই। কেউ কেউ বলছেন নির্বাচন আগে, আবার কেউ কেউ বলছেন সংস্কার আগে। নির্বাচন ও সংস্কার দুটিকে গুলিয়ে ফেলা ঠিক হবে না। সংস্কার চলমান প্রক্রিয়া। যতদিন দেশ থাকবে ততদিন আমাদের সংস্কারের মধ্যে দিয়ে যেতে হবে।

শেখ হাসিনা দেশের বাইরে থেকে বিশৃঙ্খলা করার জন্য অর্থ বিনিয়োগ করেছেন, প্রধান উপদেষ্টা এমন বক্তব্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শেখ হাসিনার দোসররা উপদেষ্টা পরিষদে অন্তর্ভুক্ত আছেন। আমরা পরামর্শ দিয়েছিলাম বাদ দেওয়ার জন্য, কিন্তু আপনারা শোনেন নাই। শেখ হাসিনার দোসররা প্রশাসনের সর্বোচ্চ পর্যায়ে বহাল রয়েছে। এদের বহাল রেখে আপনি বেশি দূর এগোতে পারবেন না। শেখ হাসিনার নিয়োজিত মন্ত্রিপরিষদ সচিব ২ মাস ৫ দিন চাকরি করে অবসরে গেছেন। কিন্তু তিনি আপনার হয়ে কাজ করছেন নাকি শেখ হাসিনার পারপাস সার্ভ করেছেন। এভাবে সচিবালয়সহ গুরুত্বপূর্ণ সব জায়গায় ফ্যাসিবাদের দোসররা বসে আছে, আপনি কীভাবে সফল হবেন?

এসময় আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ফজলুর রহমানসহ আঞ্চলিক সম্পাদক পরিষদের সদস্যবৃন্দ।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন