জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমাদের এত তালা কেনার টাকা নেই যে নারীদের ঘরে তালাবদ্ধ করে রাখব। আমরা নারীদের জন্য নিরাপদ সমাজ ও কর্মস্থল নিশ্চিত করব। বড় শহরগুলোতে আলাদা বাস সার্ভিস চালু করা হবে, যাতে নারীরা নিরাপদে চলাচল করতে পারেন।
সোমবার কুষ্টিয়া আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা গভীরভাবে বিশ্বাস করি, যারা ৫৪ বছর ধরে দেশটাকে খাবলে খামছে একেবারে তছনছ করে দিয়েছে। তাদের দৃষ্টিভঙ্গি ও চরিত্র পরিবর্তন না হলে দেশের জন্য ভালো কিছুই করতে পারবে না।
৫ আগস্টের পর শত শত মানুষকে অন্যায় মামলার আসামি করা হয়েছে অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, সেই আসামিতে জনগণ আছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা আছেন। এমনকি সিভিল সার্ভিস প্রশাসনের লোকেরাও আছেন। এই তো হয়ে গেল মামলা বাণিজ্য। জায়গায় জায়গায় আমাদের ভাইয়েরা নেমে পড়লেন চাঁদাবাজি করতে। এই ভাইদের প্রতি আমরা খুব দরদ ভরা মনে বলতে চাই, সত্যিই যদি আপনাদের সংসারে অভাব অনটনের কারণে আপনারা এই কাজগুলা করে থাকেন। আপনারা এখান থেকে সরে আসুন। আল্লাহ আমাদের যে রিজিক দিয়েছেন, ওইটাই আপনাদের সঙ্গে ভাগাভাগি করে ফেলতে রাজি আছি।
কুষ্টিয়ার সমস্যা প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, এ অঞ্চলে অনেকগুলো সমস্যা আছে। আমরা যখন আসছিলাম ওপর থেকে দেখছিলাম, পদ্মা-গড়াই নদী নয়, যেন মরুভূমি। এটা যখন মরুভূমি হয়ে গিয়েছে তখন আর নদী থাকে না। ওই নদীতে যখন ঢলের পানি আসে, তখন দুই কুল উপচে পড়ে, দুই কুল ভাসিয়ে সবকিছুকে তছনছ করে দেয়। বছরের পর বছর নদী ভাঙনের কবলে পড়ে বহু মানুষের জীবনের স্বপ্ন ভঙ্গ হয়েছে। অনেক মানুষ সর্বস্বান্ত। কেন এমনটা হলো? নদী তো আল্লাহর নিয়ামত।
তিনি বলেন, আমাদের দেশে আল্লাহর এ নিয়ামতগুলোকে তিলে তিলে খুন করা হয়েছে, হত্যা করা হয়েছে। এই নদী খননের জন্য প্রত্যেক বছর বাজেট থাকে। নদী খননের সমস্ত টাকা মুখ দিয়ে ঢুকে, পেটের ভেতরে চলে যায়; নদীর বালি আর ওঠে না। খননও হয় না। উন্নয়নের নামে ৫৪ বছর কম-বেশি যারাই ক্ষমতায় গিয়েছেন এই একই কাজ তারা করেছে।
দেশের অন্যতম বৃহৎ চালের মোকাম কুষ্টিয়ায়। এখানে খাজনার নামে চাঁদা তোলা হয় অভিযোগ তুলে আমির বলেন, এখান থেকে চাল বোঝাই করে ট্রাক রাজধানী ও দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে যায়। এখানে প্রতিটি ট্রাক থেকে বেসরকারি খাজনা আদায় করা হয়। চাঁদা বললে মানুষ একটু লজ্জা পায়, এজন্য বললাম বেসরকারি খাজনা। রেটও ভালো। প্রতি ট্রাকে ৫ হাজার টাকা। ট্রাকের মালিকরা অতিষ্ঠ, ব্যবসায়ীরা অতিষ্ঠ।
তিনি বলেন, আমরা নিজেরা খাওয়ার জন্য রাজনীতি করি না এবং দলীয় কর্মীদের পেট ভরানোর জন্য আমরা রাজনীতি করি না। বরঞ্চ এ দেশের দুঃখী বোখা-নাঙ্গা মানুষের মুখে একটু খাবার তুলে দিতে পারি। আর পিঠে একটু কাপড় তুলে দিতে পারি সেই রাজনীতি করি। এটাই হবে আমাদের সংগ্রাম, ইনশাআল্লাহ।
কুষ্টিয়ার চিনিকল বন্ধ হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে জামায়াত আমির বলেন, কুষ্টিয়া চিনিকল বন্ধ হয়ে আছে। দুনিয়ার সব জায়গায় ইন্ডাস্ট্রির বিস্তার ঘটছে, আর আমাদের একটা একটা করে তালা ঝুলানো হয়েছে। শহীদ মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের আমির যখন শিল্পমন্ত্রী ছিলেন- তখন তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন আজ থেকে আর কোনো সরকারি কল কারখানায় তালা ঝুলবে না। বরঞ্চ ঝুলা তালা যেখানে যেখানে আছে, সেগুলা খোলার চেষ্টা করব আমি এবং তিনি তাই করেছিলেন। বন্ধ লোকসানি চিনিকলগুলা খুলে দিয়ে বিভিন্ন জায়গায় সেইগুলাকে মাত্র আড়াই বছরের মাথায় লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছিলেন।
জামায়াত আমির বলেন, ‘তিনি করতে পেরেছিলেন, তার ব্যক্তিগত সততা ছিল। তার মাঝে স্বজনপ্রীতি ছিল না। তিনি একজন বিশ্বনেতা ছিলেন। তিনি জাতির জন্য প্রাণভরে কাজ করতে চেয়েছিলেন। তিনি বুয়েট থেকে পাস করা কোনো ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন না। তিনি একজন আলেমে দ্বীন ছিলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের একজন ছাত্র ছিলেন। তিনি যদি শিল্পে এসে শিল্পের বিপ্লব ঘটাতে পারেন। আমরা বিশ্বাস করি জনগণ যদি সুযোগ দেয়, তাহলে ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশের সব সেক্টরে বিপ্লব ঘটবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


চাঁদাবাজদের হাতেও কাজ তুলে দিতে চাই— বললেন জামায়াত আমির