এখন মাইনাস- টু ফর্মুলার কথা যারা বলে, ওই আশা জীবনে পূরণ হবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
শুক্রবার রাজধানী শেরেবাংলা নগরস্থ শহীদ জিয়ার মাজারে পুষ্পার্পনের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি এ কথা বলেন।
যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফেরা বিএনপির নেতাকর্মীদের কথা উল্লেখ করে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, তাদের স্বাগত জানানোর মূল কারণ হচ্ছে এই লোকগুলো বিগত ১৬ বছর যুক্তরাষ্ট্রের থেকে ফ্যাসিস্ট বিরোধী স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের সোচ্চার ছিল। তারা হোয়াইট হাউজের সামনে, তারা ক্যাপিটাল হিলে, ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের সামনে স্বৈরাচার শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে লড়েছেন। তার সম্মুখীন হয়েছেন সামনে গিয়ে প্রতিবাদ করেছেন, তার সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে স্লোগান দিয়েছেন। দেশে এদের সকলের আত্মীয়-স্বজনসহ সবার নামে মামলা আছে। এদের পরিবারের বিরুদ্ধে মামলা আছে। এদের অনেকে ব্যবসা হারিয়েছে চাকরি হারিয়েছে। এদের পরিবারের অনেক লোক জীবনও দিয়েছে।
তিনি বলেন, আমরা আন্দোলনের কথা বলিতো, আন্দোলন একদিনে হয়নি। এই আন্দোলন গত ১৫-১৬ বছরের কত লোকের যে ত্যাগ স্বীকার হয়েছে সেটা অনেকে ভুলে যায়। আমরা শুধু রিসেন্ট আন্দোলনের কথা বলি তো। গত ১৫-১৬ বছর এই লোকগুলো কিন্তু আন্দোলনের বড় একটা অংশ। এদেরকে বাদ দিয়ে কোন আন্দোলন হয়নি। এরা যুক্তরাষ্ট্রের সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করেছে। যুক্তরাষ্ট্র সরকারের আইন প্রণেতাদের উপর, কংগ্রেস ম্যান, সেনেটার এদের উপর চাপ সৃষ্টি করেছে। বিভিন্ন সংস্থাগুলোর উপর চাপ সৃষ্টি করেছে। তার ফলশ্রুতিতে বাংলাদেশে তাদের পরিবারের অনেক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়েছে। কিন্তু এরা সেখানে থেমে থাকেনি। গত ১৫-১৬ বছর তারা দেশে আসতে পারেনি। তাদের আত্মীয়-স্বজনকে দেখতে পারেনি। তাদের পরিবারকে দেখতে পারেনি। আজ এত বছর পরে এই লোকগুলো দেশে ফিরতে সক্ষম হয়েছে।
ম্যাডাম যাওয়ার পরে মাইনাস টু এর কথা সামনে আসছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কেউ যদি মনে মনে মন গড়া কথা বলেন সেটা তাদের সমস্যা। বাংলাদেশ আজকে যেখানে দাঁড়িয়ে আছে, বাংলাদেশের জনপ্রিয় দল জাতীয়তা বাদী দল আজকে যেখানে দাঁড়িয়ে আছে, সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী, সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা তারেক রহমানের অপেক্ষায় চেয়ে থাকবে বাংলাদেশ। এখন মাইনাস টু এর কথা যারা বলে, অনেকে বলে না 'উইশ ফুল থিং কিং' আশা আর কি। ওই আশা জীবনে পূরণ হবে না। ওইটা এরশাদ পারেনি। ওইটা ওয়ান ইলেভেন (এক এগার) পারে নাই। আর এখন তো তার চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী দল। বিএনপি ত্যাগ করে আজকে একটি সবচেয়ে শক্তিশালী দলে পরিণত হয়েছে। সুতরাং ওই সমস্ত মনগড়া কথা বলা আর তার উত্তর দেয়ারও আমি প্রয়োজনীয়তা বোধ করি না।
গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হতেই হবে। এটাই প্রথম ধাপ। নির্বাচন হলো প্রথম সংস্কার। এটা দিয়েই শুরু করতে হবে সংস্কার এবং গণতন্ত্রের আন্দোলন। গণতন্ত্রের প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আগামী দিনের যে পরিবর্তনের প্রত্যাশা সেটা আগামী দিনে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

