গাজীপুরের ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (ডুয়েট) উপাচার্য (ভিসি) প্রত্যাহারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর বহিরাগতদের বর্বরোচিত ও সশস্ত্র হামলায় তীব্র নিন্দা, ক্ষোভ ও গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশ।
রোববার ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সভাপতি রিদওয়ান মাযহারী এবং সেক্রেটারি সাআদ বিন জাকির গণমাধ্যমে প্রেরিত এক যৌথ বিবৃতিতে জানান, ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবের মূল স্পিরিটই ছিল ক্যাম্পাসগুলোকে লেজুড়বৃত্তি, পেশিশক্তি, বহিরাগত সংস্কৃতি এবং গুণ্ডাতন্ত্রের কবল থেকে মুক্ত করা। কিন্তু ডুয়েটের এ ন্যক্কারজনক ঘটনা প্রমাণ করে- একটি বিশেষ গোষ্ঠী এখনো অতীতের ফ্যাসিবাদের কায়দাতেই শিক্ষাঙ্গণে নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একাংশ, সাধারণ শিক্ষার্থী ব্যানারে ভিসি প্রত্যাহারের দাবিতে আন্দোলন শুরু করে, তাদের আন্দোলনের যৌক্তিকতা নিয়ে অবশ্যই প্রশ্ন তোলার অবকাশ রয়েছে। কিন্তু কোনো আন্দোলন অযৌক্তিক হলেও তার সমাধান কখনোই লাঠিসোঁটা বা বহিরাগত সন্ত্রাসী দিয়ে হামলা করা হতে পারে না। আদর্শিক ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে সেই অযৌক্তিকতার মোকাবিলা না করে, রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশে বাইরে থেকে সন্ত্রাসী ভাড়া করে এনে ছাত্রদের ওপর লেলিয়ে দেওয়া কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
ডুয়েটের এ ন্যক্কারজনক হামলায় যদি ছাত্রদলের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পৃক্ততা থেকে থাকে, তবে তাদের উদ্দেশে ছাত্র জমিয়ত স্পষ্ট বার্তা দিতে চায়, বিগত ফ্যাসিবাদের পতনের পর ছাত্রসমাজ আপনাদের কাছ থেকে কোনো নতুন আধিপত্যবাদের পুনরাবৃত্তি আশা করে না। অতীতের ছাত্রলীগের কায়দায় ক্যাম্পাস দখল, বহিরাগতদের ব্যবহার এবং ভিন্নমতের ওপর সশস্ত্র চড়াও হওয়ার মানসিকতা পরিহার করুন। আন্দোলন যৌক্তিক হোক বা অযৌক্তিক, তা দমনের জন্য যদি আপনারা পেশিশক্তি ও গুণ্ডাতন্ত্রের আশ্রয় নেন, তবে সাধারণ ছাত্র-জনতা যেভাবে পূর্ববর্তী স্বৈরাচারকে ক্যাম্পাস থেকে বিতাড়িত করেছে, ঠিক একইভাবে যেকোনো নতুন অন্যায়ের বিরুদ্ধেও রুখে দাঁড়াতে দ্বিধা করবে না।
আমরা স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করতে চাই—রাজনীতি হতে হবে সম্পূর্ণ প্রকাশ্য, আদর্শিক এবং শৃঙ্খলাপূর্ণ; কোনো ‘গুপ্ত ষড়যন্ত্র’ বা বহিরাগতদের অস্ত্রের মহড়ার চারণভূমি শিক্ষাঙ্গণ হতে পারে না। আমরা ডুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর এই সশস্ত্র হামলার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছে এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সরকারের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি যে, অবিলম্বে এ হামলার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষী ও হামলাকারী বহিরাগত সন্ত্রাসীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সাথে, প্রতিটি ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের জানমালের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করে সুস্থ, নিরাপদ ও ইনসাফপূর্ণ পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জোর আহ্বান জানাচ্ছি।
এএস
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


