আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

আমরা ভয়ভীতিমুক্ত সুষ্ঠু নির্বাচন চাই: জামায়াত আমির

স্টাফ রিপোর্টার

আমরা ভয়ভীতিমুক্ত সুষ্ঠু নির্বাচন চাই: জামায়াত আমির

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমরা ভয়ভীতিমুক্ত একটা সুষ্ঠু নির্বাচন চাই। যে নির্বাচনে জনমতের প্রতিফলন ঘটবে। মানুষ স্বস্তির সঙ্গে ভোট দিতে পারবে, কোনো ভয়ভীতির পরিবেশ থাকবে না।

বুধবার দুপুরে রাজধানীর কল্যাণপুরে ইবনেসিনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দলের আহত নেতাকর্মীদের দেখতে গিয়ে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। মঙ্গলবার মিরপুরের পীরেরবাগ এলাকায় বিএনপির হামলায় জামায়াত-শিবিরের ১৬ জন আহত হয় বলে দলটি জানিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে জামায়াত আমির বলেন, মঙ্গলবার কাফরুলের পীরেরবাগ এলাকায় সকাল ও বিকেলে দুটি ঘটনা ঘটে। দুটি ঘটনায়ই জামায়াতের নারী কর্মী ও দায়িত্বশীলদের ওপর বেদনাদায়কভাবে হামলা চালায় বিএনপি। তাদেরকে আবদ্ধ করেও রাখে। পরে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী ও আমাদের লোকদের উপস্থিতিতে তারা মুক্তি পায়। এতেই তারা ক্ষান্ত হয়নি, তারা আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। তাদের মধ্যে অন্তত ১৬ জন গুরুতর আহত হয়। আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, কেন এমন ঘটলো? বৃহস্পতিবার থেকে আমাদের নির্বাচনি প্রচার শুরু হবে। আমাদের কোনো প্রার্থী আচরণবিধি লংঘন করলে তার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নেবে কর্তৃপক্ষ। তারা কর্তৃপক্ষকে বলবে, কর্তৃপক্ষ তাদের মত উদ্যোগ নিয়ে আমাদেরকে সতর্ক করবে। আমাদের কাছে জানতে চাইবে, আরো অনেক পদক্ষেপ নেয়ার এখতিয়ার আছে। কিন্তু এ ব্যাপারে মব সৃষ্টি করার কোনো ব্যক্তি বা দলের এখতিয়ার নেই। আমরা এই নোংরা মবের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।

জামায়াত আমির বলেন, দুনিয়ার মানুষ এখন অনেক সচেতন। মব সৃষ্টি করে জনমত প্রভাবিত করার দিন শেষ। সবাই জনগণের কাছে নিজের বক্তব্য, দলের কার্যক্রম, নিজের চরিত্র নিয়ে যাবে, জনগণ অতীত-বর্তমান বিচেনা করে আস্থা রাখার সিদ্ধান্ত নেবে।

তিনি বলেন, আমাদের বক্তব্য স্পষ্ট। আমরা দুর্নীতি- দুঃশাসনমুক্ত, ন্যায়-ইনসাফভিত্তিক সমাজ গড়তে চাই। যেই সমাজে ফ্যাসিজম আর ফিরে আসবে না। তিনি ৩০০ আসনের প্রার্থীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, দয়াকরে জনগণের প্রতি আস্থা রাখুন। জনগণকে পছন্দমত ভোট দেওয়ার সুযোগ দিন। এতে যেই নির্বাচিত হবেন, সব দলের দায়িত্ব হবে তাকে সহযোগিতা করা ও অভিনন্দন জানানো। কিন্তু এখনই সাড়ে ১৫ বছরের মত সবকিছু ওলটপালট করে দেওয়া হলে জাগ্রত যুব সমাজ কাউকে ক্ষমা করবে না। তারা’ত বুকের রক্ত দিয়ে পরিবর্তন এনেছে।

জামায়াত আমির বলেন, বিগত সময়ে ভোটের নাগরিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। একইভাবে যদি কেউ এখন তা কেড়ে নিতে চায়, তাহলে জনগণ ব্যালটের মাধ্যমে তার সমুচিত জবাব দেবে। আসুন, পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে সুষ্ঠু নির্বাচনে সহযোগিতা করি। জামায়াতে ইসলামী এ বিষয়ে অঙ্গীকারাবদ্ধ।

তিনি বলেন, যারা মা-বোন ও ভাইদের গায়ে হাত দিয়েছে তাদের তীব্র নিন্দা জানাই। তাদের কি মা-বোন নেই। তাদের প্রতি সম্মান জানানোর শিক্ষা না পেয়ে থাকলে দুর্ভাগ্য। আমরা এ ধরণের নোংরা ঘটনা শুনতে চাই না। আমরা নির্বাচন কমিশন ও সরকারকে বলবো -যদি সুষ্ঠু নির্বাচনের অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করতে চান, তাহলে আপনাদের দায়িত্ব অবশ্যই পালন করতে হবে। অবশ্যই সবার জন্য সমতল মাঠ ও সমান সুযোগ দিতে হবে। যারা সন্ত্রাস ও দুর্বৃত্তপনা করবে তাদেরকে মুখের দিকে না তাকিয়ে দায়িত্বের দিকে তাকিয়ে আইনের আওতায় আনতে হবে।

তিনি বলেন, এগুলো নিয়ে আমরা এখনই মামলা-মোকদ্দমায় যাচ্ছি না, মামলা মোকদ্দমা সমাধান নয়। কিন্তু আমাদেরকে এটা করতে বাধ্য করবেন না। আমরা সামাজিক সচেতনতার মাধ্যমেই ইনশাআল্লাহ এগুলোর মোকাবিলা করবো।

তিনি বলেন, মায়েদের গায়ে হাত দিল, মসজিদ থেকে মোবাইলগুলো কেড়ে নিল আর আইনশৃঙ্খলাবাহিনী তাকিয়ে তাকিয়ে দেখলো। কীভাবে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে? আমরা তার পুনরাবৃত্তি আর দেখতে চাই না। সবাই তার দায়িত্ব পালন করুক, দেখতে চাই। আমরা প্রশাসনকে সবধরণের সহযোগিতা দেব ইনশাআল্লাহ।

জামায়াত আমির বলেন, চোখে অন্ধকার দেখলে মাথা গরম হয়। আমরা আমাদের জনগণের প্রতি আস্থা রাখি। এটা মানবিক ও যুব সমাজের আকাঙ্খার বাংলাদেশ, মা-বোনদের জন্য নিরাপত্তার বাংলাদেশ। যুব সমাজের হাতে কাজ তুলে দেওয়ার যে অঙ্গীকার জামায়াত দিয়েছে, সেটাই যদি কারো মাথা গরমের কারণ হয়ে থাকে, আমরা বলবো- আপনারা আরো ভাল জিনিস নিয়ে আসুন। জনগণ তা কবুল করলে আপত্তি নেই। কিন্তু আমাদের কর্মসূচিতে বাধা দিবেন না, আমাদের মত করতে দিন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...