নির্বাচনি কার্যক্রম পরিচালনা ও দলীয় প্রার্থীদের প্রচারের জন্য কেন্দ্রীয়ভাবে ‘ক্রাউড ফান্ডিং’ শুরু করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
সোমবার বিকালে রাজধানীর বাংলামোটরে রূপায়ন ট্রেড সেন্টারে দলের অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন দলটির মুখপাত্র ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
সংবাদ সম্মেলনে আসিফ মাহমুদ বলেন, এনসিপির প্রায় ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ প্রার্থী কেন্দ্রীয়ভাবে এই ক্রাউড ফান্ডিংয়ের আওতায় নির্বাচনি ব্যয় পরিচালনা করবেন। এর মাধ্যমে অর্থ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা যাবে। তিনি জানান, দাতারা চাইলে সরাসরি জাতীয় নাগরিক পার্টিকে অথবা নির্দিষ্ট কোনো পছন্দের প্রার্থীকে অনুদান দিতে পারবেন।
আসিফ মাহমুদ বলেন, দলের পূর্ব প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী অনুদান বাবদ কত অর্থ এসেছে, কীভাবে তা ব্যয় হয়েছে এবং কোন খাতে ব্যয় হয়েছে—সব তথ্য প্রতিবছর অডিট রিপোর্টের মাধ্যমে প্রকাশ করা হবে। এই অডিট রিপোর্ট দেশবাসীর জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
আসিফ বলেন, ‘আমরা যখন স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার কথা বলি, তখন সেটা শুধু অন্যদের সমালোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চাই না। নিজেদের ক্ষেত্রেও আমরা সেটা প্রমাণ করতে চাই।’
নির্বাচন কমিশনসহ রাজনৈতিক অঙ্গনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে এনসিপি যে অবস্থান নিয়েছে, সেটার বাস্তব উদাহরণ হিসেবে এই ক্রাউড ফান্ডিং কার্যক্রমকে দেখছেন দলটির মুখপাত্র। তিনি বলেন, বাংলাদেশে যে ‘নতুন বন্দোবস্ত’ বা নতুন রাজনৈতিক চর্চার কথা এনসিপি বলে আসছে, প্রতিটি কাজের মধ্য দিয়েই তার দৃষ্টান্ত তুলে ধরতে চায় দলটি।
সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির প্রার্থীদের সামাজিক ও আর্থিক অবস্থার কথাও তুলে ধরেন আসিফ মাহমুদ। তিনি বলেন, দলের প্রার্থীদের মধ্যে শত শত বা হাজার কোটি টাকার ঋণখেলাপি কেউ নেই, নেই বিদেশি নাগরিকত্ব বা বিদেশে বাড়িঘরের মালিকানাও। বেশির ভাগ প্রার্থীই তুলনামূলকভাবে সাধারণ পটভূমি থেকে এসেছেন। কেউ সাম্প্রতিক সময়ে চাকরি ছেড়ে রাজনীতিতে যুক্ত হয়েছেন, কেউ বা পড়াশোনা শেষ করে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর রাজনীতিতে সক্রিয় হয়েছেন। হলফনামা পর্যালোচনা করলেও দেখা যাবে, হাতে গোনা কয়েকজন কোটিপতি প্রার্থী। বেশিরভাগ প্রার্থীই খুব বেশি স্বচ্ছল নন।
এনসিপির মুখপাত্র বলেন, দলটি বিশ্বাস করে, তাদের প্রকৃত সমর্থন আসবে জনগণের কাছ থেকেই। জনগণের অর্থনৈতিক নীতি থেকে শুরু করে প্রতিটি সিদ্ধান্তে জনগণের সমর্থন, সহযোগিতা ও পরামর্শ নিয়ে এগিয়ে যেতে চায় এনসিপি। সে কারণেই জনগণের অনুদানের ওপর নির্ভর করে নির্বাচনি বৈতরণী পার হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া দেশের জনগণের প্রতি আহ্বান জানান, তারা যেন পছন্দের এনসিপি প্রার্থী কিংবা দলকে সরাসরি অনুদান দিয়ে নির্বাচনি প্রচারে সহযোগিতা করেন। তিনি বলেন, জনগণের অর্থ ও সমর্থনে নির্বাচিত হলে সংসদে গিয়ে এনসিপির প্রার্থীরা জনগণের কণ্ঠস্বরই তুলে ধরবেন। অন্যথায় ব্যবসায়ী বা ঋণখেলাপিদের অর্থে নির্বাচিত হলে সংসদেও সেই স্বার্থই প্রাধান্য পাওয়ার আশঙ্কা থাকে। এনসিপি চায়, তাদের একমাত্র দায়বদ্ধতা থাকুক জনগণের প্রতিই।
সংবাদ সম্মেলনে এনসিপিকে অনলাইনে অনুদান দেওয়ার প্রক্রিয়া তুলে ধরেন নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য ফরহাদ সোহেল। আরও উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সেক্রেটারি মনিরা শারমিন, নির্বাচনি মিডিয়া উপ-কমিটির প্রধান মাহাবুব আলম প্রমুখ।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

