ঈদ মানেই নতুন কিছু কেনাকাটার আনন্দ। অনেকের ঈদের কেনাকাটার তালিকায় স্মার্টফোন কেনা অন্যতম। বিশেষ করে ঈদে বিভিন্ন ব্র্যান্ড আকর্ষণীয় অফার, ডিসকাউন্ট এবং EMI সুবিধা দেয়। যা ক্রেতাদের আকর্ষণ বাড়ায়। তবে ঈদের বাজেটে স্মার্টফোন কেনার সময় সঠিক ডিভাইস নির্বাচন করা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সবার চাহিদা আলাদা। কেউ সাধারণ ব্যবহারের জন্য, কেউ গেমিং, কেউ ফটোগ্রাফি বা কনটেন্ট ক্রিয়েটিংয়ের জন্য ফোন কিনতে চান। তাই, নতুন ফোন কেনার আগে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় মনে রাখা উচিত। আসুন জেনে নেওয়া যাক, স্মার্টফোন কেনার আগে কী কী বিষয় খেয়াল রাখা উচিত ।
সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য
যারা ফোন ব্যবহার করেন দৈনন্দিন কাজের জন্য যেমন কল, মেসেজ, সোশ্যাল মিডিয়া ব্রাউজিং, ইউটিউব দেখা এবং মাঝে মাঝে ছবি তোলা, তাদের জন্য উচ্চমানের স্পেসিফিকেশন প্রয়োজন হয় না। সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—প্রথমত, ভালো ডিসপ্লে, HD+ বা FHD ডিসপ্লে যথেষ্ট। দ্বিতীয়ত, প্রসেসর এবং RAM, ৩GB বা ৪GB RAM ভালো মাল্টিটাস্কিংয়ের জন্য। তৃতীয়ত, ব্যাটারি লাইফ, ৪০০০mAh বা তার বেশি ব্যাটারি সুবিধাজনক। চতুর্থত, স্টোরেজ, ৬৪GB ইন্টারনাল স্টোরেজ হলে ভালো এবং ক্যামেরা, ১৩MP বা তার বেশি রেজুলেশনের ক্যামেরা যথেষ্ট, ফ্রন্ট ক্যামেরা ভালো হলে আরো ভালো। শেষে, অপারেটিং সিস্টেম এবং ইউজার ইন্টারফেস গুরুত্বপূর্ণ, সিম্পল ও ইউজার-ফ্রেন্ডলি হওয়া উচিত। এসব ফিচার মিলে বাজেটের মধ্যে ভালো ফোন নির্বাচন করাই সেরা সিদ্ধান্ত।
গেমিংপ্রেমীদের জন্য
মোবাইলে গেমিং করতে ভালোবাসলে, ফোন কেনার সময় কিছু বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি। প্রথমত, শক্তিশালী প্রসেসর—যেমন Qualcomm Snapdragon 8 সিরিজ বা MediaTek Dimensity 1200 যা গেমিংয়ের জন্য উপযুক্ত। দ্বিতীয়ত, পর্যাপ্ত RAM—৮GB বা তার বেশি RAM ফোনের পারফরম্যান্স বাড়াবে। তৃতীয়ত, উন্নত GPU—যাতে গেমের ভিজ্যুয়াল পারফরম্যান্স ভালো হয়। চতুর্থত, বড় ডিসপ্লে এবং উচ্চ রেজোলিউশন—৬.৫ ইঞ্চি FHD+ ডিসপ্লে এবং ৯০Hz বা ১২০Hz রিফ্রেশ রেট গেমিং অভিজ্ঞতা উন্নত করবে। পঞ্চমত, দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারি—৫০০০mAh বা তার বেশি ব্যাটারি এবং দ্রুত চার্জিং সাপোর্ট। এ ছাড়াও, ১২৮GB বা তার বেশি স্টোরেজ এবং ভালো কুলিং সিস্টেমও গুরুত্বপূর্ণ। এসব ফিচার বাজেট অনুযায়ী ফোনে নির্বাচন করা সেরা সিদ্ধান্ত হবে।
ফটোগ্রাফি ও ভিডিওগ্রাফির জন্য
ফটোগ্রাফি ও ভিডিওগ্রাফিপ্রেমীদের জন্য ক্যামেরার গুণমান গুরুত্বপূর্ণ। ৪৮ মেগাপিক্সেল বা তার বেশি রিয়ার ক্যামেরা এবং ২০ মেগাপিক্সেল সেলফি ক্যামেরা আদর্শ। অপটিক্যাল ইমেজ স্ট্যাবিলাইজেশন (OIS) ভিডিওগ্রাফির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যা কম্পন কমাতে সাহায্য করে। আলাদা লেন্স সিস্টেম (আল্ট্রা-ওয়াইড, টেলিফটো, ম্যাক্রো) এবং ৪K ভিডিও রেকর্ডিং সাপোর্ট থাকা প্রফেশনাল ফটোগ্রাফির জন্য প্রয়োজন। ক্যামেরার সফটওয়্যার ফিচার যেমন পোর্ট্রেট মোড, নাইট মোড এবং স্লো মোশন ফিচারও এক্সপেরিয়েন্স বাড়ায়। ডিসপ্লে কোয়ালিটি (AMOLED বা OLED) ছবির রঙ এবং বিস্তারিত ভালোভাবে দেখতে সাহায্য করে। ভিডিও ফাইলের জন্য ১২৮GB বা তার বেশি স্টোরেজ থাকা উচিত। সব মিলিয়ে, ক্যামেরা স্পেসিফিকেশন, ভিডিও পারফরম্যান্স, স্টোরেজ ও ডিসপ্লে বিবেচনা করে ফোন নির্বাচন করা উচিত।
ইউটিউবার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য
ইউটিউবার এবং কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য ফোন নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ক্যামেরার গুণমান প্রথমেই আসবে। বিশেষ করে ৪K ভিডিও রেকর্ডিং সাপোর্ট, উন্নত ফোকাস, স্ট্যাবিলাইজেশনসহ (OIS)। স্টোরেজও বড় হওয়া উচিত। কমপক্ষে ১২৮GB, কারণ ভিডিও ও অডিও ফাইলের জন্য অনেক জায়গা প্রয়োজন। ব্যাটারি লাইফও গুরুত্বপূর্ণ, ৫০০০ mAh বা তার বেশি ব্যাটারি ভালো হবে। উন্নত প্রসেসর এবং কমপক্ষে ৬GB RAM ভিডিও এডিটিং ও মাল্টিটাস্কিংয়ের জন্য অপরিহার্য। ডিসপ্লে কোয়ালিটি (AMOLED বা OLED) ভিডিও এডিটিংয়ের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অডিও কোয়ালিটি বিশেষত মাইক্রোফোন এবং অডিও প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ। এ ছাড়া, ক্যামেরা সফটওয়্যার ফিচার যেমন পোর্ট্রেট মোড, স্লো মোশন এবং প্রো মোড ইউটিউবারদের জন্য উপযুক্ত। এসব ফিচারের মাধ্যমে কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য সেরা ফোন নির্বাচন করা সম্ভব।
স্টোরেজের ক্ষেত্রে বিশেষ প্রয়োজন
স্টোরেজ একটি গুরুত্বপূর্ণ ফিচার। বিশেষত যারা অনেক ফাইল, ছবি, ভিডিও, অ্যাপস বা অন্যান্য ডেটা সংরক্ষণ করতে চান। প্রথমত, স্টোরেজ ক্যাপাসিটি—কমপক্ষে ১২৮GB বা তারও বেশি স্টোরেজ থাকা উচিত। এটি আপনার ডেটার নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে এবং ডেটা স্থানান্তরের ঝামেলা কমাবে। দ্বিতীয়ত, Expandable Storage (মাইক্রোএসডি কার্ড স্লট)—যদি ফোনে মাইক্রোএসডি কার্ড স্লট থাকে, তবে আরো বেশি ডেটা সংরক্ষণ করা সম্ভব। তৃতীয়ত, Cloud Storage Integration—ক্লাউড স্টোরেজ (Google Drive, iCloud) ব্যবহার করে ফোনের স্টোরেজ বৃদ্ধি করা যেতে পারে। চতুর্থত, স্টোরেজ টাইপ—UFS 2.1 বা UFS 3.1 মতো দ্রুত স্টোরেজ প্রযুক্তি ব্যবহার করলে ডেটা স্থানান্তর ও অ্যাপ্লিকেশন রান করার গতি বাড়বে। পঞ্চমত, ব্যাকআপ সমাধান—নিয়মিত ব্যাকআপে আপনার গুরুত্বপূর্ণ ডেটা হারানোর ঝুঁকি কমে যাবে। এসব বিষয় খেয়াল রেখে আপনি স্মার্টফোনের স্টোরেজ ব্যবস্থাপনা আরো কার্যকর করতে পারবেন।
ঈদে নতুন স্মার্টফোন কেনার সময় আপনার প্রয়োজন ও বাজেট অনুযায়ী সঠিক ডিভাইস নির্বাচন করা। যেহেতু সবাই বিভিন্ন কাজে ফোন ব্যবহার করেন, তাই সাধারণ ব্যবহার, গেমিং, ফটোগ্রাফি, ভিডিওগ্রাফি, কনটেন্ট ক্রিয়েটিং বা স্টোরেজ প্রয়োজনে—প্রত্যেকের জন্য আলাদা ফোন প্রয়োজন। সঠিক স্পেসিফিকেশন এবং ফিচারগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে ফোন নির্বাচন করলে আপনার ঈদের কেনাকাটা হবে আরো উপভোগ্য এবং কার্যকর।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

