পথশিশুদের পড়াশোনা ও খেলাধুলার সুযোগ করে দিল ছাত্রদল

পথশিশুদের পড়াশোনা ও খেলাধুলার সুযোগ করে দিল ছাত্রদল
পথশিশুদের পড়াশোনা ও খেলাধুলার সুযোগ করে দিল ছাত্রদল। ছবি: সংগৃহীত

সুবিধাবঞ্চিত ও ছিন্নমূল শিশুদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে পুরান ঢাকার বাহাদুর শাহ পার্ক (ভিক্টোরিয়া পার্ক) এলাকায় পরিচালিত সাপ্তাহিক শিক্ষা কার্যক্রমে নতুন উদ্যম আনা হয়েছে। শিশুদের পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা ও বিনোদনের সুযোগ করে দিয়ে তাদের শিক্ষার প্রতি আরও আগ্রহী করে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সভাপতি কাজী জিয়া উদ্দিন বাসিতের পৃষ্ঠপোষকতায় এ কার্যক্রমে নতুনভাবে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন বাহাদুর শাহ পার্ক এলাকায় শুরু হওয়া এ শিক্ষাকার্যক্রম জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে আসছে।

বিজ্ঞাপন

নতুন উদ্যমে শিশুদের শিক্ষার পরিবেশকে আরও আনন্দঘন ও উৎসবমুখর করতে তাদের মধ্যে খেলাধুলার সামগ্রী বিতরণ করা হয়। এর মাধ্যমে শিশুদের ক্রীড়াপ্রেমী হিসেবে গড়ে ওঠার পাশাপাশি পড়াশোনার প্রতি তাদের আগ্রহ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া কার্যক্রমের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে অদ্যাবধি শিশুদের শিক্ষার অগ্রগতি ও মূল্যায়নের ভিত্তিতে তাদের পুরস্কৃত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, পুরস্কার প্রদানের ফলে শিশুদের মধ্যে পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ ও উৎসাহ আরও বাড়ছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কাজী জিয়া উদ্দিন বাসিত বলেন, ‘তাদের অপরাধপ্রবণতার জগতে যাতে কেউ ঠেলে দিতে না পারে, তাদেরকে স্বার্থ হাসিলের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে না পারে, সেজন্য তাদের এসব বিষয়ে সচেতন হতে ন্যূনতম শিক্ষার আলো তাদের মধ্যে থাকা বাঞ্ছনীয় বলে আমি মনে করি।’

তিনি আরও বলেন, ‘পাশাপাশি, তারা যেহেতু স্বাভাবিক জীবনযাপনে অভ্যস্ত নয়, তাই ক্রীড়া ও বিনোদন থেকেও তারা অনেকটা দূরে থাকে। কাজেই, তাদের খেলাধুলার বিষয়টাকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। এই খেলাধুলা তাদের শিক্ষার প্রতিও আগ্রহী করে তুলবে।’

শিক্ষাকার্যক্রমে অংশ নেওয়া পথশিশুদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এ ধরনের উদ্যোগ তাদের জন্য একেবারেই নতুন অভিজ্ঞতা। উপস্থিত শিশুদের একজন জানায়, ‘এরকম উদ্যোগ তারা কখনও দেখেনি।’ তারা আরও জানায়, পড়াশোনা ও খেলাধুলার প্রতি তাদের আগ্রহ থাকলেও সুযোগের অভাবে তারা তা করতে পারে না।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সুবিধাবঞ্চিত ও ছিন্নমূল শিশুদের শিক্ষার আওতায় আনার পাশাপাশি তাদের খেলাধুলা ও বিনোদনের সুযোগ তৈরি করা গেলে স্বাভাবিক ও সুন্দর জীবনযাপনের পথ আরও সুগম হবে। একই সঙ্গে শিক্ষা ও সচেতনতার মাধ্যমে এসব শিশুকে অপরাধপ্রবণতা থেকে দূরে রাখা এবং স্বার্থান্বেষী মহলের অপব্যবহার থেকে তাদের সুরক্ষা দেওয়াও সম্ভব হবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন