ঢাকা পরিচ্ছন্ন করতে দল-মতহীন ঐক্য চান মির্জা ফখরুল

স্টাফ রিপোর্টার

ঢাকা পরিচ্ছন্ন করতে দল-মতহীন ঐক্য চান মির্জা ফখরুল

রাজধানী ঢাকার দীর্ঘদিনের বর্জ্য ও নাগরিক সমস্যা সমাধানে সব দল ও মতের ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বুধবার ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন আয়োজিত ‘নগরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আমার আপনার সকলের দায়িত্ব’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ঢাকাকে সুন্দর ও বাসযোগ্য করতে আমরা আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি বা জামায়াতে ইসলামী দেখতে চাই না; আমরা সবাই ঢাকার সচেতন নাগরিক হিসেবে ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ দেখতে চাই।

মির্জা ফখরুল বলেন, ঢাকা আজ বিশ্বের সবচেয়ে খারাপ বাসযোগ্য শহরগুলোর মধ্যে নিচের দিক থেকে তিন নম্বরে অবস্থান করছে। এই পরিস্থিতি রাতারাতি বদলে ফেলা কোনো একক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সম্ভব নয়। সিটি কর্পোরেশনের একা সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা না থাকায় তারা অনেকটাই অসহায়। রাজউক, ওয়াসা ও বিদ্যুৎ বিভাগের সমন্বয়হীনতার কারণে বর্ষা এলেই রাস্তা খোড়াখুড়ির মতো সমস্যা তৈরি হয়। এই সংকটের স্থায়ী সমাধানে সিটি কর্পোরেশনকে একটি শক্তিশালী মূল কাঠামোর (গভর্নমেন্ট) অধীনে এনে অন্যান্য বিভাগের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা জরুরি।

নদী ও সুপেয় পানির তীব্র সংকটের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, একসময় যে বুড়িগঙ্গা ও তুরাগের পানি অত্যন্ত চমৎকার ও পরিষ্কার ছিল, আজ তা তীব্র দূষণে মৃতপ্রায়। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে নিচে নেমে যাওয়ায় এখন মেঘনা নদী থেকে প্রতিদিন ৫০ কোটি লিটার পানি ঢাকা শহরে আনার প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। বুড়িগঙ্গা, তুরাগ ও শীতলক্ষ্যা নদী এবং প্রাকৃতিক খালগুলো দখল ও দূষণ থেকে পুনরুদ্ধার করতে না পারলে ঢাকা শহরকে বাঁচানো যাবে না। পাশাপাশি মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা দূর করার ওপরও তিনি জোর দেন।

ঠাকুরগাঁও পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান হিসেবে নিজের পারিবারিক অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আইন প্রয়োগ করে বা সরকারি উদ্যোগে শুধু সব পরিবর্তন সম্ভব নয়। ক্যান্টনমেন্ট ও সিগন্যালে এআই প্রযুক্তির ভয়ে মানুষ যেভাবে নিয়ম মানছে, ডাস্টবিনে ময়লা ফেলার ক্ষেত্রেও সেই নিয়ম মেনে চলতে হবে। এই সচেতনতা প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কিন্ডারগার্টেনের শিশুদের মাধ্যমে শুরু করতে হবে এবং প্রতিটি পরিবারে ছড়াতে হবে।

তিনি বলেন, গত ৫০ বছরে বহু সেমিনার ও ভালো খাওয়া-দাওয়ার ওয়ার্কশপ হয়েছে, কিন্তু আসল কাজ একটাই—‘আমার শহর আমি পরিষ্কার রাখবো।’ জীবনের শেষভাগে এসে ঢাকাকে আবারো সুন্দর ও সবুজ দেখার আকুলতা প্রকাশ করে তিনি সবাইকে নিজ নিজ দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।

এসময় উপস্থিত ছিলেন— স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মীর শাহে আলম, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টন, রাজউক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার রিয়াজুল ইসলামসহ সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন