কচুয়া-বেতাগী সেতু বদলে দেবে দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ: জামাল

কচুয়া-বেতাগী সেতু বদলে দেবে দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ: জামাল
ঢাকাস্থ ঝালকাঠি জেলা সাংবাদিক সমিতির নেতাদের সঙ্গে রফিকুল ইসলাম জামালের মতবিনিময়। ছবি: আমার দেশ

কচুয়া-বেতাগী সেতু দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা বদলে দেবে বলে মনে করেন ঝালকাঠি-১ (কাঁঠালিয়া-রাজাপুর) আসনের সংসদ সদস্য ও ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি রফিকুল ইসলাম জামাল। তিনি বলেছেন, সেতুটি নির্মিত হলে পায়রা ও মোংলা বন্দরের সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ অনেক সহজ হবে, দূরত্ব কমবে দুই ঘণ্টার। এর ফলে এ অঞ্চলে শিল্পায়ন ও পর্যটনের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।

শনিবার ন্যাম ভবনের বাসায় ঢাকাস্থ ঝালকাঠি জেলা সাংবাদিক সমিতির নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন রফিকুল ইসলাম জামাল।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, এখন পটুয়াখালী বা বরগুনা অঞ্চলের মানুষ খুলনায় যেতে হলে বরিশাল-বেকুটিয়া হয়ে ঘুরে যেতে হয়। এতে প্রায় ৭০-৭৫ কিলোমিটার পথ বেশি ঘুরতে হয়। রূপাতলীতে যানজটও তৈরি হয়। বেতাগী থেকে কচুয়ার দিকে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ তৈরি করা গেলে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের জন্য এটি বড় ধরনের সুবিধা হবে। পটুয়াখালী, বরগুনা, পিরোজপুর, বাগেরহাট, যশোর, মাগুরা ও সাতক্ষীরাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার সঙ্গে যোগাযোগের সময় অনেক কমে আসবে।

বিএনপির ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম জামাল বলেন, একদিকে আমাদের পায়রা বন্দর, আরেকদিকে মোংলা বন্দর। দুইটা বন্দরের দূরত্ব তখন মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যে চলে আসবে। আমরা এক ঘণ্টার মধ্যে মোংলা যেতে পারব, এক ঘণ্টা সোয়া ঘণ্টার মধ্যে পায়রা যেতে পারব। যোগাযোগব্যবস্থা সহজ হলে এ অঞ্চলে শিল্পকারখানা গড়ে ওঠার সম্ভাবনা তৈরি হবে। বিশেষ করে পায়রা ও মোংলা বন্দরের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগের সুযোগ কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান এ এলাকায় বিনিয়োগে আগ্রহী হতে পারে। আমরা কাঁঠালিয়ার শৌলজালিয়ায়ও পর্যটনের সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করছি। একটি ইকোপার্ক করার চেষ্টা চলছে।

সেতু নির্মাণের বিষয়ে তিনি বলেন, বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকে লিখিতভাবে জানানোর পর কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর পক্ষ থেকেও সেতুটির সম্ভাব্যতা যাচাই ও স্টাডির জন্য অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে। এ নিয়ে কার্যক্রম চলছে।

সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া নিজের একটি ফেসবুক পোস্টের প্রসঙ্গ টেনে এমপি রফিকুল ইসলাম জামাল বলেন, আমি যে কথা বলেছি, তা দলের কর্মীদের বিতর্কিত করতে নয়, বরং প্রকৃত চিত্র তুলে ধরেছি। একটা শ্রেণি আছে, যারা আওয়ামী লীগের দালালি করেছে। আওয়ামী লীগের সময়ে নিম্নমানের কাজ হয়েছে। এখন কিনে একইভাবে খারাপ কাজ করছে একটা শ্রেণির লোক। এর দায়-দায়িত্ব আমাদেরও নিতে হচ্ছে। রাষ্ট্রীয় কাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হলে অতীতের অনিয়ম ও দুর্নীতির ঘটনাগুলোও সামনে আনতে হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যাতে একই ধরনের অনিয়ম পুনরাবৃত্তি না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন- ঢাকাস্থ ঝালকাঠি জেলা সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক সকালের সময়ের সিনিয়র রিপোর্টার শহিদুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক আমার দেশ-এর স্টাফ রিপোর্টার মাহফুজ সাদি, সাংগঠনিক সম্পাদক ও দৈনিক আমার বার্তার ফটো সাংবাদিক মোস্তফা কামাল জাহিদ, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ও দৈনিক গণকণ্ঠের ক্রাইম চিফ মোরতুজা আমিন ডিলন এবং ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক ও রাইজিংবিডি ডটকমের আসাদ আল মাহমুদ, নির্বাহী সদস্য হুমায়ুন কবির, কবিরুজ্জামান মিয়া, নিজামুল হক ও সুমন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন