১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরা এবং জুলাই শহীদের নামে স্থাপনার নামকরণ ও মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ে আলাদা বিভাগ গঠনের অঙ্গীকার করেছে বিএনপি।
শুক্রবার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে এই ইশতেহারে এই অঙ্গীকার তুলে ধরেন। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এই ইশতেহার তুলে ধরেন।
মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের তালিকা প্রণয়ন এবং রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও স্বীকৃতি নিশ্চিতকরণ
রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে নিবিড় জরিপের ভিত্তিতে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের তালিকা প্রণয়ন করা হবে এবং তাদের যথাযথ রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও স্বীকৃতি প্রদান নিশ্চিত করা হবে। শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের কল্যাণার্থে নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা হবে। মূল্যস্ফীতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে মুক্তিযোদ্ধা ভাতা বৃদ্ধি এবং এই ভাতা ব্যবস্থাপনাকে দুর্নীতি ও ত্রুটিমুক্ত করা হবে।
মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরা
বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস বিকৃত করেছিল। শিক্ষা কারিকুলামে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরার যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মুক্তিযোদ্ধা উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগে উৎসাহিতকরণ
মুক্তিযোদ্ধা উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগে উৎসাহিত করা হবে এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করা হবে। মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট ও মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়িক ও শিল্প প্রতিষ্ঠানসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ব্যবস্থাপনায় যোগ্য ও দক্ষ মুক্তিযোদ্ধাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণ
দেশের সর্বত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি রক্ষা ও মুক্তিযুদ্ধকালীন বধ্যভূমি ও গণকবর চিহ্নিত করে সেসব স্থানে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ ও সংরক্ষণ করা হবে।
গণঅভ্যুত্থান ও ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে শহীদদের নামে সরকারি স্থাপনার নামকরণ: জুলাই গণঅভ্যুত্থানে এবং ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে সকল শহীদের তালিকা প্রস্তুত করে নিজ-নিজ এলাকায় তাদের নামে সরকারি স্থাপনার নামকরণ করা হবে। শহীদ পরিবারগুলোকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও অর্থনৈতিক সহায়তা প্রদান করা হবে।
গণঅভ্যুত্থান ও ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে শহীদদের সার্বিক সহায়তা প্রদান: গণঅভ্যুত্থানে ও ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে যেসব গণতন্ত্রকামী ব্যক্তি পঙ্গু হয়েছেন, চোখ হারিয়েছেন তাদেরকেও স্বীকৃতি, সুচিকিৎসা ও কর্মসংস্থানে সহায়তা প্রদান করা হবে।
গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ পরিবার ও যোদ্ধাদের কল্যাণার্থে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন আলাদা বিভাগ প্রতিষ্ঠা: জনগণের সমর্থনে বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ পরিবার ও যোদ্ধাদের দেখভালের জন্য মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি আলাদা বিভাগ প্রতিষ্ঠা করা হবে।
এই বিভাগ শহীদ ও আহতদের দায়েরকৃত মামলার বিচার দ্রুততর করা, সম্মানজনক জীবিকা এবং তাদের অসহায় সন্তানদের লেখাপড়ার দায়িত্ব নেবে। এই বিভাগে শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহতদের মধ্য থেকে যোগ্যদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

