আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

ডায়াবেটিসে না খাওয়া নয়, দরকার সঠিক খাদ্য ব্যবস্থাপনা

ধর্ম ডেস্ক

ডায়াবেটিসে না খাওয়া নয়, দরকার সঠিক খাদ্য ব্যবস্থাপনা

ডায়াবেটিস ধরা পড়লেই অনেকেই ভয় পেয়ে যান যে, এখন তো আর কিছুই খাওয়া যাবে না। কিন্তু বাস্তবতা ঠিক তার উল্টো। ডায়াবেটিস মানেই খাবার থেকে নিজেকে বঞ্চিত করা নয়; বরং সঠিক খাবার, সঠিক পরিমাণ ও সঠিক সময়ে খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলাই এখানে মূল চাবিকাঠি।

আপনি বিভিন্ন ধরনের খাবারই খেতে পারবেন—শুধু কিছু খাবার পরিমিত পরিমাণে খাওয়াটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

বিজ্ঞাপন

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে খাদ্য ব্যবস্থাপনার ৩টি মূল ভিত্তি

১. বৈচিত্র্যময় খাবার খান

প্রতিদিন একই ধরনের খাবার না খেয়ে খাদ্যতালিকায় রাখুন বিভিন্ন রঙ ও স্বাদের খাবার।

নানান ধরনের শাকসবজি, ফলমূল এবং পরিমিত পরিমাণে শ্বেতসার-জাতীয় খাবার। যেমন— লাল চালের ভাত, লাল আটার রুটি, আলু।

এতে শরীর প্রয়োজনীয় পুষ্টি পায় এবং রক্তে শর্করার ওঠানামা নিয়ন্ত্রণে থাকে।

২. সময়মতো খাবার খান

ডায়াবেটিস ব্যবস্থাপনায় খাবারের সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সকালের নাশতা, দুপুরের খাবার, রাতের খাবার— কোনো বেলার খাবার যেন বাদ না পড়ে। নিয়মিত সময়ে খাবার খেলে রক্তে শর্করার ভারসাম্য বজায় থাকে।

৩.যেসব খাবার কমিয়ে দিতে হবে

চিনি: সরাসরি চিনি, মিষ্টি, কোমল পানীয়, এবং উচ্চ গ্লাইসেমিক সূচকযুক্ত খাবার (যেমন- ময়দা, সাদা চালের ভাত, আলু) বর্জন করা উচিত, কারণ এগুলো দ্রুত রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দেয়।

লবণ নিয়ন্ত্রণ: দৈনিক লবণের চাহিদার চেয়ে বেশি খাওয়া ঠিক নয়, কারণ অতিরিক্ত লবণ উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়ায় । আলাদা লবণ বা কাঁচা লবণ খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।

চর্বি বা ফ্যাট: স্যাচুরেটেড ফ্যাট (লাল মাংস, ফাস্ট ফুড) এবং ট্রান্স-ফ্যাটযুক্ত ভাজা খাবার কমানো প্রয়োজন। রান্নায় অলিভ অয়েল, সয়াবিন বা সানফ্লাওয়ার অয়েলের মতো স্বাস্থ্যকর চর্বি অল্প পরিমাণে ব্যবহার করা যেতে পারে।

ডায়াবেটিস রোগী কোন শ্বেতসার-সমৃদ্ধ খাবার খেতে পারেন?

সঠিক ধরনের শ্বেতসার শরীরের জন্য ক্ষতিকর নয়। বেছে নিতে হবে স্বাস্থ্যকর উৎস—লাল চালের ভাত, লাল আটার রুটি, চাপাতি, খোসাসহ সেদ্ধ বা বেক করা মিষ্টি আলু।

প্রোটিন-সমৃদ্ধ খাবার: পেশী ও সুস্থতার জন্য অপরিহার্য

প্রোটিন শরীরের পেশী গঠন ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। ডিম, মাছ ও মাংসে প্রচুর প্রোটিন থাকলেও— লাল মাংস (গরু, খাসি, ভেড়া), প্রক্রিয়াজাত মাংস (সসেজ, সালামি, পেপারনি) — এসব খাবারের পরিমাণ কমানো জরুরি, কারণ এগুলোর সঙ্গে হৃদরোগ ও ক্যান্সারের ঝুঁকির সম্পর্ক পাওয়া গেছে।

স্বাস্থ্যকর প্রোটিনের ভালো উৎস

  • সামুদ্রিক মাছ ও তৈলাক্ত মাছ (ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ)
  • ডাল, শিম, বরবটি ও অন্যান্য বীনজাতীয় খাবার
  • বাদাম ও বীজ

নিরামিষাশী ও ভেগানদের জন্য এসব খাবার গুরুত্বপূর্ণ প্রোটিনের উৎস

ডায়াবেটিস রোগীর জন্য প্রোটিন গ্রহণের কিছু সহজ উপায়

  • নাস্তায় ছোট এক মুঠ বাদাম
  • মাংস বা রান্নায় ডাল বা শিম
  • সেদ্ধ, পোচ বা অল্প তেলে ভাজা ডিম
  • গ্রিল বা বেক করা মাছ ও মাংস

দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার: ক্যালসিয়াম ও প্রোটিনের নির্ভরযোগ্য উৎস

দুধ, দই ও পনির হাড়, দাঁত ও পেশির জন্য অত্যন্ত উপকারী। তবে কিছু দুগ্ধজাত খাবারে অতিরিক্ত স্যাচুরেটেড ফ্যাট থাকে, যা ক্ষতিকর কোলেস্টেরল বাড়ায়। তাই বেছে নিন কম চর্বিযুক্ত এবং অতিরিক্ত চিনিমুক্ত বিকল্প।

প্রয়োজনীয় ক্যালসিয়াম

প্রতিদিন গড়ে প্রয়োজন প্রায় ১০০০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম

ডায়াবেটিস রোগীর জন্য উপযোগী দুগ্ধজাত খাবার

  • এক গ্লাস দুধ
  • ওটস বা সিরিয়ালের সাথে দুধ
  • ফল বা সবজির সাথে টক দই
  • গাজর ও শসার সাথে পনির
  • সন্ধ্যার নাস্তায় টক দই

চর্বি ও তেল: কম কিন্তু সঠিক নির্বাচন জরুরি

ডায়াবেটিস রোগীর খাদ্যতালিকায় চর্বি থাকা প্রয়োজন, তবে স্যাচুরেটেড ফ্যাট খুব সীমিত রাখতে হবে। স্যাচুরেটেড ফ্যাট বেশি থাকে—মাখন, নারিকেল তেল, পাম অয়েল।

স্বাস্থ্যকর বিকল্প: অলিভ অয়েল, অন্যান্য ভেজিটেবল অয়েল, বাদাম থেকে তৈরি বাটার (পিনাট বাটার, আমন্ড বাটার)।

ফল ও সবজি:

ডায়াবেটিস থাকলেই ফল খাওয়া যাবে না—এমন ধারণা ভুল। ফল ও শাকসবজিতে ভিটামিন, খনিজ ও আঁশে ভরপুর। কম মিষ্টান্ন ফল বা সিজনাল ফল প্রতিদিন খাদ্যতালিকায় রাখা যায়। তবে ফলের জুস ও স্মুদি এড়িয়ে চলাই ভালো, কারণ এতে ফাইবার বা আঁশ না থাকায় খুব দ্রুত রক্তের শর্করার মাত্রা (blood sugar) বাড়িয়ে দেয় । জুস তৈরিতে অনেকগুলো ফল একসাথে ব্যবহার হওয়ায় বেশি চিনি ও ক্যালরি গ্রহণ করা হয়, যা সুগার নিয়ন্ত্রণে বাধা দেয় ।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন