সুস্থ থাকতে শুধু ক্যালরি গণনা বা পুষ্টিকর খাবার নির্বাচনই যথেষ্ট নয়। নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, খাবারের সময়, খাওয়ার গতি এবং প্রতিটি গ্রাস কতটা ভালোভাবে চিবিয়ে খাওয়া হচ্ছে—এসব বিষয়ও হজম, বিপাকক্রিয়া (মেটাবলিজম) এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
দীর্ঘদিন ধরে ধারণা ছিল, ওজন নিয়ন্ত্রণের মূল ভিত্তি হলো শরীরে কত ক্যালরি প্রবেশ করছে এবং কত ক্যালরি খরচ হচ্ছে—এই দুইয়ের ভারসাম্য। তবে গবেষকরা বলছেন, বাস্তবে বিষয়টি এতটা সরল নয়। ক্যালরি অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু শরীর কীভাবে খাবার গ্রহণ ও প্রক্রিয়াজাত করছে, সেটিও সমানভাবে প্রভাব ফেলে।
গবেষণায় দেখা গেছে, ধীরে ধীরে এবং ভালোভাবে চিবিয়ে খাবার খাওয়ার অভ্যাস হজমপ্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর করে। এতে তুলনামূলক কম খাবারেই পেট ভরার অনুভূতি তৈরি হয় এবং অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ধীরে খাওয়ার ফলে শরীরের প্রাকৃতিক তৃপ্তির সংকেত মস্তিষ্কে পৌঁছানোর জন্য পর্যাপ্ত সময় পায়, যা দীর্ঘমেয়াদে ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে।
খাবার খাওয়ার সময়ও শরীরের বিপাকক্রিয়ার ওপর প্রভাব ফেলে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। তাদের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, নিয়মিত ও নির্দিষ্ট সময়ে খাবার খাওয়ার অভ্যাস শরীরকে পুষ্টি উপাদান আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে সাহায্য করে। পাশাপাশি এটি শক্তির ভারসাম্য বজায় রাখা এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্য উন্নত করতেও ভূমিকা রাখে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুস্থ জীবনধারা গড়ে তুলতে শুধু স্বাস্থ্যকর খাবার বেছে নিলেই হবে না। এর পাশাপাশি নিয়মিত সময়ে খাবার খাওয়া, ধীরে ধীরে ও ভালোভাবে চিবিয়ে খাওয়া, পর্যাপ্ত শারীরিক পরিশ্রম এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন—সবকিছুর সমন্বয়ই দীর্ঘমেয়াদে সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


