পুতিন চলে যাওয়ার পর কী হবে, প্রস্তুতি নিচ্ছেন জিনপিং

পুতিন চলে যাওয়ার পর কী হবে, প্রস্তুতি নিচ্ছেন জিনপিং
ছবি: সংগৃহীত

চীন নীরবে ভ্লাদিমির পুতিন ও তার ঘনিষ্ঠ বৃত্তের বাইরে রাশিয়ার অভ্যন্তরে তার রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্ক প্রসারিত করছে। রাশিয়ার এমন সরকারি কর্মকর্তা ও ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের সঙ্গে চীন সম্পর্ক তৈরি করছে, যারা পুতিনের ক্ষমতা ছাড়ার পর মস্কোর ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারেন।

বিষয়টি সম্পর্কে জানাশোনা আছে এরকম বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তা, বিশ্লেষকদের উদ্ধৃত করে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেইজিং রাশিয়ার রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে তার প্রভাব বিস্তার করছে। কিন্তু বেইজিং এমন কোনো প্রকাশ্য পদক্ষেপ এড়িয়ে চলছে যা ভ্লাদিমির পুতিনকে দুর্বল করার শামিল বলে মনে হতে পারে।

বিজ্ঞাপন

চীনা কর্মকর্তারা রাশিয়াকে ক্রমবর্ধমানভাবে একটি দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদার হিসেবে দেখছেন। তারা মনে করছেন, ভবিষ্যতে রাশিয়ার রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলাতে পারে। একারণেই বেইজিং বর্তমান ক্রেমলিন নেতৃত্বের বাইরেও বিভিন্ন ক্ষমতাবান গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলতে আগ্রহী হচ্ছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, রাশিয়া চীনের বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তি বা রুশ কর্মকর্তাদের নিয়োগের অভিযোগ প্রকাশ্যে তুলতে সতর্কতা অবলম্বন করছে। কারণ এতে দুই দেশের সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল বলছে, ইউক্রেনে পূর্ণাঙ্গ আগ্রাসন ও পশ্চিমাদের সঙ্গে সম্পর্ক ভেঙে পড়ার পর থেকে চীনের ওপর রাশিয়ার অর্থনৈতিক নির্ভরশীলতা আরো গভীর হয়েছে। রাশিয়ার বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রায় ৪০ শতাংশ এখন চীনের দখলে, যা ২০১৩ সালে ছিল প্রায় ১০ শতাংশ। অন্যদিকে, চীনের বৈশ্বিক বাণিজ্যে রাশিয়ার অংশ ৪ শতাংশেরও কম।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, মধ্য এশিয়াতেও চীন রাশিয়ার কাছ থেকে কিছু সুবিধা আদায় করেছে। রাশিয়া সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের একটি পরিকল্পিত উন্নয়ন ব্যাংকের প্রধান মুদ্রা হিসেবে চীনা ইউয়ান ব্যবহারের বিষয়ে তার দীর্ঘদিনের বিরোধিতা থেকে সরে এসেছে। এই পরিবর্তনের কারণ হিসেবে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার অধীনে রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান আর্থিক বিচ্ছিন্নতাকে দায়ী করা হয়।

প্রস্তাবিত ‘পাওয়ার অব সাইবেরিয়া ২’ গ্যাস পাইপলাইন নিয়ে আলোচনাকে বেইজিংয়ের প্রভাব খাটানোর বিষয়টি উল্লেখযোগ্য। এই প্রকল্পের মাধ্যমে রাশিয়া চীনে আরো বেশি গ্যাস বিক্রি করতে চায়।

কিন্তু চীন চাইছে রাশিয়া গ্যাসের দাম এমনভাবে নির্ধারণ করুক, যা চীনের জন্য খুব সুবিধাজনক। চীনা কর্মকর্তারা রাশিয়ার গ্যাস কোম্পানি গ্যাসপ্রমকে জানিয়েছেন, রাশিয়া এই শর্ত মেনে না নিলে আলোচনা এগোবে না। এ কারণে প্রকল্পটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

বার্লিনের কার্নেগি রাশিয়া ইউরেশিয়া সেন্টারের পরিচালক আলেকজান্ডার গাবুয়েভ সংবাদমাধ্যমটিকে বলেন, রাশিয়াকে এক বিশাল লাওস বা বিশাল পাকিস্তানে পরিণত করার এক বিরাট সুযোগ চীনের কাছে রয়েছে। তার মতে, রাশিয়া ভবিষ্যতে এমন একটি দেশে পরিণত হতে পারে, যা চীনের ওপর অনেক বেশি নির্ভর করবে এবং চীনকে উন্নয়নের মডেল হিসেবে দেখতে শুরু করবে।

জার্মান ব্যবসায়ী ইয়োর্গ ভুটকে পাইপলাইনটি অনুমোদন দেওয়ার ক্ষেত্রে চীনের উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, ‘চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং পুতিনকে এমনভাবে অভ্যর্থনা জানিয়েছেন-যেন একজন সম্রাট তার প্রাসাদে অতিথিকে স্বাগত জানাচ্ছেন, কিন্তু পরে তাকে তেমন বড় সুবিধা না দিয়েই ফেরত পাঠিয়েছেন।’

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চীন রাশিয়ার সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বাড়িয়ে যাচ্ছে, কিন্তু এমন কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না যাতে পশ্চিমা দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে হয়। পাওয়ার অব সাইবেরিয়া-২ প্রকল্প এখনো আটকে আছে, মূল সমস্যা হচ্ছে গ্যাসের দাম নিয়ে মতবিরোধ।

এর আগে, দ্য হিল রাষ্ট্রবিজ্ঞানী আলেকজান্ডার মটিলের উদ্ধৃতি দিয়ে জানায় যে, চীনের সবচেয়ে পছন্দের পরিস্থিতি রাশিয়ার জয় বা পরাজয় কোনোটিই নয়; বরং একটি দুর্বল রাশিয়া যা বেইজিংয়ের ওপর ক্রমবর্ধমানভাবে নির্ভরশীল থাকবে এবং একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের মনোযোগ অন্যদিকে সরিয়ে রাখবে।

আরএ

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন