সুদানে যুদ্ধের গতিপথ বদলে দিতে পারে একটি মহাসড়কের নিয়ন্ত্রণ

সুদানে যুদ্ধের গতিপথ বদলে দিতে পারে একটি মহাসড়কের নিয়ন্ত্রণ

সুদানের চলমান যুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ একটি মহাসড়কের নিয়ন্ত্রণ যুদ্ধের গতিপথ বদলে দিতে পারে। রাজধানী খার্তুম থেকে ওমদুরমান হয়ে এল-ওবেইদ পর্যন্ত প্রায় ৩৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়ক দেশের মধ্যাঞ্চলকে কর্দোফান, দারফুর ও পশ্চিম সীমান্তের সঙ্গে যুক্ত করেছে। জ্বালানি, খাদ্য, গবাদি পশু, বাণিজ্যিক পণ্য ও সামরিক সরঞ্জাম পরিবহনে সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ।

২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সুদানের সেনাবাহিনী (এসএএফ) ও আধাসামরিক বাহিনী র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) মধ্যে যুদ্ধ চলছে। এই সংঘাতে সড়কটির নিয়ন্ত্রণ বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সেনাবাহিনীর হাতে সড়কটির নিয়ন্ত্রণ থাকলে এল-ওবেইদে সরবরাহ পাঠানো এবং পশ্চিমাঞ্চলের দিকে সামরিক অভিযান চালানো সহজ হবে। অন্যদিকে আরএসএফ সড়কটি বিচ্ছিন্ন করতে পারলে এল-ওবেইদকে বাইরের অঞ্চল থেকে বিচ্ছিন্ন করা এবং সেনাবাহিনীর রসদ সরবরাহে বাধা দেওয়া সম্ভব হবে।

বিজ্ঞাপন

সম্প্রতি সড়কটির আশপাশের কয়েকটি শহর দখলে নেয় সুদানের সেনাবাহিনী। এতে উত্তর কর্দোফানে তাদের অবস্থান শক্ত হয়েছে। সংঘাতবিষয়ক গবেষক আলী মাহমুদ আলীর মতে, গুরুত্বপূর্ণ সড়কটির নিয়ন্ত্রণ এবং আরএসএফের বিপুল অস্ত্র ও ড্রোনের গুদাম দখল সেনাবাহিনীকে উত্তর কর্দোফানে নিয়ন্ত্রণ আরও সুসংহত করার সুযোগ দিয়েছে। একই সঙ্গে দারফুর ও পশ্চিম কর্দোফানে আরএসএফের ঘাঁটির দিকে অগ্রসর হওয়ার পথও তৈরি হতে পারে।

তবে সড়ক দখল করলেই সেটি নিরাপদ হয়ে যাচ্ছে না। আরএসএফের ড্রোন হামলার ঝুঁকি রয়েছে। জুন মাসে কর্দোফানজুড়ে ৫০টির বেশি ড্রোন হামলার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এসব হামলার কিছুতে জ্বালানি স্থাপনা ও বিদ্যুৎ অবকাঠামোও লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। ফলে সেনাবাহিনীকে শুধু সড়কের পাশের শহরগুলো নিয়ন্ত্রণ করলেই হবে না, সড়ক দিয়ে যাতে নিরাপদে খাদ্য ও জ্বালানি পরিবহন করা যায়, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।

সড়কটির গুরুত্ব সাধারণ মানুষের জন্যও ব্যাপক। কোনো খাদ্যবাহী ট্রাক বাজারে পৌঁছাতে পারবে কি না, বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য জেনারেটরে জ্বালানি পাওয়া যাবে কি না কিংবা পানির পাম্প চালু রাখা যাবে কি না—এ সবই সড়কটির নিরাপত্তার ওপর নির্ভর করছে। সংঘাতের কারণে অনেক এলাকায় পানির সংকট দেখা দিয়েছে এবং নিরাপদ পানি সংগ্রহ করতে মানুষকে দূরে যেতে হচ্ছে।

এদিকে সুদানের যুদ্ধ এখন দেশের সীমানার বাইরেও ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি করেছে। ২০ আগস্ট সুদানের সেনাবাহিনী প্রতিবেশী চাদের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ড্রোন ও বিমান হামলা চালায়। সেনাবাহিনীর দাবি, সেখানে আরএসএফের জন্য অস্ত্র বহনকারী একটি বড় সরবরাহ বহরকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। এতে যুক্তরাষ্ট্র ও আফ্রিকান ইউনিয়ন উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে সুদান কার্যত পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলে বিভক্ত হয়ে পড়তে পারে। সেনাবাহিনী নীলনদ উপত্যকা, খার্তুম ও পূর্বাঞ্চলে নিয়ন্ত্রণ সুসংহত করতে পারে, আর আরএসএফ দারফুর ও পশ্চিম কর্দোফানের বড় অংশ ধরে রাখতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে অস্ত্র, জ্বালানি, স্বর্ণ ও যোদ্ধাদের চলাচলের জন্য পৃথক অর্থনৈতিক ও সামরিক নেটওয়ার্ক গড়ে উঠতে পারে।

সুতরাং, এই মহাসড়কের নিয়ন্ত্রণ শুধু একটি সামরিক সাফল্য নয়; এটি সুদানের বিভিন্ন অঞ্চলকে আবার একসঙ্গে যুক্ত করা, খাদ্য ও জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করা এবং দেশটির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক মানচিত্র নির্ধারণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন