আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

তারেকের কাছে সিলেটবাসীর প্রত্যাশা

মন্ত্রিসভায় স্থান পাবেন শ্বশুরের এলাকার এমপিরা

খালেদ আহমদ, সিলেট

মন্ত্রিসভায় স্থান পাবেন শ্বশুরের এলাকার এমপিরা

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষের অভূতপূর্ব বিজয় হয়েছে সিলেটে। বিভাগের ১৯ আসনের মধ্যে ১৮টিতেই বিএনপি প্রার্থীরা নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করেছেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও মা খালেদা জিয়ার রীতি অনুসরণ করে দুই আউলিয়ার মাজার জিয়ারত করে গত ২২ জানুয়ারি সিলেটের জনসভার মাধ্যমে নির্বাচনি প্রচার শুরু করেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। নির্বাচনে ঐতিহাসিক বিজয় শেষে এখন চলছে মন্ত্রিপরিষদ গঠনের প্রস্তুতি। কে জায়গা পাবেন মন্ত্রিপরিষদে-এ নিয়ে নানা জল্পনা চলছে সিলেটের স্থানীয় রাজনৈতিক সচেতনদের মধ্যে। বিষয়টি নিয়ে সবার সজাগ দৃষ্টি ও ব্যাপক কৌতূহল দেখা গেছে । মানুষের মনের কথা ফুটে উঠছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও। ফেসবুকে ট্রল হচ্ছে, সিলেটের বর নিশ্চয়ই এবার উদার হস্তে দেবেন তাদের। এ থেকে স্থানীয়দের ধারণা, এবার সর্বোচ্চ সুযোগ পেতে পারেন শ্বশুরের এলাকার নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা।

সিলেট শুধু ধানের শীষের উর্বর ভূমিই নয়, বিএনপি চেয়ারম্যানের শ্বশুরবাড়িও। এবারের নির্বাচনে এলাকার লোকজনও খালি হাতে ফিরিয়ে দেননি সিলেটি দামান্দ (জামাই বা বর) তারেক রহমানকে। ভালোবাসা নিংড়ে দিয়ে বিজয়ের শতভাগ পূর্ণ করেছে ধানের শীষে ভোট দিয়ে। এখন সিলেটবাসী মুখিয়ে আছে, কীভাবে সিলেটের বর মূল্যায়ন করবেন এলাকাবাসীকে।

বিজ্ঞাপন

মানুষের প্রত্যাশা- এবার সর্বোচ্চ মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, টেকনোক্র্যাট কোটায় কয়েকজন প্রতিমন্ত্রী পাবেন সিলেটবাসী। এছাড়া যাদের যোগ্যতা থাকার পরও সংসদ নির্বাচনের টিকিট পায়নি, তাদেরও মূল্যায়ন করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন দলের চেয়ারম্যান ।

ইতোমধ্যে সিলেটের বেশ কজন নবনির্বাচিত এমপি ঢাকায় অবস্থান করছেন বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে। জানা গেছে, দলের হাইকমান্ডে আলোচনা চলছে সিলেট বিভাগ থেকে কারা অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন নতুন সরকারের মন্ত্রিসভায়।

যাদের নিয়ে আলোচনা চলছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন- সিলেট-১ থেকে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, সিলেট-৪ থেকে আরিফুল হক চৌধুরী, হবিগঞ্জ-১ থেকে রেজা কিবরিয়া, সুনামগঞ্জ-৫ থেকে কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন ও মৌলভীবাজার-৩ থেকে জি কে গউছ।

এছাড়া টেকনোক্র্যাট কোটায় ৩-৪ জন থাকতে পারেন। তাদের মধ্যে সিলেট-৫ আসন থেকে নির্বাচনি জোটের অংশীদার জমিয়তের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক, দলের চেয়ারম্যানের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির (সিলেট-২ আসনে মনোনয়নবঞ্চিত) ও সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধূরীর (সিলেট-৩ আসনে মনোনয়নবঞ্চিত) নাম আলোচিত হচ্ছে।

এর মধ্যে হুমায়ুন কবিরের দলের চেয়ারম্যানের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে। পাশাপাশি সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের পিএস হিসেবে প্রশাসন নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতাও রয়েছে বলে দাবি করছেন তার অনুসারীরা। এছাড়া দলীয় চেয়ারম্যানের মূল্যায়নের আশ্বাসে জেলা বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় তার প্রতিমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে বলে সমর্থকরা জানিয়েছেন। তবে এসব কিছু নির্ভর করছে দলের চেয়ারম্যানের সিদ্ধান্তের ওপর।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন