সেদিন খালেদা জিয়ার লংমার্চে আওয়ামী সন্ত্রাসী শামীম ওসমানের বাধা, উপেক্ষা করে এগিয়ে যান দেশনেত্রী

সেদিন খালেদা জিয়ার লংমার্চে আওয়ামী সন্ত্রাসী শামীম ওসমানের বাধা, উপেক্ষা করে এগিয়ে যান দেশনেত্রী

১৯৯৮ সালের ৯জুন পার্বত্য শান্তিচুক্তিকে সংবিধানবিরোধী চুক্তি আখ্যা দিয়ে তা বাতিলের দাবিতে ঐতিহাসিক লংমার্চ করেছিল বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট। আওয়ামী লীগের সরকার লংমার্চে বাধা দেওয়ার জন্য কাঁচপুর সেতুর আগেই সড়কের ওপর ট্রাক দিয়ে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করে। সেই লংমার্চে আওয়ামী সন্ত্রাসী শামীম ওসমানের নেতৃত্বে সশস্ত্র আওয়ামী গুণ্ডারা রাজপথে ব্যারিকেডের সৃষ্টি করে। সেইসাথে পুলিশ ও গোয়েন্দা বাহিনীর লোকেরাও লংমার্চের শত শত গাড়ি কাঁচপুর সেতুর আগেই আটকে দেয়।

বাংলাদেশের সংবিধান লঙ্ঘন করে শেখ হাসিনার সরকার সন্তু লারমার সংগঠনের সাথে তথাকথিত শান্তিচুক্তি বাতিলের দাবিতে চারদলীয় জোট পার্বত্য চট্টগ্রাম অভিমুখে লংমার্চের কর্মসূচি পালন করে।

বিজ্ঞাপন

সিদ্ধান্ত হয়, ঢাকা থেকে চারদলীয় জোট নেতৃবৃন্দ একসাথে রওনা করে চট্টগ্রাম পৌঁছাবেন। পরদিন চট্টগ্রাম থেকে বিএনপির নেতৃত্বে বান্দরবান এবং জামায়াতের নেতৃত্বে রাঙ্গামাটিতে জনসভা করার মাধ্যমে লংমার্চ সমাপ্ত হবে। বান্দরবানের জনসভায় জামায়াতের একজন প্রতিনিধি বক্তব্য রাখবেন এবং রাঙ্গামাটির জনসভায় বিএনপির একজন প্রতিনিধি বক্তব্য রাখেন।

সিদ্ধান্ত মোতাবেক চারদলীয় জোটের নেতৃবৃন্দের সাথে বান্দরবানের জনসভায় বক্তব্য রাখেন সেই সময়ের জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামান। সেখানে প্রধান বক্তা ছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। রাঙামাটিতে জামায়াতের জনসভার প্রধান অতিথি ছিলেন অধ্যাপক গোলাম আযম এবং বিএনপির প্রতিনিধি হিসেবে রাঙামাটিতে বক্তৃতা করেন আবদুল মতিন চৌধুরী।

আওয়ামী লীগের সরকার লংমার্চে বাধা দেওয়ার জন্য কাঁচপুর সেতুর আগেই সড়কের ওপর ট্রাক দিয়ে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করে। সাত ঘণ্টা আটকে রাখার পর একপর্যায়ে সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় প্রতিবন্ধকতা অপসারণ করে রাস্তা পরিষ্কার করে দেওয়া হয়। এ সময় কর্মসূচি নিয়ে কিছুটা বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছিল। অনেকে প্রস্তাব দিয়েছিলেন, এখান থেকে লংমার্চগামী সব গাড়ি নিয়ে ঢাকা শহরে প্রবেশ করে রাজধানী অচল করে দেওয়ার জন্য। কিন্তু খবর পাওয়া যাচ্ছিল, ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম সড়কের উভয় পাশে লক্ষ লক্ষ মানুষ লংমার্চের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করার জন্য দিনভর অপেক্ষা করছে। এ সময় বেগম জিয়া ‘এই প্রতিরোধ ভেঙেই লংমার্চ অব্যাহত রাখার বার্তা দেন। এবং লংমার্চ মার্চ নিয়ে এগিয়ে যান।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন