বাংলাদেশকে দাস রাষ্ট্রে পরিণত করার দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন।
তিনি বলেছেন, জনগণই বিএনপির শক্তির উৎস। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে রাজপথে অবস্থান করে দেশের বিরুদ্ধে যেকোনো ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করতে হবে।
শনিবার রাজধানীর ধোলাইখালসংলগ্ন সাদেক হোসেন খোকা মাঠে ঢাকা-৬ আসনের সূত্রাপুর, গেন্ডারিয়া, ওয়ারী, কোতোয়ালি আংশিক ও বংশাল আংশিক এলাকার বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টার বিরুদ্ধে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
ইশরাক হোসেন বলেন, অতীতে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামে পুরান ঢাকার মানুষ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে রাজপথে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন। তখন আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, পুলিশ, র্যাব, এসপি, ডিজিএফআই ও এনএসআইসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে বাংলাদেশের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তাঁরা আন্দোলন করেছেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা কোনো বাহিনীনির্ভর দল নই। আমাদের একমাত্র শক্তির উৎস হচ্ছে বাংলাদেশের জনগণ।’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের জনগণ আস্থা রেখে নির্বাচনে বিএনপিকে ভোট দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। সেই পবিত্র দায়িত্ব সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করতে হবে। পাশাপাশি জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করে বাংলাদেশকে আবারও ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করার উদ্যোগ কঠোরভাবে মোকাবিলা করতে হবে।
দেশের ভৌগোলিক অবস্থানের প্রসঙ্গ তুলে ইশরাক হোসেন বলেন, এ কারণে প্রতিবেশী রাষ্ট্রের এমন কিছু মানুষ রয়েছেন, যারা বাংলাদেশকে দাস রাষ্ট্র ও প্রজারাষ্ট্রে পরিণত করতে চান। তাঁদের সেই চেষ্টা অব্যাহত থাকবে। দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র রুখে দিয়ে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে পাওয়া স্বাধীন বাংলাদেশকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
তিনি বলেন, ‘আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধভাবে সকল ষড়যন্ত্রকে রুখে দেওয়ার অন্য কোনো বিকল্প নাই।’
বিরোধী দলের ভূমিকা নেওয়া দলটির সমালোচনা করে ইশরাক হোসেন বলেন, তারা বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হোক, তা চায়নি। বাংলাদেশের মানুষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে, মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা করেছে এবং মা-বোনদের ধর্ষণ করেছে।
পলাতক শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তাঁকে ইন্টারপোলের চিঠি দিয়ে বাংলাদেশে আনার জন্য সরকার চেষ্টা করছে। অন্যদিকে তাঁর কিছু অনুসারীকে অর্থায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ইশরাক হোসেন বলেন, ‘এই দুটি দলের মাধ্যমে আমরা একটা যোগসূত্র খুঁজে পাই, যেটি হচ্ছে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে একটা ষড়যন্ত্র।’
প্রশাসনসহ বিভিন্ন স্তরে স্বৈরাচারের দোসররা এখনো লুকিয়ে রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারা তাদের সহযোগিতা করার চেষ্টা করছে। তবে এসব বিষয়ে তাঁরা ভয় পান না।
তিনি বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে রাজপথে অবস্থান করার মাধ্যমে বাংলাদেশের পক্ষের শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করে যেকোনো ষড়যন্ত্র দেশের বিরুদ্ধে হোক না কেন, সেটিকে আমরা রুখে দেব।’
ইশরাক হোসেন বলেন, তাঁদের নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করে বাংলাদেশকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার যে প্রতিজ্ঞা তাঁরা করেছেন, সেটি সফল করবেন।
সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ। সমাবেশে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিনসহ ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির, যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, শ্রমিক দল, কৃষক দল, মৎস্যজীবী দল, মহিলা দল, ওলামা দল ও মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


