আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

সেমিনারে আমির খসরু

বাংলাদেশের বড় সমস্যাগুলোর অন্যতম হলো নীতিগত বিকৃতি

অর্থনৈতিক রিপোর্টার

বাংলাদেশের বড় সমস্যাগুলোর অন্যতম হলো নীতিগত বিকৃতি

বাংলাদেশের বড় সমস্যাগুলোর একটি হলো নীতিগত বিকৃতি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বেশি আইন ও বিধিনিষেধ যুক্ত হয়েছে। এর অনেকগুলোই মুক্তবাজার অর্থনীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। আপনি হয় বাজারব্যবস্থা রাখবেন, নয়তো রাখবেন না—দুটো একসঙ্গে সম্ভব নয়। বাজারের ওপর আস্থা রাখতে হলে বাজারকে স্বাধীনভাবে চলতে দিতে হবে।

মঙ্গলবার রাজধানীর বনানীতে একটি হোটেলে ব্র্যাক ইপিএল স্টক ব্রোকারেজের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত ‘পোস্ট ইলেকশন ২০২৬ হোরাইজন; ইকোনোমি, পলিটিক্স অ্যান্ড ক্যাপিটাল মার্কেট’ শীষর্ক সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এসব কথা বলেন। ব্র্যাক ইপিএল স্টক ব্রোকারেজের পরিচালক সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে প্যানেল আলোচক হিসাবে বক্তব্য রাখেন অর্থনীতিবিদ ও বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান র‌্যাপিডের চেয়ারম্যান ড. এম আবদুর রাজ্জাক, বিএসইসি কমিশনার মো. সাইফুদ্দিন ও সিটি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী মাশরুর আরেফিন।

বিজ্ঞাপন

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, গত দেড় বছরে দেশের অর্থনীতি একটি নিম্নস্তরের ভারসাম্যে চলে গেছে। এখান থেকে বের হওয়া বড় চ্যালেঞ্জ । আমি অভিযোগ করছি না, কিন্তু বাস্তবতা এটাই। প্রশ্ন হলো—এই অবস্থা থেকে আমরা কীভাবে বের হবো? আগামী দিনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এখানেই। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রয়োজন ব্যাপক সংস্কার, উদারীকরণ এবং বাজারমুখী নীতি। হোক সেটা বিনিময় হার, পুঁজিবাজার কিংবা আমদানি–রপ্তানি—সব ক্ষেত্রেই বাজারকে সিদ্ধান্ত নিতে দিতে হবে।

বাংলাদেশের পুঁজিবাজারসহ অর্থনীতির বিভিন্ন খাত নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর মাধ্যমে ‘অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণের’ মধ্যে দিয়ে গিয়েছে উল্লেখ করে আমির খসরু বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে অর্থনৈতিকভাবে অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রিত, তাই আমাদের ডি-রেগুলেশনের (উদারীকরণের) পথে হাঁটতে হবে। এতো বেশি নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না। আমরা ক্ষমতায় গেলে নিয়ন্ত্রণের উদারীকরণ করবো, স্বচ্ছতা আনবো। সবাইকে একটি জায়গায় আনা হবে জবাবদিহীতার জন্য। আমরা, বাজারকে বাজারের মত চলতে দিতে চাই। তাহলে বাজার সঠিক পথে চলবে।

আমির খসরু বলেন, ব্যাংকগুলো থেকে যথেচ্ছ ঋণ নেওয়া হয়েছে, যার কিছু অংশ ব্যবসায় ব্যবহৃত হলেও কিছু অংশ বিদেশে পাচার হয়ে গেছে, যা আর্থিক খাতকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। অর্থনীতি ও পুঁজিবাজারের বেশিরভাগ এসব সমস্যার মূল কারণ হলো জবাবদিহিতার অভাব। একটি মুক্ত, সুষ্ঠু এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে নাগরিকরা তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করবেন—এই প্রত্যাশা এখন আকাশচুম্বী। নির্বাচিত সরকার আসলে সবাই বিনিয়োগ করবেন।

পুঁজিবাজারের স্বচ্ছতা আনতে হবে উল্লেখ করে আমির খসরু বলেন, বছরের পর বছর ধরে যেসব ‘গারবেজ অ্যাকাউন্ট’ অ্যাকাউন্ট দিয়ে সাজানো হয়েছে, সেগুলো পরিষ্কার করা জরুরি। প্রতিবছর হিসাব সাজিয়ে সমস্যা ঢাকার কোনো মানে নেই; এতে সমস্যা আরও বাড়ছে। ব্যাংকিং খাতের সংকট দিন দিন গভীর হচ্ছে মূলত এই হিসাব সাজানোর সংস্কৃতির কারণেই।

‘‘খেলাপী ঋণের পরিমাণ কিন্তু প্রতিনিয়ত বাড়ছে, এটা আর সেখানে নেই। খেলাপী ঋণের প্রকৃত চিত্র তুলে আনতে হবে। এটি হলে খেলাপী ঋণ ৪০ শতাংশে যেতে পারে। আমরা যেন সঠিক ও বাস্তব আর্থিক চিত্র দেখছি—এটি নিশ্চিত করতে হবে। ‘’

আমির খসরু বলেন, ‘‘বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে হলে দেশি ও বিদেশি সবাইকে বাস্তব ও স্বচ্ছ আর্থিক চিত্র দেখাতে হবে। পরিস্থিতি যদি খারাপ হয়, তাহলে খারাপই দেখাক। প্রশ্ন হলো—আমরা কীভাবে এটিকে ভালো করব? তার জন্য প্রয়োজন যথাযথ প্রভিশন, প্রয়োজন হলে ঋণ অবলোপন কিন্তু সর্বাগ্রে প্রয়োজন একটি পরিষ্কার ও বিশ্বাসযোগ্য ব্যালান্স শিট।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন